Logo
Logo
×
   

আন্তর্জাতিক

হুথিদের হামলার পর সৌদি আরবে উত্তেজনা, যুক্তরাষ্ট্রকে যে হুমকি দিল ইরান

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:০৪ পিএম

হুথিদের হামলার পর সৌদি আরবে উত্তেজনা, যুক্তরাষ্ট্রকে যে হুমকি দিল ইরান

ছবি: সংগৃহীত

ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সৌদি আরবে হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ছে।  এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রকে ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধের’ হুমকি দিয়েছে ইরান। একইসঙ্গে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবিও করেছে তেহরান। কয়েক দিনের বিরতির পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ফের হামলা-পালটা হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।  

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান মোহসেন রেজাই বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক চাপের জবাব দিতে পারস্য উপসাগরজুড়ে একটি সামুদ্রিক ‘প্রবেশ-নিষিদ্ধ অঞ্চল’ তৈরি করা হবে।

এর আগে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, হরমুজ প্রণালির কাছে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে ‘কাসিম বসির’ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে। তবে মার্কিন সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, তাদের যুদ্ধজাহাজগুলো ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এড়িয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে।

মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় রেজাই জানান, ইরানের নতুন ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে ওয়াশিংটনকে ‘স্পষ্ট সতর্কবার্তা’ দেওয়া হয়েছে।  অর্থনৈতিক যুদ্ধের জবাবে পারস্য উপসাগরে অবরোধের পরিধি পর্যন্ত সামুদ্রিক প্রবেশ-নিষিদ্ধ অঞ্চল গড়ে তোলার হুমকিও দেন তিনি।

সৌদি আরবে হুথিদের হামলা

এদিকে ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের কয়েকটি শহরে হামলা চালিয়েছে। এতে অত্যন্ত ৭০ জন আহত হয়েছেন। এ হামলা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা বাড়িয়েছে।

এর পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলও ব্যাহত হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের জন্য প্রণালি খুলে দেওয়া সত্ত্বেও ইরান সেখানে চলাচলকারী জাহাজ নিয়ে হুমকি অব্যাহত রেখেছে। ফলে সাম্প্রতিক সময়ে গুরুত্বপূর্ণ এ নৌপথে পণ্যবাহী জাহাজের চলাচল আবারও কমেছে। 

‘কাসেম বসির’ কতটা শক্তিশালী?

ইরান ‘কাসেম বসির’কে উন্নত প্রযুক্তির একটি ক্ষেপণাস্ত্র হিসেবে প্রচার করেছে। তেহরানের দাবি, ক্ষেপণাস্ত্রটির উন্নত দিকনির্দেশনা ব্যবস্থা রয়েছে এবং এটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এড়িয়ে যেতে সক্ষম। 

ইরানের ফার্স নিউজ জানায়, ২০২৫ সালের জুনে ইসরাইলের বিরুদ্ধে প্রথমবার এটি যুদ্ধে ব্যবহার করা হয়।

ইরানের সামরিক সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের হামলা দুর্বল হলেও দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা এখনো উল্লেখযোগ্য। এসব অস্ত্রের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি ব্যবহারকারী তেলবাহী জাহাজ এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে হুমকি দেওয়ার সক্ষমতা তেহরানের রয়েছে।

হরমুজ প্রণালি ঘিরে উদ্বেগ

যুদ্ধের আগে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও এলএনজি হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহণ হতো। ফলে এ নৌপথে অচলাবস্থা তৈরি হলে বিশ্ব বাজারে জ্বালানি সরবরাহ ও দামে বড় প্রভাব পড়তে পারে। সংঘাতের কারণে ইতোমধ্যে তেলের দামও বেড়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুদ্ধে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র জয়ী হলে তেলের দাম দ্রুত কমবে এবং ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না কেনোভাবেই।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ ও দেশটির সামরিক সক্ষমতা কমানোর মতো ট্রাম্পের ঘোষিত লক্ষ্যগুলো কোনোটি এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। 

এদিকে তেহরানের নিষেধাজ্ঞা শিথিলের দাবি অব্যাহত রাখার পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজ থেকে মাশুল আদায়ের পরিকল্পনা করছে।


Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম