বাব আল-মান্দাবকে ঘিরে ইয়েমেন সরকারের সঙ্গে হুথিদের সংঘর্ষ, নিহত বেড়ে ১২৯
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৩১ পিএম
ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর সঙ্গে দেশটির বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুথিদের ভয়াবহ সংঘর্ষ চলছে। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বাব আল- মান্দাব প্রণালির দখল নিতে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর সঙ্গে দেশটির বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুথিদের ভয়াবহ সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১২৯ জনে দাঁড়িয়েছে। গত কয়েক বছরে ইয়েমেনে এটি সবচেয়ে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা। বার্তা সংস্থা এএফপিকে দুই পক্ষের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো এ তথ্য জানিয়েছে।
এই হামলার পর বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌ পথ বাব আল-মান্দাব নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালিতেও যখন নৌ চলাচল ব্যাপকভাবে ব্যাহত, তখন বাব আল-মান্দাবে নতুন সংকট দেখা দিলে বৈশ্বিক জাহাজ চলাচলে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
গত বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দক্ষিণ ইয়েমেনের তাইজ-মোখা ফ্রন্টে সংঘর্ষ শুরু হয়। হুথিরা উপকূলীয় এলাকায় সরকারি বাহিনীর অবস্থান লক্ষ্য করে স্থল হামলার পাশাপাশি রকেট, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে।
হুথিদের লক্ষ্য হলো—লোহিত সাগরের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত করা এবং লোহিত সাগরের দক্ষিণ প্রবেশপথে অবস্থিত সরু জলপথ বাব আল-মান্দাবের কাছাকাছি এলাকায় অগ্রসর হওয়া।
সামরিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, কয়েক সপ্তাহ ধরে হামলার শিকার সরকারি নিয়ন্ত্রিত বন্দরনগরী মোখাকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া এবং এরপর গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথের দিকে অগ্রসর হওয়াই হুথিদের অন্যতম লক্ষ্য।
দুই সরকারি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হুথিরা লোহিত সাগরের কাছাকাছি সরকারি নিয়ন্ত্রিত এলাকা এবং তাইজ শহরের দিকে তাক করে থাকা কয়েকটি উঁচু কৌশলগত অবস্থান দখল করেছে।
এই উঁচু এলাকাগুলো থেকে লোহিত সাগর দিয়ে চলাচলকারী জাহাজে হামলা চালানোর সুযোগ পেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
চলমান এই সংঘর্ষে শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১২৯ জনে দাঁড়িয়েছে। ইয়েমেনের এক সামরিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সরকারি বাহিনীর ৬৬ সদস্য নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে হুথিদের ঘনিষ্ঠ চিকিৎসা ও সামরিক সূত্রের দাবি, তাদের অন্তত ৬২ যোদ্ধা নিহত হয়েছেন।
এ ছাড়া উপকূলীয় শহর মোখায় হুথিদের গোলাবর্ষণে এক বেসামরিক নাগরিকও নিহত হয়েছেনবলে জানিয়েছে একটি চিকিৎসা সূত্র।
তবে দুই পক্ষই এখনও নিহত ও আহতদের পূর্ণাঙ্গ সংখ্যা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি।
জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় ২০২২ সালের এপ্রিলে যুদ্ধবিরতি হওয়ার পর দীর্ঘ সময় তুলনামূলক শান্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছিল। সর্বশেষ সংঘর্ষকে সেই সময়ের পর হুথি ও সরকারি বাহিনীর মধ্যে সবচেয়ে তীব্র লড়াইগুলোর একটি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তথ্যসূত্র: সামা টিভি


