হরমুজে গত এক সপ্তাহে জাহাজ চলাচল কমেছে ২৮ শতাংশ, নতুন যুদ্ধের শঙ্কা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:১৫ এএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্ব বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ২৮ শতাংশ কমেছে। এ সময় মাত্র ৭৭টি জাহাজ হরমুজ পাড়ি দিয়েছে।
জাহাজ চলাচল ও সামুদ্রিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলার এসব তথ্য জানিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, সর্বশেষ সপ্তাহে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করা পণ্যবোঝাই জাহাজের সংখ্যা ৪৫ থেকে কমে ৩৩টিতে নেমে এসেছে।
কেপলার আরও জানিয়েছে, গত ৪ থেকে ৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করা মোট ২৮টি জাহাজের মধ্যে ২১টিই ইরানের নির্ধারণ করে দেওয়া পথ (রুট) ধরে চলাচল করেছে। এসব জাহাজ হরমুজের প্রচলিত নৌপথ এড়িয়ে গেছে।
অন্যদিকে গত রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) হরমুজ পাড়ি দেওয়া আটটি জাহাজের মধ্যে সাতটিই ইরানের নির্ধারিত পথ ধরে চলেছে বলে জানিয়েছে কেপলার।
প্রতিষ্ঠানটির মতে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল কমে যাওয়া এবং হরমুজ পাড়ি দিতে জাহাজগুলোর ইরানের ঠিক করে দেওয়া নৌপথ ব্যবহারের ঘটনা বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। এতে স্পষ্ট বোঝা যায়, জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে চলমান যুদ্ধাবস্থার প্রভাব পড়েছে। একই সঙ্গে উপসাগরীয় দেশগুলোর সামগ্রিক বাণিজ্যে এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।
হরমুজের বাইরেও ‘নিয়ন্ত্রিত অঞ্চল’ ঘোষণা করবে ইরান, জাহাজ ঢুকলেই নিষেধাজ্ঞা
এ পরিস্থিতিতে কেপলার বলছে, এখন দেখার বিষয় হলো—হরমুজ প্রণালি ঘিরে গত সপ্তাহের শেষ দিকে দেখা দেওয়া এ প্রবণতা স্থায়ী হয় কিনা।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানে হামলা চালায়। এর পর থেকেই তেহরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ রেখেছে। বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় এক–পঞ্চমাংশ সাধারণত এ পথ দিয়েই পরিবহন করা হয়। এটার প্রভাব পড়েছে জ্বালানির বাজারে। বেড়ে গেছে দাম।
ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বিজয় হলে তেলের দাম দ্রুত কমে যাবে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের দাম প্রতি গ্যালন ৩ ডলারে নেমে আসবে এবং পরে ২ ডলারের নিচেও চলে যেতে পারে।
ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা মহসেন রেজাই বলেছেন, কয়েক দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালির বাইরে একটি নতুন ‘নিয়ন্ত্রিত অঞ্চল’ ঘোষণা করবে ইরান। যুক্তরাষ্ট্র যেখান থেকে নৌ অবরোধ শুরু করেছে, সেখান থেকে এই নতুন নিয়ন্ত্রিত অঞ্চল শুরু হবে। অঞ্চলটি উপসাগরের বিভিন্ন এলাকায় ছড়ানো থাকবে।
এদিকে হরমুজ প্রণালির নাম পালটে ফেলার কথা ভাবছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবর, প্রণালিটির নাম পাল্টে নিজের নামে, অর্থাৎ ‘ট্রাম্প প্রণালি’ রাখতে চান মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
