হরমুজে মার্কিন ডুবোযান জব্দ করল ইরান
Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৪৯ পিএম
মানবহীন ডুবোযানটি জব্দ করেছে ইরান। সংগৃহীত ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
হরমুজ প্রণালির প্রবেশমুখে যুক্তরাষ্ট্রের একটি অত্যাধুনিক মানবহীন ডুবোযান জব্দ করেছে ইরান। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সরকারি সংবাদমাধ্যম সেপাহ নিউজে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ দাবি করা হয়েছে।
ইরানি নৌবাহিনীর দাবি, জটিল একটি গোয়েন্দা অভিযানের মাধ্যমে ‘Dive-LD’ নামের ডুবোযানটি জব্দ করা হয়। এটিকে বিশ্বের আধুনিক সাবসারফেস ভেহিকল প্রযুক্তির অন্যতম উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছে তারা। জব্দ করা ডুবোযানটির একটি ভিডিওও প্রকাশ করেছে ইরান।
তবে ইরানের এ দাবির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে স্বাধীন কোনো সূত্র থেকে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এদিকে আলাদা এক বিবৃতিতে আইআরজিসি দাবি করেছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হরমুজ প্রণালির আকাশসীমায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি MQ-9 Reaper ড্রোনও ভূপাতিত করেছে।
ইরানের দাবির পর মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, একদিন আগে আঞ্চলিক জলসীমায় জরিপ চালানোর সময় তাদের একটি ডুবো ড্রোন ত্রুটির কারণে অচল হয়ে পড়ে। তবে সেটিই ইরানের দাবি করা ডুবোযান কি না, সে বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি মার্কিন বাহিনী।
পেন্টাগনের এক মুখপাত্র জানান, ড্রোনটি চলমান সামরিক অভিযানে সহায়তার জন্য আঞ্চলিক জলসীমা পর্যবেক্ষণ করছিল। এটি তুলনামূলক পুরোনো মডেলের একটি ড্রোন ছিল এবং এতে সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহের ব্যবস্থা কিংবা শ্রেণিবদ্ধ সোনার বা রাডার সরঞ্জাম ছিল না বলেও দাবি করা হয়েছে।
প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান Anduril-এর তথ্য অনুযায়ী, Dive-LD একটি ঘাঁটিতে ফিরে না গিয়েই সর্বোচ্চ ১০ দিন পর্যন্ত অভিযান চালাতে পারে এবং প্রায় ৬ হাজার মিটার গভীরতায় ডুব দিতে সক্ষম। ২০২৪ সালের মার্কিন সামরিক সংবাদমাধ্যম DefenseScoop-এর তথ্য অনুযায়ী, প্রতিটি Dive-LD-এর মূল্য প্রায় ২৫ লাখ ডলার।
এদিকে ডুবো ড্রোন জব্দের দাবির মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, ইরানের বিপ্লবী গার্ডের হামলার পর তারা পাঁচটি ইরানি অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাংকার ধ্বংস করেছে। মার্কিন যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে ইরান গত দুই দিনে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টা চালানোর জবাবে এসব হামলা করা হয়েছে বলে দাবি করেছে সেন্টকম।

