ভারতের ট্রেনে কেন নিষিদ্ধ শুকনো নারিকেল? জানুন কারণ
Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:১৪ পিএম
শুকনো নারিকেলের বাইরের আঁশযুক্ত খোসা সহজেই আগুন ধরাতে পারে।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নারিকেল সাধারণত রান্না, ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও বিভিন্ন উৎসবে বহুল ব্যবহৃত একটি পরিচিত উপাদান। তাই অনেকের কাছেই এটি নিরীহ ও নিরাপদ বলে মনে হতে পারে। তবে ট্রেনে ভ্রমণের ক্ষেত্রে শুকনো নারিকেল বহনের ওপর বিশেষ বিধিনিষেধ রয়েছে ভারতীয় রেলওয়ের।
ভারতীয় রেলওয়ের মতে, শুকনো নারিকেলের বাইরের আঁশযুক্ত খোসা সহজেই আগুন ধরে যেতে পারে। এই শুকনো তন্তুগুলো অত্যন্ত দাহ্য হওয়ায় সামান্য স্ফুলিঙ্গ বা আগুনের সংস্পর্শে এলেই দ্রুত জ্বলে উঠতে পারে। ট্রেনের ভেতরে যেখানে বিপুল সংখ্যক যাত্রী ও লাগেজ কাছাকাছি অবস্থানে থাকে, সেখানে আগুন ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি অনেক বেশি।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের উদ্বেগ মূলত নারিকেলের ভেতরের অংশ নিয়ে নয়, বরং এর শুকনো আঁশযুক্ত বাইরের আবরণ নিয়ে। এ কারণে খোসাসহ শুকনো নারিকেল বা ‘কোপরা’কে নিরাপত্তার স্বার্থে ঝুঁকিপূর্ণ সামগ্রীর তালিকায় রাখা হয়েছে।
শুধু শুকনো নারিকেলই নয়, যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারতীয় রেলওয়ে আরও বেশ কিছু দাহ্য ও বিপজ্জনক বস্তু বহনে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে গ্যাস সিলিন্ডার, কেরোসিন, আতশবাজি, বিস্ফোরক দ্রব্য, দাহ্য রাসায়নিক পদার্থ এবং অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ উপকরণ।
রেলওয়ের নিরাপত্তা বিধি অনুযায়ী, অনুমতি ছাড়া কোনো দাহ্য বা বিপজ্জনক বস্তু বহন করলে যাত্রীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। অপরাধের ধরন ও গুরুত্ব অনুযায়ী জরিমানা, এমনকি কারাদণ্ডও হতে পারে। এছাড়া নিষিদ্ধ সামগ্রীর কারণে রেলওয়ের সম্পদের ক্ষতি বা যাত্রীদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে অতিরিক্ত শাস্তির মুখোমুখিও হতে পারেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি।
দেখতে সাধারণ ফল হলেও, খোসাসহ শুকনো নারিকেল ট্রেনের মতো জনবহুল পরিবেশে সম্ভাব্য আগুনের ঝুঁকির কারণ হতে পারে। তাই যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করেই এ ধরনের বিধিনিষেধ কার্যকর করেছে ভারতীয় রেলওয়ে।

