Logo
Logo
×
   

আন্তর্জাতিক

ভারতীয় রকেটের নাম ‘দুষ্টু ছেলে’ কেন দেওয়া হলো

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৪৮ পিএম

ভারতীয় রকেটের নাম ‘দুষ্টু ছেলে’ কেন দেওয়া হলো

ভারতের মহাকাশ কর্মসূচিতে জিএসএলভি বা জিওসিনক্রোনাস স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেহিকল এখন গুরুত্বপূর্ণ ও নির্ভরযোগ্য একটি রকেট। কিন্তু এই শক্তিশালী রকেটের দীর্ঘ পথচলায় জড়িয়ে আছে বেশ মজার একটি ডাকনাম—‘নটি বয়’, বাংলায় যার অর্থ ‘দুষ্টু ছেলে’।

সম্প্রতি শ্রীহরিকোটার সতীশ ধাওয়ান স্পেস সেন্টার থেকে জিএসএলভি-এফ১৭ সফলভাবে উৎক্ষেপণ করে ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো। রকেটটি ২ হাজার ৩৭৬ কেজি ওজনের আধুনিক ইওএস-০৫ স্যাটেলাইটকে সফলভাবে নির্ধারিত কক্ষপথে পৌঁছে দেয়। আর এই সাফল্যের পর আবারও আলোচনায় এসেছে রকেটটির পুরোনো ‘দুষ্টু ছেলে’ নামটি।

কেন ‘নটি বয়’ বলা হতো?

জিএসএলভি পরিবারের রকেটগুলোর সাফল্যের ইতিহাস সবসময় খুব মসৃণ ছিল না। এখন পর্যন্ত ১৯টি অভিযানের মধ্যে ছয়টি ব্যর্থ হয়েছে। এসব ব্যর্থতার অন্যতম কারণ ছিল রকেটের ক্রায়োজেনিক তৃতীয় ধাপের জটিল প্রযুক্তি।

বিশেষ করে ২০১০ সালের এপ্রিলে জিস্যাট-৪ এবং ২০২১ সালের আগস্টে ইওএস-০৩ মিশন ক্রায়োজেনিক ইঞ্জিনের সমস্যার কারণে ব্যর্থ হয়। ফলে ইসরোর বিজ্ঞানীদের কাছে রকেটটি অনেকটা এমন এক ‘দুষ্টু ছেলে’ হয়ে উঠেছিল, যে বারবার শেষ মুহূর্তে প্রত্যাশার বিপরীতে গিয়ে মিশনকে বিপদে ফেলত।

অন্যদিকে, একই সময়ে ভারতের পিএসএলভি রকেট একের পর এক সফল অভিযান পরিচালনা করছিল। ফলে জিএসএলভির অনিয়মিত পারফরম্যান্সের কারণে বিজ্ঞানীদের মধ্যে রসিকতা ও হতাশা মিলিয়েই এর ‘নটি বয়’ ডাকনাম জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।

ক্রায়োজেনিক প্রযুক্তির কঠিন যাত্রা

ভারী স্যাটেলাইটকে পৃথিবী থেকে প্রায় ৩৬ হাজার কিলোমিটার দূরের জিওসিনক্রোনাস কক্ষপথে পাঠাতে শক্তিশালী ক্রায়োজেনিক ইঞ্জিন প্রয়োজন। এই ইঞ্জিনে অত্যন্ত কম তাপমাত্রায় তরল হাইড্রোজেন ও তরল অক্সিজেন জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

এই প্রযুক্তি আয়ত্ত করা ভারতের জন্য সহজ ছিল না। ১৯৯০-এর দশকে ভূরাজনৈতিক চাপের কারণে রাশিয়া ভারতকে ক্রায়োজেনিক ইঞ্জিনের সম্পূর্ণ প্রযুক্তি হস্তান্তর করতে রাজি হয়নি। এরপর ইসরো নিজস্ব প্রযুক্তিতে এই জটিল ইঞ্জিন তৈরির কাজ শুরু করে।

প্রায় দুই দশকের গবেষণা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও পরিশ্রমের পর ভারত এই প্রযুক্তিতে উল্লেখযোগ্য সক্ষমতা অর্জন করে। এর ফলে জিএসএলভি শুধু ভারতের মহাকাশ কর্মসূচির সক্ষমতা বাড়ায়নি, আন্তর্জাতিক মহলেও ইসরোর প্রযুক্তিগত অবস্থান শক্ত করেছে।

‘দুষ্টু ছেলে’ থেকে সাফল্যের প্রতীক

২০২৫ ও ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে পিএসএলভির পরপর দুটি ব্যর্থ উৎক্ষেপণের পর ভারতের মহাকাশ কর্মসূচিতে কিছুটা চাপ তৈরি হয়েছিল। এমন পরিস্থিতিতে জিএসএলভি-এফ১৭-এর সফল অভিযান ইসরোর জন্য নতুন আত্মবিশ্বাসের বার্তা দিয়েছে।

এবার শুধু উপগ্রহকে নির্ধারিত কক্ষপথে পৌঁছে দেওয়াই নয়, রকেটটির ক্রায়োজেনিক ইঞ্জিন প্রত্যাশার চেয়েও ভালো পারফরম্যান্স দেখিয়েছে। এর ফলে ইওএস-০৫ উপগ্রহটি নির্ধারিত উচ্চতার চেয়ে প্রায় ২ হাজার ১০০ কিলোমিটার ওপরে পৌঁছে যায়।

এই বাড়তি উচ্চতার কারণে উপগ্রহটির কার্যক্ষম জীবন অন্তত আরও তিন বছর বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একসময় যে রকেটকে ‘নটি বয়’ বলে ডাকা হতো, সাম্প্রতিক সাফল্যে সেই জিএসএলভিই এখন ভারতের মহাকাশ সক্ষমতার অন্যতম বড় সাফল্যের প্রতীক হয়ে উঠেছে।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম