হোয়াইট হাউসের সতর্কবার্তা
‘২০২৯ সাল পর্যন্ত চলতে পারে ইরান যুদ্ধ’
Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৪৭ এএম
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে তার শীর্ষ উপদেষ্টারা ব্যক্তিগতভাবে সতর্ক করেছেন যে, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ তার পুরো মেয়াদজুড়ে চলতে পারে। এমনকি ২০২৯ সালের জানুয়ারিতে পরবর্তী মার্কিন প্রেসিডেন্টের শপথ গ্রহণের পরও সংঘাত অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।
প্রতিবেদনে মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বলা হয়, হোয়াইট হাউসের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা ট্রাম্পকে জানিয়েছেন যে অর্থনৈতিক অবরোধ ও সামরিক চাপ সত্ত্বেও তেহরান দীর্ঘ সময় প্রতিরোধ চালিয়ে যেতে সক্ষম হতে পারে।
এই মূল্যায়ন ট্রাম্পের প্রকাশ্য বক্তব্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। কারণ ট্রাম্প সম্প্রতি দাবি করেছিলেন, নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের (মিডটার্ম) পরপরই যুদ্ধের অবসান হবে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওসহ অন্যান্য জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ওভাল অফিস ও সিচুয়েশন রুমে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছেন।
তাদের মতে, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ ও সামরিক কৌশল দেশটিকে চাপে ফেললেও তেহরান পুরোপুরি নতি স্বীকার করবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। ফলে সংঘাত ২০২৯ সাল পর্যন্তও গড়াতে পারে।
এ বিষয়ে রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধে হোয়াইট হাউস তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
ট্রাম্পের কৌশলের পক্ষে হোয়াইট হাউস
ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর প্রতিবেদনের পর হোয়াইট হাউসের এক মুখপাত্র ট্রাম্প প্রশাসনের ইরান নীতির পক্ষে অবস্থান নেন।
তিনি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করেছেন এবং ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী নৌ অবরোধ ও কঠোর নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে দেশটির অর্থনীতিকে চরম চাপে ফেলেছেন।’
তবে তিনি যোগ করেন, ট্রাম্প কখন কী করবেন, তা একমাত্র তিনিই জানেন।
নির্বাচনের পরই যুদ্ধ শেষ হবে: ট্রাম্প
বুধবার ডালাসে রিপাবলিকান ন্যাশনাল কনভেনশনে যাওয়ার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি নির্বাচনের পরপরই যুদ্ধ শেষ হবে। তারা আর বেশিদিন টিকে থাকতে পারবে না।’
ট্রাম্পের দাবি, ইরান মার্কিন নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক চাপের মুখে দীর্ঘদিন প্রতিরোধ চালিয়ে যাওয়া তাদের পক্ষে সম্ভব হবে না। আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
আলোচনার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি ট্রাম্প
ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনার সুযোগ এখনো রয়েছে, যদিও সেটি তার প্রথম পছন্দ নয়। তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, আলোচনা হতে পারে। তবে এটি এমন কিছু নয়, যা আমরা এখন সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছি।’
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত সপ্তম মাসে প্রবেশ করেছে। সাম্প্রতিক সামরিক পাল্টাপাল্টি হামলাগুলোও দ্রুত যুদ্ধ শেষ হওয়ার কোনো ইঙ্গিত দিচ্ছে না।
হরমুজ প্রণালির কাছে উত্তেজনা
বুধবার ইরান দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্র পাঁচটি ইরানি তেলবাহী ট্যাংকার ডুবিয়ে দেওয়ার পর তারা হরমুজ প্রণালির কাছে ১০টি জাহাজে হামলা চালিয়েছে। এ ছাড়া ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড করপস (আইআরজিসি) যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র জর্ডানের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে বলে খবর প্রকাশ করেছে সিবিএস নিউজ।
প্রতিবেদনে বলা হয়, জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে হামলায় একটি এ-১০ থান্ডারবোল্ট যুদ্ধবিমান গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং কয়েকটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমানও আংশিক ক্ষতির শিকার হয়। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়াল
নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার পর বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও প্রভাব পড়েছে। ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার অতিক্রম করেছে, যা জুলাইয়ের পর প্রথম। হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে অনিশ্চয়তা ও যুদ্ধের বিস্তৃতি নিয়ে উদ্বেগের কারণেই দাম বেড়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তবে ট্রাম্পের দাবি, যুদ্ধ শেষ হলে নির্বাচনের পর তেলের দামও দ্রুত কমে আসবে।
রাজনৈতিক চাপেও ট্রাম্প
ইরান যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় রাজনৈতিকভাবেও চাপে পড়েছেন ট্রাম্প। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও যুদ্ধ নিয়ে জনঅসন্তোষের কারণে তার জনপ্রিয়তা সাম্প্রতিক সময়ে রেকর্ড নিম্ন পর্যায়ে নেমে গেছে বলে বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে তা নভেম্বরের নির্বাচনে হোয়াইট হাউসের জন্য বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
ইরান পরাজয়ের কাছাকাছি: নেতানিয়াহু
এদিকে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, ইরান পরাজয়ের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। সিরিয়ার মাউন্ট হারমন এলাকায় এক বক্তব্যে তিনি বলেন, ইসরাইল তার সীমান্তের কাছে কোনো ‘সন্ত্রাসী বাহিনীকে’ ঘাঁটি গড়তে দেবে না।
নেতানিয়াহুর ভাষ্য, সীমান্তবর্তী এলাকায় শত্রুপক্ষের অবস্থান ঠেকিয়ে দেওয়াই ইসরাইলের অন্যতম বড় অর্জন, যা তিনি ‘পুনরুত্থানের যুদ্ধ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

