স্কুলের প্রথম দিনেই ইসরাইলি হামলায় ফিলিস্তিনি শিশু নিহত
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৪৩ পিএম
ইসরাইলি হামলায় প্রাণ হারিয়েছে আট বছর বয়সি ফিলিস্তিনি শিশু ওয়াফা।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
গাজায় নতুন শিক্ষাবর্ষের প্রথম দিনে স্কুলে যাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইসরাইলি হামলায় প্রাণ হারিয়েছে আট বছর বয়সি ফিলিস্তিনি শিশু ওয়াফা ইউসুফ নাবিল আকিলা। খবর দ্যা মিডল ইস্ট আই-এর।
রোববার (৮ সেপ্টেম্বর) গাজা সিটির পশ্চিমাঞ্চলে একটি গাড়িতে ভ্রমণের সময় তার বাবা ইউসুফ নাবিল রাবাহ আকিলার সঙ্গে সে নিহত হয়।
আল-শিফা হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, হামলাটি চালানো হয় হামিদ মোড়ের কাছে একটি ইসরাইলি ড্রোন থেকে। এতে ওয়াফা ও তার বাবা নিহত হওয়ার পাশাপাশি আরও ছয়জন ফিলিস্তিনি আহত হন।
হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে ওয়াফাকে নীল স্কুল ইউনিফর্ম পরে হাস্যোজ্জ্বল অবস্থায় দেখা যায়। নতুন শিক্ষাবর্ষের প্রথম দিনে স্কুলে যাওয়ার আনন্দ প্রকাশ করতে সে ক্যামেরার দিকে থাম্বস-আপও দেখিয়েছিলো।
তবে হামলার পর প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, আগুনে পুড়ে যাওয়া গাড়ির ধ্বংসস্তূপে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে তার স্কুলের বই-খাতা ও অন্যান্য শিক্ষা সামগ্রী।
ঘটনার পর প্রকাশিত একটি ভিডিওতে স্থানীয় বাসিন্দাদের ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায়। একজন বলেন, ‘পৃথিবী দেখুক, এটাই শিশুটির অবশিষ্টাংশ। কোন যুদ্ধবিরতির কথা বলা হচ্ছে?’ আরেকজন বলেন, ‘এখানে কোনো যুদ্ধবিরতি নেই। প্রতিদিনই গণহত্যা হচ্ছে, প্রতিদিন মানুষ মারা যাচ্ছে, প্রতিদিন শিশুদের প্রাণ যাচ্ছে।’
ওয়াফার মৃত্যুর ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, যুদ্ধবিরতির দাবি করা হলেও গাজায় বেসামরিক মানুষের মৃত্যু কেন থামছে না।
হামলার পর ইসরাইলি সেনাবাহিনী প্রথমে জানায়, তারা হামাসের একজন সদস্যকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে এবং ঘটনার ফলাফল খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পরে সোমবার এক বিবৃতিতে তারা দাবি করে, নিহত ইউসুফ আকিলা হামাসের অভিজাত নুখবা বাহিনীর একজন কোম্পানি কমান্ডার ছিলেন।
ইসরাইলের দাবি, তিনি ইসরাইলি সেনা ও বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে হামলার পরিকল্পনায় জড়িত ছিলেন এবং হামাসের সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনের কাজ করছিলেন। তবে এসব দাবির পক্ষে কোনো প্রকাশ্য প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।
এদিকে গাজায় চলতি মাসের শেষ দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্কুল খোলার কথা থাকলেও কিছু স্কুল ও বিকল্প শিক্ষা কেন্দ্র ইতোমধ্যে কার্যক্রম শুরু করেছে। দীর্ঘদিনের সংঘাতে গাজার বিপুলসংখ্যক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় হাজারো শিক্ষার্থী এখন তাঁবু, অস্থায়ী শ্রেণিকক্ষ ও আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত ভবনে পড়াশোনা করছে।
একই দিনে গাজার বিভিন্ন এলাকায় আরও কয়েকজন ফিলিস্তিনি শিশু ও তরুণ ইসরাইলি হামলায় নিহত হয়েছেন। মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহ এলাকার পূর্বদিকে বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর আশ্রয়স্থল সাকিনা স্কুলে ইসরাইলি গোলাবর্ষণে সাত বছর বয়সি সাদি ঘালিয়া নিহত হয়। এছাড়া গাজা সিটির রিমাল এলাকায় ড্রোন হামলায় ২৮ বছর বয়সি মোহাম্মদ আতেফ আরাফাত সুক্কার নিহত হন।
অন্যদিকে ফিলিস্তিন স্টেডিয়াম ও আল-মামুনিয়া স্কুলের কাছে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত ১৯ বছর বয়সি হাসান আলি সাকাল্লাহ পরে মারা যান বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
ওয়াফার মৃত্যু আবারও গাজার শিশুদের নিরাপত্তা এবং চলমান সংঘাতের মধ্যে তাদের শিক্ষাজীবনের অনিশ্চয়তার বিষয়টি সামনে নিয়ে এসেছে।

