যে কৌশলে বেঁচে ফিরলেন নেপালের ৯১ বছরের বৃদ্ধা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:০৩ এএম
নেপালের নুয়াকোট জেলার নদীতীরবর্তী শহর দেবীঘাটে একটি বৃদ্ধনিবাসের ধ্বংসস্তূপ থেকে গুনা মায়া বোহারা জীবিত উদ্ধার করা হয়। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কাদায় পুরো শরীর ঢাকা, চোখেমুখে ক্লান্তির ছাপ— জেসিবি এক্সকাভেটরের স্কুপে বসে ৯১ বছরেরে এই বৃদ্ধার ছবিই এখন নেপালের ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় বেঁচে থাকার প্রতীক হয়ে উঠেছে।
বৃদ্ধার নাম গুনা মায়া বোহারা। নেপালের নুয়াকোট জেলার নদীতীরবর্তী শহর দেবীঘাটে একটি বৃদ্ধনিবাসের ধ্বংসস্তূপ থেকে তাকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। ভয়াবহ বন্যায় ওই বৃদ্ধনিবাসের তার সাত সহচর প্রাণ হারিয়েছেন।
বোহারা ছিলেন দেবীঘাটের সিনিয়র সিটিজেনস ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন-এর বাসিন্দা। বন্যার পর উদ্ধার হওয়া সব প্রবীণকে হেলিকপ্টারে করে রাজধানী কাঠমান্ডুর একটি অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে।
আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা এক বৃদ্ধ জানান, ভয়াবহ বন্যার আগে তাদের সময়মতো সতর্ক করা হয়নি।
তিনি বলেন, ‘সকালের নাশতার সময় হঠাৎ দেখি ছাদ কাঁপছে। আমরা দ্রুত উঁচু জায়গার দিকে দৌড় দিই। কিন্তু প্রায় ছয়-সাতজন বের হতে পারেননি।’
বৃদ্ধনিবাসের এক স্বেচ্ছাসেবক জানান, বন্যা আঘাত হানার প্রায় দুই ঘণ্টা পর স্থানীয় একটি দল সেখানে পৌঁছায়। ততক্ষণে পাহাড়ি ঢলের পানি নেমে গিয়ে পুরো এলাকা টন টন কাদামাটির নিচে চাপা পড়ে যায়।
উদ্ধারকারী দল প্রথমে প্রবীণদের স্থানীয় একটি আয়ুর্বেদিক হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে তাদের হেলিকপ্টারে করে কাঠমান্ডুতে নেওয়া হয়। সেখানে খাবার, পোশাক, নার্সিং সেবা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
মাথা পানির ওপরে রেখে বাঁচলেন বোহারা
স্বেচ্ছাসেবক জানান, উদ্ধার হওয়া সব প্রবীণের শারীরিক অবস্থা এখন স্থিতিশীল। তারা ধীরে ধীরে নতুন পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।
৯১ বছরের বোহারা যখন বন্যার কবলে পড়েন, তখন তিনি নিচতলার একটি কক্ষে ছিলেন। আগে থেকেই তার পায়ে শারীরিক সমস্যা ছিল। বন্যার পানির তীব্র স্রোতে তার হাতেও আঘাত লাগে। কিন্তু বেঁচে থাকার প্রবল ইচ্ছাই তাকে শেষ পর্যন্ত রক্ষা করে।
স্বেচ্ছাসেবক বলেন, বোহারা পানির মধ্যে মাথা ওপরে রাখতে সক্ষম হন। পরে তিনি ঘরের জানালা খুলে মাথা পানির স্তরের ওপরে রাখেন। প্রায় দুই থেকে তিন ঘণ্টা পর স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকেরা সেখানে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করেন। তখন কাদার নিচে প্রায় পুরো শরীর ডুবে ছিল, শুধু মাথাটি পানির ওপরে দেখা যাচ্ছিল।
এদিকে, নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ২৫২ জনে দাঁড়িয়েছে। এখনও প্রায় ৪ হাজার ২১৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
অন্যদিকে, তিব্বতে আরও ৫৪১ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। ফলে নেপাল ও তিব্বত মিলিয়ে নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪ হাজার ৭৫৭ জনে।
নিখোঁজদের সন্ধানে নেপালি সেনাবাহিনী ও উদ্ধারকারী দলগুলো অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। বিদেশি বিশেষজ্ঞরাও এই কাজে অংশ নিয়েছেন। বিশেষ করে কয়েকটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেলের ভেতরে মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। উদ্ধারকারীরা এক্সকাভেটরসহ ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে এসব এলাকায় জীবিতদের সন্ধান চালাচ্ছেন।


-6a97d5b92763c.jpg)