Logo
Logo
×
   

Advertisement

আন্তর্জাতিক

যুক্তরাজ্য-ইসরাইলের পালটাপালটি পদক্ষেপ

Advertisement

Icon

যুগান্তর ডেস্ক

প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:০৬ পিএম

যুক্তরাজ্য-ইসরাইলের পালটাপালটি পদক্ষেপ

Advertisement

অধিকৃত পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকে কেন্দ্র করে যুক্তরাজ্য ও ইসরাইলের সম্পর্কে বড় টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়েছে। এ বসতি স্থাপন ঠেকাতে যুক্তরাজ্য কিছু পদক্ষেপ ঘোষণা করলে পালটা পদক্ষেপ নেয় ইসরাইল। এতে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে সম্পর্ক তলানিতে পৌঁছেছে। 

বিশ্লেষকরা মনে করেন, বসতি স্থাপনসহ ইসরাইলি সরকারের কিছু পদক্ষেপ ঠেকাতে আরও কঠোর হতে পারে যুক্তরাজ্য।

গাজায় ইসরাইলি গণহত্যার বাস্তবতায় যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশের এ ধরনের পদক্ষেপ তেল আবিবকে কেন্দ্র করে পশ্চিমা বিশ্বের নতুন অবস্থানকে তুলে ধরছে। 

বুধবার বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতিগুলো থেকে পণ্য আমদানি ও সংশ্লিষ্ট কিছু সেবার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাজ্য। সেই সঙ্গে পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতাকে ‘জাতিগত নিধন’ বলেও আখ্যা দিয়েছে ব্রিটিশ সরকার।

ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড সংসদে বলেন, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের চালানো হামলার মাধ্যমে জাতিগত নিধন চলছে। এ ক্ষেত্রে ইসরাইল সরকার চোখ বন্ধ করে আছে। তিনি জানান, আন্তর্জাতিক আইনে এসব বসতি অবৈধ পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতিগুলোর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে যোগ দেবে ফ্রান্স ও কানাডা। মিলিব্যান্ড জানান, পরবর্তীতে আরও ৯টি দেশ একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্ত নেবে। 

দেশগুলো হলো- ডেনমার্ক, স্পেন, ফিনল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, আইসল্যান্ড, নরওয়ে, পোল্যান্ড, পর্তুগাল ও সুইডেন।

এ নিষেধাজ্ঞা এমন এক সময় আরোপ করা হয়েছে যখন ইসরাইল অধিকৃত পশ্চিম তীরে ১ হাজার ২০০টি নতুন বাড়ি নির্মাণের পরিকল্পনা করছে। এ বছর ফিলিস্তিনিদের ওপর বসতি স্থাপনকারীদের হামলা বেড়েছে। মিলিব্যান্ড নিজেও একজন ইহুদি। তবে এখন তাকেও ইহুদি বিদ্বেষের অভিধা দেওয়া হচ্ছে।

যুক্তরাজ্যের এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র। এর আগে ইসরাইলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্তকে ‘গুরুতর ভুল’ বলে মন্তব্য করেন। 

ইসরাইলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি বিবিসিকে বলেন, এ নিষেধাজ্ঞার কারণে যুক্তরাজ্যের কিছু প্রতিষ্ঠান যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে ব্যবসা করার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে পারে।

ইসরাইলের পালটা পদক্ষেপ

পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতিতে যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞার জবাবে জেরুজালেমে ব্রিটিশ কনস্যুলেট বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইসরাইল। 

মঙ্গলবার যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার পর ইসরাইলি পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিয়ন সার ইসরা ইসরাইলের চার দফা পালটা পদক্ষেপের ঘোষণা দেন। এর মধ্যে রয়েছে-জেরুজালেমে ব্রিটিশ দূতাবাস বন্ধ করে দেওয়া; দক্ষিণ ইসরাইলের কিরিয়াত গাতে ‘ইন্টারন্যাশনাল গাজা সাপোর্ট সেন্টার’ থেকে ব্রিটিশ প্রতিনিধিদের প্রত্যাহার করা; রামাল্লায় ব্রিটিশ সাপোর্ট টিম-এর আওতায় জুদেয়াহ ও সামারিয়ায় (পশ্চিম তীরকে এভাবে বর্ণনা করে ইসরাইলি সরকার) ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তা বাহিনীকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার ব্রিটিশ কার্যক্রম বন্ধ করা। 

পাশাপাশি যাদের বিরুদ্ধে ইহুদিবিদ্বেষী ও ইসরাইলবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে- এমন ১২ জন ব্রিটিশ এমপিকে ও কয়েকজন ব্রিটিশ নাগরিককে ইসরাইলে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে। 

ইসরাইলি পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিয়ন সার বর্তমান যুক্তরাজ্য সরকারকে বৈরী আখ্যা দিয়ে বলেছেন, ‘তারা ইসরাইলের বিরুদ্ধে কাজ করছে।’ তার অভিযোগ, আগামী মাসে ইসরাইলে অনুষ্ঠেয় সাধারণ নির্বাচনের আগে যুক্তরাজ্য সরকার দেশটির নির্বাচনি  প্রক্রিয়ায় ‘নির্লজ্জ হস্তক্ষেপ’ করছে।

বিবিসির কূটনৈতিক প্রতিবেদক পল অ্যাডামস বলেন, অধিকৃত পশ্চিম তীরের ইসরাইলি বসতিগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য নিষিদ্ধ করার বিষয়ে ব্রিটিশ সরকারের সিদ্ধান্তের প্রতি ইসরাইলের তীব্র প্রতিক্রিয়া প্রমাণ করে যে, বর্তমান মুহূর্তটি কতটা গুরুত্বপূর্ণ। ইসরাইলের ক্ষোভের মূল লক্ষ্য ছিল ব্রিটেন। তবে ১২টি দেশ যে যৌথভাবে এই পদক্ষেপ নিয়েছে, সেই বিষয়টি ইসরাইলের ক্ষোভের মাত্রাকে আরও বাড়িয়েছে।

লন্ডনের কর্মকর্তারা আগে থেকেই জানতেন যে ইসরাইল-ফিলিস্তিন ইস্যুতে নীতির এমন নাটকীয় পরিবর্তন বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করবে। কিন্তু ইসরাইলের প্রতিক্রিয়ার গতি ও তীব্রতা দেখে তারা কিছুটা হতবাকই হয়েছেন। 

পূর্ব জেরুজালেমে যুক্তরাজ্যের কনস্যুলেট বন্ধ করে দেওয়া, যা পশ্চিম তীরের সেবা প্রদান ও রামাল্লায় ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রক্ষার কাজ করত এবং ইন্টারন্যাশনাল গাজা সাপোর্ট সেন্টার থেকে ব্রিটিশ প্রতিনিধিদের প্রত্যাহার করে নেওয়া অত্যন্ত বৈরী পদক্ষেপ।

সম্প্রতি ব্রিটেন আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের ২০২৪ সালের সেই রায়ের সঙ্গে একমত পোষণ করে, যেখানে বলা হয়েছে-ইসরাইলের সামরিক উপস্থিতিসহ সামগ্রিক দখলদারত্বই বেআইনি। এর প্রেক্ষিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড জানান, সরকারের অর্থনৈতিক সম্পর্কগুলোতেও এ অবস্থানের প্রতিফলন থাকা আবশ্যক

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম