সৌদি মিত্রদের চাপেও থামছে না হুথিদের অগ্রযাত্রা
Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৪৫ পিএম
হুথি বিদ্রোহীরা মাখা শহর দখলের ঘোষণা দিয়েছে। সংগৃহীত ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
লোহিত সাগরের উপকূলীয় শহর আল-মাখা দখলে নেওয়ার দাবি করেছে ইয়েমেনের বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুথি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তিনজন ইয়েমেনি সরকারি কর্মকর্তার বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স। একই সঙ্গে সৌদি মিত্রদের চাপ বাড়লেও হুথিদের অগ্রযাত্রা থামছে না।
নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক উলফগ্যাং পুস্তাই আল-জাজিরাকে জানিয়েছেন, ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করা হলেও এতে দেশটির মাটিতে তাদের অগ্রযাত্রায় বড় কোনো পরিবর্তন আসবে না।
পুস্তাই বলেন, হুথিদের ওপর ইরানের ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। তবে হুথিরা কেবল ইরানের প্রক্সি হিসেবে কাজ করে না; নিজেদের স্বার্থ ও লক্ষ্যকে সামনে রেখে তারা নিজেদের যুদ্ধও চালিয়ে যাচ্ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের ভূখণ্ডে হুতিদের হামলা অব্যাহত থাকলে তাদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে ইরানকে সতর্ক করেছে পাকিস্তান। একই সঙ্গে সৌদি আরব ও তুরস্কের সঙ্গে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা চুক্তি প্রয়োজনে কার্যকর হতে পারে বলেও জানানো হয়েছে।
পুস্তাইয়ের মতে, পাকিস্তান ও তুরস্ক যৌথভাবে ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করলে তা তেহরানের নেতাদের ওপর প্রভাব ফেলবে। তবে বাস্তবে এর প্রভাব খুবই সীমিত হতে পারে।
এদিকে হুতিদের অগ্রযাত্রা নিয়ে আরও বড় উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন এই প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক। হুথিরা লোহিত সাগরের উপকূলীয় শহর আল-মাখা বা মোচা দখল করেছে—এমন খবর সত্য হলে এটিকে বড় ধরনের সামরিক অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন তিনি।
আল জাজিরাকে পুস্তাই বলেন, হুথিরা সরকারি বাহিনীর চেয়েও বেশি অগ্রসর হচ্ছে। তারা যদি তাইজ ও আল-মাখার মধ্যকার সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করতে পারে, তাহলে তা ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর জন্য ‘খুবই বড় ধাক্কা’ হবে।
তার মতে, হুথিরা যদি মোচা দখলে নিতে পারে, তাহলে লোহিত সাগরের তীরে ইয়েমেনের প্রায় পুরো উপকূল তাদের নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে। এর ফলে গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দেব প্রণালি নিয়ন্ত্রণ করাও তাদের জন্য সহজ হয়ে যাবে।
পুস্তাই বলেন, হরমুজ প্রণালির প্রস্থ যেখানে প্রায় ৫০ কিলোমিটার, সেখানে বাব আল-মান্দেব প্রণালি মাত্র প্রায় ২০ কিলোমিটার প্রশস্ত। ফলে হুতিরা চাইলে ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন ব্যবহার না করেও শুধু কামান দিয়ে প্রণালির ওপর দিয়ে চলাচলকারী জাহাজে হামলা চালাতে পারে।
এ ধরনের পরিস্থিতি সৌদি আরবের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক নৌ-বাণিজ্যের জন্যও বড় ধরনের আঘাত হবে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।
তবে হুতিদের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকা ইতোমধ্যে বাইরের সহায়তা থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন। দীর্ঘ সময় ধরে নিজেদের হাতে থাকা অস্ত্র ও সামরিক সক্ষমতা ব্যবহার করেই যুদ্ধ চালিয়ে আসছে তারা। তাই ইরানের ওপর সৌদি মিত্রদের চাপ বাড়লেও হুতিদের সামরিক কার্যক্রম থামানো সহজ হবে না বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

