Logo
Logo
×
   

আন্তর্জাতিক

খাড়গের সভাস্থলে ‘শুদ্ধিকরণ’, রাহুলের ক্ষোভ

Icon

কলকাতা প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৯ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৪৫ পিএম

খাড়গের সভাস্থলে ‘শুদ্ধিকরণ’, রাহুলের ক্ষোভ

ভারতের উত্তরাখণ্ডের হলদোয়ানিতে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের সভাস্থলে তথাকথিত ‘শুদ্ধিকরণ’ অনুষ্ঠান আয়োজনের অভিযোগে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। 

তার অভিযোগ, ঘটনাটি শুধু খাড়গেকে অপমান করার বিষয় নয়; এর মাধ্যমে দেশের কোটি কোটি দলিত মানুষের প্রতি বৈষম্যমূলক মানসিকতারও বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।

শনিবার নয়াদিল্লির ইন্দিরা ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি তুলে ধরে বিজেপি ও রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) বিরুদ্ধে সরব হন রাহুল। 

ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে তপশিলি জাতি ও উপজাতির ওপর নির্যাতন প্রতিরোধ আইনে (এসসি-এসটি অ্যাক্ট) অবিলম্বে মামলা করার দাবিও জানান তিনি।

গত ৮ আগস্ট হলদোয়ানির রামলীলা ময়দানে কংগ্রেসের একটি বড় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান বক্তা ছিলেন দলের সর্বভারতীয় সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে। 

কংগ্রেসের অভিযোগ, সমাবেশ শেষ হওয়ার পর শ্রীরাম সেনার পক্ষ থেকে ওই মাঠে ‘শুদ্ধিকরণ’ অনুষ্ঠান করা হয়। উত্তরাখণ্ড প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি গণেশ গোদিয়াল প্রথম এ অভিযোগ সামনে আনেন।

কংগ্রেসের দাবি, খাড়গে দলিত সম্প্রদায়ের হওয়ায় তার সভাস্থলেই এ ধরনের তথাকথিত শুদ্ধিকরণ করা হয়েছে। এ নিয়ে শুরু থেকেই রাজনৈতিক বিতর্ক চলছে। শনিবার সংবাদ সম্মেলনে রাহুল গান্ধীর বক্তব্যে সেই বিতর্ক আরও জোরালো হয়।

রাহুল বলেন, ‘শুদ্ধিকরণ আসলে অস্পৃশ্যতারই অন্য নাম।’ ভারতের সংবিধানে অস্পৃশ্যতা নিষিদ্ধ হলেও বিজেপির লোকজন প্রকাশ্যে এমন আচরণ করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি বলেন, মল্লিকার্জুন খাড়গের মতো একজন প্রবীণ ও শীর্ষস্থানীয় নেতার সঙ্গে যদি এমন আচরণ করা হয়, তাহলে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের একজন দলিত শিশুর সঙ্গে কী ধরনের আচরণ করা হয়, তা সহজেই অনুমান করা যায়।

দেশের বিভিন্ন স্থানে দলিত শিশুদের সঙ্গে বৈষম্যের অভিযোগও তুলে ধরেন রাহুল। তার দাবি, কোথাও দলিত শিশুদের দিয়ে শৌচাগার পরিষ্কার করানো হয়, কোথাও তাদের ঝাড়ু দিতে বাধ্য করা হয়। আবার কোনো কোনো চায়ের দোকানে তাদের জন্য আলাদা প্লাস্টিকের কাপ ব্যবহারের ঘটনাও ঘটে।

রাহুলের ভাষায়, বর্তমানে ভারতে দুটি চিন্তাধারার মধ্যে লড়াই চলছে। একদিকে রয়েছেন ড. ভীমরাও আম্বেদকর, মহাত্মা গান্ধী, জওহরলাল নেহরু ও সর্দার প্যাটেল এবং তাঁদের প্রতিষ্ঠিত সংবিধানের আদর্শ। অন্যদিকে রয়েছে বিজেপি ও আরএসএসের বিভাজনের রাজনীতি।

ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য উত্তরাখণ্ড সরকার ও কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি আহ্বান জানান রাহুল। পুলিশ যথাযথ ব্যবস্থা না নিলে কংগ্রেস চুপ করে থাকবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। প্রয়োজনে দল ‘উপযুক্ত প্রতিক্রিয়া’ জানাবে বলে উল্লেখ করেন কংগ্রেস নেতা।

ঘটনায় উত্তরাখণ্ড বিজেপির রাজ্য সভাপতির ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন রাহুল। তার বক্তব্য, এ ধরনের ঘটনায় নীরবতা বা নিষ্ক্রিয়তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

এর আগে চলতি মাসের শুরুতে রাজ্যসভায় বিষয়টি উত্থাপন করেছিলেন মল্লিকার্জুন খাড়গে। সে সময় বিজেপির কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও রাজ্যসভার নেতা জে পি নাড্ডা জানিয়েছিলেন, বিজেপি এ ধরনের কোনো কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করে না। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে বলেও জানান তিনি।

তবে কংগ্রেসের অভিযোগ, এরপরও এ ঘটনায় দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এ কারণেই ফের প্রকাশ্যে বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছেন রাহুল গান্ধী।

হলদোয়ানির ঘটনাকে কেন্দ্র করে কংগ্রেস এখন শুধু রাজনৈতিক অভিযোগই নয়, দলিত অধিকার ও সংবিধানের মর্যাদার প্রশ্নও সামনে আনতে চাইছে বলে দলটির নেতাদের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম