ট্রাম্পকে স্যান্ডার্স
‘পাগল রাজা’ নয়, প্রেসিডেন্টের মতো আচরণ করুন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৫৪ এএম
ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ইরান যুদ্ধ বন্ধে মনোযোগ দেওয়ার পরিবর্তে হরমুজ প্রণালির নাম নিজের নামে করার প্রস্তাব দেওয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমালোচনা করেছেন সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স। তিনি বলেছেন, যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। তাই গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথের নাম পরিবর্তনের চেয়ে যুদ্ধ বন্ধ করাই প্রেসিডেন্টের অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্পকে সরাসরি উদ্দেশ করে স্যান্ডার্স বলেন, আপনি প্রেসিডেন্ট, কোনো পাগল রাজা নন। সেভাবেই আচরণ করুন।
ট্রাম্পকে ‘পাগল রাজা’ হিসেবে অভিহিত করার মধ্য দিয়ে স্যান্ডার্স মূলত যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের দিকে ইঙ্গিত করেছেন। ‘ম্যাড কিং’ বা ‘পাগল রাজা’ বলতে ঐতিহাসিকভাবে ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় জর্জকে বোঝানো হয়। তার শাসনামলেই আমেরিকার ১৩টি উপনিবেশ ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে এবং দীর্ঘ যুদ্ধের পর ১৭৮৩ সালে যুক্তরাষ্ট্র স্বাধীনতা লাভ করে।
হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে বিতর্কটিও এ কারণে গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহণপথ এই প্রণালির নাম বহু শতাব্দী পুরোনো। যুক্তরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠারও অনেক আগে থেকে এর ঐতিহাসিক পরিচয় রয়েছে। তাই কোনো প্রেসিডেন্টের নামে এর নামকরণের উদ্যোগকে ট্রাম্পের সমালোচকেরা ক্ষমতার অতিরিক্ত ব্যক্তিকেন্দ্রীকরণের উদাহরণ হিসেবে দেখছেন।
স্যান্ডার্সের বক্তব্যের মূল সুর হলো—ইরান যুদ্ধের কারণে যখন আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক অর্থনীতি চাপের মুখে, তখন মার্কিন প্রেসিডেন্টের উচিত যুদ্ধ বন্ধে মনোযোগ দেওয়া; ব্যক্তিগত ক্ষমতা প্রদর্শন বা ঐতিহাসিক কোনো স্থাপনা কিংবা জলপথের সঙ্গে নিজের নাম যুক্ত করার চেষ্টা নয়।
স্যান্ডার্সের মতে, সামরিক হুমকি ও সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগ সব সময় রাজনৈতিক সমাধান এনে দেয় না। তৃতীয় জর্জের ইতিহাসও তার একটি উদাহরণ। ব্রিটিশ সাম্রাজ্য রক্ষার চেষ্টা শেষ পর্যন্ত আমেরিকার স্বাধীনতার মধ্য দিয়ে বিপরীত ফল বয়ে এনেছিল।
তাই ‘আপনি প্রেসিডেন্ট, পাগল রাজা নন’—স্যান্ডার্সের এই বক্তব্যকে শুধু ট্রাম্পবিরোধী রাজনৈতিক কটাক্ষ হিসেবে দেখলে এর ঐতিহাসিক তাৎপর্য উপেক্ষিত হবে। এর মাধ্যমে তিনি আমেরিকার অন্যতম মৌলিক রাজনৈতিক ধারণা—ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা ও জবাবদিহির—কথাই স্মরণ করিয়ে দিতে চেয়েছেন।
তার বার্তা স্পষ্ট: মার্কিন প্রেসিডেন্ট যত শক্তিশালীই হোন, তিনি রাজা নন; আর যুদ্ধ, হুমকি ও শক্তি প্রদর্শন যদি কূটনীতি ও রাজনীতির জায়গা দখল করে নেয়, ইতিহাসের মতোই তার ফল অনাকাঙ্ক্ষিত হতে পারে।
সূত্র: মেহের নিউজ এজেন্সি

