Logo
Logo
×
   

আন্তর্জাতিক

ফকল্যান্ড নিয়ে ফের উত্তেজনা, নেপথ্যে ট্রাম্প-ইসরাইল সংযোগ

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:০৪ পিএম

ফকল্যান্ড নিয়ে ফের উত্তেজনা, নেপথ্যে ট্রাম্প-ইসরাইল সংযোগ

ফকল্যান্ডের ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠাকে অত্যন্ত জরুরি বলে মান করছে আর্জেন্টিনা। ছবি: সংগৃহীত

দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরের ছোট্ট দ্বীপপুঞ্জ ফকল্যান্ডের মালিকানা ফিরে পেতে আবার নতুন করে লড়াইয়ে নেমেছে আর্জেন্টিনা। 

দেশটির প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, এই দ্বীপপুঞ্জের ওপর নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা দেশের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত জরুরি। একইসঙ্গে ফকল্যান্ডের সাগরে তেল উত্তোলনের চেষ্টা করা বিদেশি কোম্পানিগুলোর ওপর কড়া নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার হুঙ্কারও দিয়েছেন তিনি। 

১৯৮২ সালের যুদ্ধে হেরে যাওয়ার চার দশক পর আর্জেন্টিনার এই হঠাৎ সরব হওয়া আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। 

এই পুরোনো বিরোধে নতুন করে ঘি ঢেলেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি মন্তব্য। ট্রাম্প সম্প্রতি ইঙ্গিত দিয়েছেন, ফকল্যান্ডের ওপর যুক্তরাজ্যের একক অধিকার মেনে নেওয়ার মার্কিন নীতি তিনি পুনর্বিবেচনা করতে পারেন। ইউক্রেন ও ইরান যুদ্ধের মতো ইস্যুতে লন্ডন ও ওয়াশিংটনের মধ্যে টানাপোড়েন চলার সময়ে ট্রাম্পের এই বার্তা এসেছে। যুক্তরাষ্ট্র যদি ব্রিটেনের বদলে আর্জেন্টিনার পাশে দাঁড়ায়, তবে তা মিত্র দুই দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্কে বড় ধরনের ফাটল ধরাবে। 

এই উত্তেজনায় যুক্ত হয়েছে ইসরাইলের নামও। ফকল্যান্ড উপকূলের ‘সি লায়ন’ নামের এক বিশাল তেলক্ষেত্র থেকে প্রায় ২৩ কোটি ১০ লাখ ব্যারেল তেল তোলার কাজ করছে একটি ব্রিটিশ-ইসরাইলি কোম্পানি, যেখানে ইসরাইলের ‘নাভিতাস পেট্রোলিয়াম’-এর বড় শেয়ার রয়েছে। আর্জেন্টিনা এতে তীব্র আপত্তি জানিয়ে ওই ইসরাইলি কোম্পানির ওপর নিষেধাজ্ঞার হুমকি দিয়েছে। 

তবে মজার বিষয় হলো, ১৯৮২ সালের যুদ্ধের সময়ে কিন্তু এই ইসরাইলই লন্ডনের তোয়াক্কা না করে আর্জেন্টিনার কাছে গোপনে যুদ্ধবিমান ও অস্ত্র বিক্রি করেছিল। 

দক্ষিণ আমেরিকার মূল ভূখণ্ড থেকে প্রায় ৫০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই দ্বীপে সাড়ে তিন হাজারের মতো মানুষ বাস করেন, যাদের প্রায় সবাই ব্রিটিশ বংশোদ্ভূত। ১৮৩৩ সাল থেকে এলাকাটি ব্রিটেনের দখলে রয়েছে। 

১৯৮২ সালে আর্জেন্টিনা হঠাৎ দ্বীপটি দখল করে নিলে রক্তক্ষয়ী এক যুদ্ধে জয়ী হয়ে এলাকাটি উদ্ধার করে ব্রিটেন। পরবর্তীতে ২০১৩ সালের গণভোটে দ্বীপটির ৯৯.৮ শতাংশ মানুষ ব্রিটেনের সঙ্গে থাকার পক্ষেই ভোট দিয়েছিলেন। তবে এখন সাগরে বিপুল খনিজ তেলের সন্ধান মেলায় এবং ট্রাম্পের সম্ভাব্য সমর্থন পাওয়ার আশায় আর্জেন্টিনা আবার ফকল্যান্ডের ওপর নিজেদের সার্বভৌমত্ব অর্জনের দাবিতে উঠেপড়ে লেগেছে।

সূত্র: মিডলইস্ট আই।


Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম