Logo
Logo
×
   

আন্তর্জাতিক

আগ্নেয় ছাইয়ে ঢেকে গেছে আকাশ, ইন্দোনেশিয়ায় ৩০১ ফ্লাইট ব্যাহত

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৪২ পিএম

আগ্নেয় ছাইয়ে ঢেকে গেছে আকাশ, ইন্দোনেশিয়ায় ৩০১ ফ্লাইট ব্যাহত

২০১৮ সালের অগ্ন্যুৎপাতে আগ্নেয়গিরিটির একটি অংশ ধসে পড়ে এবং সৃষ্ট সুনামিতে জাভা ও সুমাত্রার উপকূলে ৪০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হন।

ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তার কাছে আগ্নেয়গিরি ‘আনাক ক্রাকাতাউ’ থেকে নির্গত ছাই ছড়িয়ে পড়ায় দেশটির প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাময়িকভাবে উড়োজাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এসময় আগ্নেয় ছাইয়ের কারণে শত শত যাত্রী বিমানবন্দরে আটকা পড়েন।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় বিকাল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত জাকার্তার বাইরে অবস্থিত সোকার্নো-হাত্তা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়। বিমানবন্দরটি আগ্নেয়গিরি থেকে ১৫০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরে অবস্থিত। বিমানবন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান আংকাসা পুরা জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্তের ফলে মোট ৩০১টি ফ্লাইটের যাত্রা ব্যাহত হয়েছে। এর মধ্যে ৫৮টি ছিল আন্তর্জাতিক ফ্লাইট।

সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনসও জাকার্তাগামী ও জাকার্তা থেকে ছেড়ে যাওয়ার সব ফ্লাইট দিনের বাকি সময়ের জন্য বাতিল করেছে। বিমান চলাচলের জন্য আগ্নেয় ছাই বিশেষভাবে বিপজ্জনক। ছাই উড়োজাহাজের জেট ইঞ্জিন ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে এবং পাইলটদের দৃষ্টিসীমাও মারাত্মকভাবে কমিয়ে দিতে পারে। ফলে ছাইয়ের বিস্তার বিমান চলাচলে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করায় ইন্দোনেশিয়ায় একাধিক বিমানবন্দরে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

ইন্দোনেশিয়ার পরিবহণমন্ত্রী দুডি পুরওয়াগান্ধি জানান, সোকার্নো-হাত্তা ছাড়াও মোট ছয়টি বিমানবন্দরে কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। এর মধ্যে বান্দুংয়ের হুসেইন সাস্ত্রানেগারা বিমানবন্দর এবং সুমাত্রার বান্দার লাম্পুংয়ের কাছে রাদিন ইনতেন-২ বিমানবন্দর রয়েছে। সেমারাং ও সুরাবায়াসহ কয়েকটি শহরের বিমানবন্দরকে বিকল্প অবতরণস্থল হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

আগ্নেয় ছাইয়ের কারণে মানুষের দৈনন্দিন জীবনেও প্রভাব পড়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ছাইয়ের কারণে চোখ ও শ্বাসতন্ত্রে অস্বস্তি হওয়ায় কয়েকটি স্কুলের নির্ধারিত কার্যক্রম বাতিল করা হয়েছে।

শুক্রবার গভীর রাতে নতুন করে এ অগ্ন্যুৎপাত শুরু হয়। ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া, জলবায়ু ও ভূ-পদার্থবিদ্যা সংস্থা বিএমকেজে জানিয়েছে, অগ্ন্যুৎপাতের সময় বিকট শব্দ সৃষ্টি হয়। এসব শব্দ আগ্নেয়গিরি থেকে প্রায় ৭০০ কিলোমিটার দূর পর্যন্ত শোনা গেছে।

বিএমকেজের তথ্য অনুযায়ী, জাভা দ্বীপের দিকে আগ্নেয় ছাই প্রায় ৬ হাজার মিটার উচ্চতা পর্যন্ত উঠেছে। অন্যদিকে সুমাত্রা ও জাভার বানতেন প্রদেশের কিছু এলাকায় ছাইয়ের স্তম্ভ ১৫ হাজার মিটার পর্যন্ত পৌঁছেছে। রোববার আরও দুটি অগ্ন্যুৎপাতের ঘটনাও রেকর্ড করা হয়েছে।

তবে ইন্দোনেশিয়ার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা বিএনপিবি জানিয়েছে, এই অগ্ন্যুৎপাত থেকে তাৎক্ষণিক সুনামির কোনো আশঙ্কা নেই। ছাই দ্রুত সরিয়ে নিতে কৃত্রিমভাবে বৃষ্টিপাত ঘটানোর মতো ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছে সংস্থাটি।

বিএনপিবির প্রধান সুহারইয়ান্তো বলেন, পর্যাপ্ত ভারী বৃষ্টি হলে আগ্নেয় ছাই দ্রুত ধুয়ে যেতে পারে এবং মানুষের দৈনন্দিন জীবনে সৃষ্ট বিঘ্নও কমে আসবে।

আনাক ক্রাকাতাউ ১৯২০-এর দশকে সমুদ্রের বুক থেকে জেগে ওঠে। ১৮৮৩ সালের ভয়াবহ ক্রাকাতাউ অগ্ন্যুৎপাতের পর তৈরি হওয়া বিশাল আগ্নেয়গিরির গর্ত বা ক্যালডেরার ভেতর থেকেই এর সৃষ্টি। ওই অগ্ন্যুৎপাত ছিল নথিভুক্ত ইতিহাসের অন্যতম প্রাণঘাতী আগ্নেয়গিরির ঘটনা।

পরবর্তী দশকগুলোতে আনাক ক্রাকাতাউয়ে কয়েক দফা অগ্ন্যুৎপাত হয়েছে। ২০১৮ সালের অগ্ন্যুৎপাতে আগ্নেয়গিরিটির একটি অংশ ধসে পড়ে এবং সৃষ্ট সুনামিতে জাভা ও সুমাত্রার উপকূলে ৪০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হন।

সূত্র: আলজাজিরা

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম