Logo
Logo
×
   

আন্তর্জাতিক

শীতের মৌসুমেও তীব্র গরমে পুড়বে গোটা বিশ্ব, ডব্লিউএমওর হুঁশিয়ারি

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৫৮ এএম

শীতের মৌসুমেও তীব্র গরমে পুড়বে গোটা বিশ্ব, ডব্লিউএমওর হুঁশিয়ারি

সংগৃহীত

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) জানিয়েছে, একটি ‘অতি শক্তিশালী’ এল নিনো তৈরি হচ্ছে। এই এল নিনো আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত থাকতে পারে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাতের ধরন বদলে যেতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শক্তিশালী এল নিনোর কারণে আসছে শীতে ঠান্ডা কম পড়তে পারে।

বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে ডব্লিউএমওর মহাসচিব সেলেস্তে সাউলো বলেন, ‘এল নিনো এখন পুরোপুরি তৈরি হয়ে গেছে এবং এটি আরও শক্তিশালী হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশ্বজুড়ে মানুষ ও অর্থনীতির ওপর এটি বড় ধাক্কা দিতে পারে। খরা আর বন্যার কারণে এখনই আমরা ক্ষয়ক্ষতি দেখছি। এল নিনো শক্তিশালী হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এই ক্ষতি আরও বাড়বে বলে আমরা মনে করছি।’

এল নিনো একটি প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া। প্রশান্ত মহাসাগরের নিরক্ষীয় অংশের পানি অনেক বেশি গরম হয়ে গেলে এটি তৈরি হয়। এর প্রভাবে বিশ্বজুড়ে আবহাওয়ায় পরিবর্তন আসে। তাপপ্রবাহ, ভারী বৃষ্টি আর তাপমাত্রার চরম ওঠানামার জন্য এল নিনো দায়ী থাকে। 

প্রশান্ত মহাসাগরের নিনো ৩.৪ অঞ্চলের পানির তাপমাত্রা দেখে এল নিনোর তীব্রতা মাপা হয়। মে থেকে জুলাই মাসে এই তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে দেড় ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল। জুলাই মাসে তা বেড়ে দুই ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যায়। এতে বোঝা যায়, এল নিনো দ্রুত শক্তি বাড়াচ্ছে।

এবার গ্রীষ্মে ইউরোপে সাম্প্রতিক দশকগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি গরম পড়েছে। বিশ্বের অনেক আবহাওয়া সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, আগস্ট মাসে বিশ্বের নানা জায়গায় রেকর্ড তাপমাত্রা দেখা গেছে।

ডব্লিউএমও প্রধান বলেন, এই এল নিনো এখন সবার সামর্থ্যের শেষ সীমায় চাপ দিচ্ছে। চরম আবহাওয়া মোকাবিলায় বড় ধরনের প্রস্তুতি ও সমন্বয় দরকার হবে।

তিনি বলেন, ‘ডব্লিউএমওর ৫০ বছরের ইতিহাসে জাতীয় আবহাওয়া ও জলবিজ্ঞান সংস্থাগুলোকে নিয়ে এত বড় মাপের কোনো প্রস্তুতি আগে কখনো নেওয়া হয়নি। এই সংস্থাগুলোই মানুষের জীবন ও জীবিকা বাঁচাতে পূর্বাভাস ও সেবা দেওয়ার সামনের সারিতে থাকে।’

ডব্লিউএমও আরও জানায়, ভারত মহাসাগরের ডাইপোল (আইওডি) সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বরের মধ্যে তৈরি হতে পারে। এল নিনোর মতোই এটিও একটি প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া, তবে ভারত মহাসাগরে ঘটে। এর প্রভাব যে বাংলাদেশেও পড়বে, তা বলাই বাহুল্য।

ডব্লিউএমও বলে, ‘আইওডির পজিটিভ পর্যায়ও তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর মৌসুমি গড় মান হবে শূন্য দশমিক নয় ডিগ্রি সেলসিয়াস।’

আইওডির পজিটিভ পর্যায় এল নিনোর প্রভাব কিছুটা কমাতে পারে। আগস্টের শেষ দিকে আইওডি কিছুক্ষণের জন্য পজিটিভ পর্যায়ের দিকে ঝুঁকেছিল, তবে পরে আবার নিরপেক্ষ অবস্থায় ফিরে যায়। এর ফলেই মূলত বাড়ছে তীব্র গরমের শঙ্কা।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম