১৪ বছরের কম বয়সীদের হিজাব নিষেধাজ্ঞা নিয়ে অস্ট্রিয়ায় বিতর্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৩৩ পিএম
হিজাবের নিয়ম না মানলে জরিমানা হবে। সংগৃহীত ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
অস্ট্রিয়ায় ১৪ বছরের কম বয়সী শিক্ষার্থীদের স্কুলে হিজাব পরার ওপর নিষেধাজ্ঞা সোমবার প্রথমবারের মতো কার্যকর হচ্ছে। নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর সঙ্গে সঙ্গে ভিয়েনাসহ দেশটির কয়েকটি রাজ্যের স্কুলে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে।
তবে দেশটির প্রধান মুসলিম সংগঠনসহ বিভিন্ন গোষ্ঠী এটিকে বৈষম্যমূলক বলে নিন্দা জানিয়েছে। একই সঙ্গে আইনটি আদালতে চ্যালেঞ্জ হওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে।
অস্ট্রিয়ার তিনটি মধ্যপন্থী দলের জোট সরকার স্কুলে হিজাব নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব দেয়। সরকারের দাবি, মেয়েদের স্বাধীনতা ও অধিকার রক্ষার জন্যই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
গত ডিসেম্বর দেশটির পার্লামেন্টে আইনটি পাশ হয়। এতে ডানপন্থী ফ্রিডম পার্টি সমর্থন দেয়। একমাত্র বামপন্থী গ্রিনস পার্টি আইনটির বিরোধিতা করে।
অস্ট্রিয়ার মুসলিমদের আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন ইসলামিক রিলিজিয়াস কমিউনিটি ইন অস্ট্রিয়া বলেছে, এই নিষেধাজ্ঞা মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন করছে। সংগঠনটি জানিয়েছে, তারা আইনটি সাংবিধানিক আদালতে চ্যালেঞ্জ করবে।
এর আগে ২০২০ সালে অস্ট্রিয়ার সাংবিধানিক আদালত ১০ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য করা একই ধরনের একটি হিজাব নিষেধাজ্ঞা বাতিল করেছিল। আদালতের মতে, ওই আইন মুসলিমদের প্রতি বৈষম্যমূলক ছিল এবং রাষ্ট্রকে ধর্মীয় বিষয়ে নিরপেক্ষ থাকতে হবে। এই নীতির ব্যতিক্রম করতে হলে বিশেষ ও যথেষ্ট কারণ দেখাতে হবে বলেও আদালত জানিয়েছিল।
এদিকে বামপন্থী শিক্ষার্থী সংগঠনগুলো নতুন আইনের প্রতিবাদে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে। অস্ট্রিয়ার নয়টি রাজ্যের মধ্যে পূর্বাঞ্চলের ভিয়েনা, লোয়ার অস্ট্রিয়া ও বুর্গেনল্যান্ডে সোমবার নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হয়েছে। অন্য রাজ্যগুলোতে আগামী সপ্তাহে শিক্ষাবর্ষ শুরু হবে।
নতুন আইনে বলা হয়েছে, কোনো শিক্ষার্থী নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে হিজাব পরলে প্রথমে স্কুল কর্তৃপক্ষ তার সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবে। এরপরও নিয়ম না মানলে ওই শিক্ষার্থীকে ১৫০ থেকে ৮০০ ইউরো পর্যন্ত জরিমানা করা হতে পারে।
