পশ্চিম তীরের অবৈধ ইসরাইলি বসতি সরানোর নির্দেশ দিলেন নেতানিয়াহু
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৫০ পিএম
বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র চাপের মুখে অবশেষে নতিস্বীকার করতে বাধ্য হলেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। অধিকৃত পশ্চিম তীরে দেশটির সরকারের অনুমোদন ছাড়াই জোরপূর্বক গড়ে তোলা অবৈধ বসতিগুলো দ্রুত ভেঙে ফেলার এক গোপন নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। খবর রয়টার্সের।
ফিলিস্তিনিদের ওপর উগ্রপন্থী ইসরাইলিদের নির্যাতন ও সহিংসতা যেন দিন দিন সব সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছিল। কখনো গভীর রাতে ফিলিস্তিনি পরিবারগুলোর ওপর হামলা চালানো, আবার কখনো ভিটেমাটি থেকে তাদের তাড়িয়ে দিয়ে চলছিল জমি দখলের উৎসব।
সেখানে ছোট ছোট তাবু কিংবা অস্থায়ী ক্যারাভান বসিয়ে ধীরে ধীরে বসতি বানিয়ে ফেলছিল তারা। বেশ কিছুদিন ধরেই এ নিয়ে ভেতরে ভেতরে ক্ষোভ জমছিল। সম্প্রতি ইসরাইলে নিযুক্ত আমেরিকান রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি সরাসরি এক ফিলিস্তিনি-আমেরিকান পরিবারের সঙ্গে দেখা করে উগ্র বসতি স্থাপনকারীদের সোজা ‘সন্ত্রাসী’ বলে আখ্যা দেন। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে সাফ জানিয়ে দেয় ওয়াশিংটন।
যুক্তরাষ্ট্রের সেই চাপের মুখে পড়েই ব্যাকফুটে চলে যান নেতানিয়াহু। ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম ওয়াইনেট সূত্রে জানা গেছে, পুরো পশ্চিম তীর জুড়ে ছড়িয়ে থাকা প্রায় ১০০টির মতো অবৈধ বসতি বা ‘আউটপোস্ট’ গুঁড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা চলছে। এতদিন ধরে এসব উচ্ছেদ ঠেকাতে সরকারের ভেতরে থাকা কট্টরপন্থী মন্ত্রীরা জোর তদবির করলেও এবার নেতানিয়াহু আর কোনো ছাড় দিতে রাজি নন।
যদিও প্রধানমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্তে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ। তবে তিনি মেনে নিয়েছেন যে, সরকার আপাতত ‘এ’ এবং ‘বি’ অঞ্চলে তৈরি হওয়া এসব অবৈধ ঘরবাড়ি সরাতে বাধ্য হচ্ছে।
ঠিক কবে থেকে বুলডোজার চালানো শুরু হবে, তা এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। তবে এই সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়ছে আদালতের রায়েও। একই দিনে ইসরাইলের সুপ্রিম কোর্ট এক ঐতিহাসিক রায়ে জালুদ গ্রামের তিনটি ফিলিস্তিনি পরিবারকে নিরাপদে তাদের নিজেদের ভিটেমাটিতে ফিরিয়ে আনার আদেশ দিয়েছেন, যাদের এতদিন জোর করে তাড়িয়ে রাখা হয়েছিল।
জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, পশ্চিম তীরে ইসরাইলের শতাধিক স্বীকৃত বসতির পাশাপাশি প্রায় ৩৪০টি এ ধরনের অবৈধ ক্যাম্প রয়েছে। আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে এসবের পুরোটাই অবৈধ হলেও এতদিন তেল আবিব প্রশাসন চোখের সামনে সব দেখেও না দেখার ভান করে ছিল। তবে মার্কিন প্রশাসনের আলটিমেটামের পর এখন আর কোনো পথ খোলা নেই নেতানিয়াহুর সামনে।


