বিশ্ববাজারে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:১৬ পিএম
প্রতীকী ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বিশ্বজুড়ে সাধারণ মানুষের পাতে খাবারের খরচ আবারও হু হু করে বাড়ছে। প্রকৃতি আর মানুষের তৈরি নানা সংকট একসঙ্গে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠায় আন্তর্জাতিক বাজারে খাদ্যপণ্যের দাম এক লাফে বেশ অনেকটা বেড়ে গেছে।
জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) জানিয়েছে, আবহাওয়া খারাপ হওয়া এবং কৃষ্ণসাগর অঞ্চলে যুদ্ধ বেড়ে যাওয়ার কারণে সবজির তেল থেকে শুরু করে চাল-গম—সবকিছুর জোগানে বড় ধাক্কা লেগেছে। ফলে গত আগস্ট মাসে বিশ্ববাজারে খাবারের দাম ২০২২ সালের শেষের দিকের পর সবচেয়ে উঁচুতে গিয়ে ঠেকেছে।
প্রকৃতির খামখেয়ালিপনা আর যুদ্ধের দাপটে কৃষি বাজার এখন দিশেহারা। ইউরোপজুড়ে চলছে রেকর্ড তাপদাহ আর খরা, যার দরুন মাঠের পর মাঠ ফসল শুকিয়ে কাঠ হয়ে যাচ্ছে। আবার এশিয়ায় ‘এল নিনো’ নামের চরম গরম আবহাওয়ার চোখরাঙানি তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ সাড়ে চার বছরে গড়ালেও কৃষ্ণসাগরে নতুন করে হামলা বাড়ায় সেখান থেকে গম বা শস্য অন্য দেশে পাঠানো কঠিন হয়ে পড়েছে। এর ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের টানাপোড়েনের কারণে জমিতে দেওয়ার সার ঠিকমতো সরবরাহ করা যাচ্ছে না। সব মিলিয়ে শস্যের বাজার যেমন তিন বছরের মধ্যে সবচেয়ে মহার্ঘ্য হয়ে উঠেছে, তেমনি চিনির দামও গত এক বছরের হিসাব ভেঙে ওপরে উঠেছে।
জাতিসংঘের খাদ্য সংস্থার প্রধান অর্থনীতিবিদ মাক্সিমো তোরেরো খুব সাধারণ কথায় বিষয়টি বুঝিয়ে বলেছেন। তার মতে, আগস্টে খাবারের দাম বাড়াটা আসলে বিশ্ববাসীর জন্য একটা বড় সতর্কবার্তা। জলবায়ুর ধাক্কা, যুদ্ধের উত্তেজনা আর পণ্য পরিবহনের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়া—এই তিনটি বিপদ যখন একসাথে হাত মেলায়, তখন বাজারে খাবারের অভাব তৈরি হওয়াটাই স্বাভাবিক।
পরিসংখ্যানের খাতা খুলে দেখলে দেখা যায়, আগস্ট মাসে শস্যের দাম তো বেড়েছেই, সেই সাথে রান্নার তেল, চিনি, মাংস এমনকি দুধ বা মাখনের মতো দুগ্ধজাত পণ্যের দরও চড়া ছিল। তবে সবচেয়ে বেশি যে জিনিসে আগুন লেগেছে, তা হলো চিনি। শুধু আগস্ট মাসেই চিনির দাম প্রায় ১২ শতাংশের মতো লাফ দিয়েছে। বিশ্বের সবচেয়ে বেশি চিনি উৎপাদনকারী দেশ ব্রাজিলে উৎপাদনে টান পড়া আর ইউরোপ-এশিয়ায় খারাপ আবহাওয়াই এর প্রধান কারণ। রান্নার তেলের দামও চার বছরের মধ্যে সবচেয়ে উঁচুতে উঠেছে।
জাতিসংঘ অন্য একটি প্রতিবেদনে আরও একটি দুঃসংবাদ দিয়েছে। তারা আগে ধারণা করেছিল এ বছর বিশ্বজুড়ে প্রচুর শস্য ফলবে, কিন্তু আবহাওয়ার পরিস্থিতি দেখে সেই হিসাব থেকে আরও ৩৪ লাখ টন শস্যের কথা বাদ দেওয়া হয়েছে। যদিও এই বছর যা ফসল ফলবে তা ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ, তবুও গত বছরের তুলনায় হিসাব করলে ২০১৮ সালের পর এত বড় ধরনের উৎপাদন ঘাটতি পৃথিবী আর দেখেনি। একের পর এক সংকটে বিশ্বজুড়ে খাদ্য নিরাপত্তার যে অন্ধকার মেঘ জমছে, তা এখন কাটানোই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
সূত্র: রয়টার্স।

