ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বিপদে স্পেনের জাতীয় খাবার?
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:১৯ পিএম
স্পেনের বিখ্যাত খাবার পায়েয়া। সংগৃহীত ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
স্পেনের বিখ্যাত খাবার পায়েয়া। জাতীয় খাবারও বটে। এই খাবারের অন্যতম উপাদান জাফরান। এই জাফরানের জন্যই এখন স্পেনকে পড়তে হতে পারে নতুন এক সমস্যায়।
স্পেন নিজের দেশেও জাফরান উৎপাদন করে। কিন্তু দেশটির জাফরান সরবরাহের বড় একটি অংশ আসে ইরান থেকে। আর ইরানের ওপর এখন কঠোর অর্থনৈতিক চাপ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।
গত আগস্টে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ নামে ইরানের অর্থনৈতিক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করার একটি অভিযান শুরু করার ঘোষণা দেয়। লক্ষ্য—ইরানের অর্থনৈতিক লাইফলাইনগুলো বন্ধ করে দেওয়া।
এর ফলে ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা দেশগুলোর ওপরও চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আর এখানেই স্পেনের চিন্তা।
কারণ, ২০২৪ সালে ইরান থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নে আমদানি করা জাফরানের প্রায় তিন-চতুর্থাংশই স্পেনের মাধ্যমে এসেছে।
শুধু তাই নয়, ২০২৫ সালে ইরান থেকে স্পেনের মোট আমদানির মধ্যে জাফরানের মূল্য ছিল প্রায় ৬ কোটি ১০ লাখ ডলার—যা ইরান থেকে স্পেনের মোট আমদানির ৪০ শতাংশেরও বেশি।
স্পেনের একটি জাফরান রপ্তানি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা জোসে লুইস গুয়েরেরো বলছেন, তাদের সবচেয়ে বড় সরবরাহকারীই ইরান। ইরান থেকে জাফরান এনে তারা আবার বিশ্বের বিভিন্ন বাজারে বিক্রি করেন।
তবে এর অর্থ এই নয় যে মার্কিন চাপ বাড়লেই স্পেনে পায়েয়া বানানো বন্ধ হয়ে যাবে।
স্পেনের নিজস্ব কাস্তিয়া-লা মানচা অঞ্চলেও জাফরান উৎপাদন হয়। তাই দেশটির এক কর্মকর্তা রসিকতা করে বলেছেন—‘পায়েয়া বিপদে নেই।’
তবে বিপদটা হতে পারে অন্য জায়গায়।
ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য বাধাগ্রস্ত হলে ক্ষতির মুখে পড়তে পারে স্পেনের সেইসব কোম্পানি, যারা ইরান থেকে জাফরান আমদানি করে, সেটি প্রক্রিয়াজাত ও প্যাকেটজাত করে এবং পরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করে।
অর্থাৎ, বিষয়টি শুধু একটি খাবারের মসলা নিয়ে নয়। ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক চাপ যত বাড়বে, তার প্রভাব যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যেও ছড়িয়ে পড়তে পারে—স্পেনের জাফরান বাণিজ্য তারই একটি ছোট উদাহরণ।
