সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ন্ত্রণে নতুন আইন হচ্ছে অস্ট্রেলিয়ায়
Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:১৬ পিএম
এর আগে ১৬ বছরের কম বয়সিদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দেয় অস্ট্রেলিয়া। সংগৃহীত ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া। ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুক, টিকটক, স্ন্যাপচ্যাটসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন গেমিং প্লাটফর্মের জন্য নতুন নিয়ম চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছে দেশটির প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ।
এর আগে ১৬ বছরের কম বয়সিদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দেয় অস্ট্রেলিয়া সরকার। কিন্তু ঐতিহাসিক এ নিষেধাজ্ঞা চালুর তিন মাস পরও দেখা যায় ৮০ শতাংশের বেশি কিশোর-কিশোরী এই প্ল্যাটফর্মগুলো ব্যবহার করছে। তারই ধারাবাহিকতায় এবার ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোর অ্যালগরিদম নিয়ন্ত্রণে নতুন আইন আনতে যাচ্ছে দেশটি।
প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজের প্রশাসনের প্রস্তাবিত ‘মাই ফিড, মাই ওয়ে’ নীতির আওতায় নতুন নিয়ম অনুযায়ী ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুক, টিকটক, স্ন্যাপচ্যাটসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন গেমিং প্লাটফর্মকে ১৬ বছর বা তার বেশি বয়সি ব্যবহারকারীদের জন্য অ্যালগরিদমভিত্তিক সুপারিশ ব্যবস্থা বন্ধ করার সুযোগ দিতে হবে।
এ অবস্থায় ব্যবহারকারীরা চাইলে এমন ফিড দেখতে পারবেন, যেখানে শুধু তারা যেসব অ্যাকাউন্ট, বন্ধু বা নির্মাতাকে অনুসরণ করেন, তাদের কনটেন্টই প্রদর্শিত হবে।
প্রস্তাবিত খসড়া আইনে বলা হয়েছে, প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে ব্যবহারকারীদের সক্রিয়ভাবে জানাতে হবে যে, তারা চাইলে ডিফল্ট অ্যালগরিদম ফিড পরিবর্তন করতে পারবেন। শুধু সোশ্যাল মিডিয়াম নয়, এআই চ্যাটবট ও অনলাইন গেমিং প্ল্যাটফর্মগুলোকেও এমন ডিজাইন এড়িয়ে চলতে হবে, যা বিশেষ করে তরুণ ব্যবহারকারীদের অতিরিক্ত আসক্ত করে তোলে।
নিয়ম ভঙ্গ করলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, এআই সেবা ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোকে সর্বোচ্চ ১০৯ দশমিক ২ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার ( প্রায় ৭৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) পর্যন্ত জরিমানার মুখে পড়তে পারে।
অ্যালবানিজ বলেন, এটি সরকারের হাতে নিয়ন্ত্রণ করার বিষয় নয় বরং মানুষের হাতে নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ। ব্যবহারকারীদের অনলাইনে নিজেদের পছন্দ নির্ধারণের স্বাধীনতা দেওয়া হবে এবং বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে আরও জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।
বর্তমানে টিকটক, ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুক ও ইউটিউবের মতো প্ল্যাটফর্মে কিছু বিকল্প ফিড ব্যবস্থা থাকলেও অস্ট্রেলিয়ার নতুন আইন ব্যবহারকারীর এ পছন্দকে বাধ্যতামূলক আইনি অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চায়।
বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো যখন শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য, আসক্তি তৈরি করা ডিজাইন এবং অ্যালগরিদম কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছে, তখন অস্ট্রেলিয়ার এ পদক্ষেপকে বিগ টেকের ওপর আরও কঠোর নিয়ন্ত্রণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
