শক্তিশালী এল নিনোর শঙ্কায় বিশ্ব, ভয়ঙ্কর যে প্রভাব ফেলবে
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৪৪ পিএম
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বিশ্ব এখন ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী এল নিনোর আশঙ্কায় প্রস্তুতি নিচ্ছে। জাতিসংঘের পক্ষ থেকে সতর্ক করা হয়েছে, আমাদের গ্রহ এখন চরম আবহাওয়ার বিপজ্জনক সীমায় রয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, বর্তমানের এল নিনো পূর্বের সব রেকর্ড ভেঙে দিতে পারে।
এল নিনো প্রাকৃতিক আবহাওয়াজনিত ঘটনা। প্রশান্ত মহাসাগরে তাপমাত্রা ও বায়ুপ্রবাহের পরিবর্তনের কারণে এটি সৃষ্টি হয়। ফলে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের তাপমাত্রা বাড়তে পারে। অতীতে বিশ্ব বেশ কয়েকটি এল নিনোর সম্মুখীন হয়েছে। তবে এবারের মতো অস্বাভাবিকভাবে শক্তিশালী এবং এত দ্রুত বিকশিত এল নিনো এর আগে দেখা যায়নি।
তাহলে সম্ভাব্য রেকর্ড ভাঙা এল নিনোর নেপথ্যে কী এবং এটি কিভাবে বৈশ্বিকভাবে আবহাওয়ার উপরে প্রভাব ফেলে?
ব্যতিক্রম এল নিনো
বিজ্ঞানীরা নিরক্ষরেখার কাছাকাছি ক্রান্তীয় প্রশান্ত মহাসাগরের তাপমাত্রার তথ্য ব্যবহার করে এল নিনোর কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন। ঐতিহাসিকভাবে, এই প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে তাপমাত্রা কতটা বেশি বা কম ছিল, তা পরিমাপ করা হতো।
তবে বর্তমানে বিজ্ঞানীরা এবং আবহাওয়া বিষয়ক সংস্থাগুলো — যার মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার ব্যুরো অফ মেটিওরোলজিও অন্তর্ভুক্ত—একটি আপেক্ষিক সূচক ব্যবহার করে থাকেন। কেবল তাপমাত্রা পরিমাপের পরিবর্তে, এই আপেক্ষিক সূচকটি জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট সামগ্রিক উষ্ণায়নের বিষয়টিও বিবেচনায় নেয়। এর ফলে, উষ্ণ হতে থাকা জলবায়ুতে কোনো এল নিনো কতটা তীব্র, তা শনাক্ত করা বিজ্ঞানীদের জন্য অনেক সহজ হয়ে যায়।
বর্তমান এল নিনোটি মূলত দুটি কারণে বিশেষ গুরুত্বের দাবি রাখে—
১. অস্বাভাবিক আগাম
সাধারণত নভেম্বর থেকে জানুয়ারি মাসের মধ্যে এল নিনো তার সর্বোচ্চ তীব্রতায় পৌঁছায়। কিন্তু এবারের এল নিনোটি মৌসুমের শুরুতেই অস্বাভাবিক উষ্ণতা সৃষ্টি করেছে এবং গ্রীষ্মকালে এর সর্বোচ্চ তীব্রতায় পৌঁছানো এখনো বাকি।
২. অতিরিক্ত উষ্ণতা
সাম্প্রতিক তথ্য-উপাত্ত থেকে দেখা যায়, আগস্ট মাসে এর আপেক্ষিক সূচক গড় তাপমাত্রার চেয়ে ২.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল, যা অন্যান্য এল নিনো বছরের তুলনায় অধিক শক্তিশালী। অস্ট্রেলিয়ায় এল নিনো চলাকালে সাধারণত আবহাওয়া অধিক উষ্ণ ও শুষ্ক থাকে। তবে প্রতিটি এল নিনোই ভিন্ন প্রকৃতির হয় এবং এর প্রভাবও ভিন্ন হতে পারে। যাই হোক, এই এল নিনোর প্রভাবে ২০২৭ সালে বিশ্বজুড়ে তাপমাত্রা রেকর্ড মাত্রায় পৌঁছাবে।
এটি বিশ্বের আবহাওয়ার ওপর কীভাবে প্রভাব ফেলছে?
এই ঐতিহাসিক এল নিনো ইতিমধ্যেই বিশ্বজুড়ে আবহাওয়ার ধরণ বদলে দিচ্ছে। প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোতে এর সবচেয়ে প্রত্যক্ষ ও তীব্র প্রভাব দেখা যাচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, এই মাসেই ইন্দোনেশিয়াকে ভয়াবহ দাবানলের মোকাবিলা করতে হয়েছে। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, ক্রমশ তীব্র হতে থাকা এই দাবানলের অন্যতম প্রধান কারণ হলো বর্তমানের এই এল নিনো।
এল নিনো ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির স্থান ও প্রক্রিয়াকেও বদলে দিচ্ছে। উপগ্রহ চিত্রে দেখা যাচ্ছে যে, বর্তমানে প্রশান্ত মহাসাগরে চারটি সক্রিয় ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড় অবস্থান করছে। জাপানের কাছাকাছি এলাকা থেকে শুরু করে হাওয়াই পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চলে। এটি অত্যন্ত অস্বাভাবিক একটি ঘটনা। সাধারণত এল নিনো প্রশান্ত মহাসাগরের পূর্বাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলে উষ্ণ জলরাশি বয়ে নিয়ে আসে, যা সেখানে ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির প্রবণতা বাড়িয়ে দেয়।
অস্ট্রেলিয়ায় এল নিনোর প্রভাব কিছুটা কম অনুভূত হচ্ছে। তবে বসন্ত ঋতুতে এর উপস্থিতি আরও জোরালোভাবে অনুভূত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আবহাওয়া দপ্তরের মৌসুমী পূর্বাভাস অনুযায়ী, এল নিনোর প্রভাবে অস্ট্রেলিয়ায় এখন পর্যন্ত ঠিক যেমনটা হওয়ার কথা ছিল, তেমনই পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে। তাপমাত্রা বাড়ছে। যেমন এই সপ্তাহে উত্তর অস্ট্রেলিয়ার কিছু অংশে তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে এবং আবহাওয়া শুষ্ক হয়ে আসছে।

-6a9d4698618cc.jpg)