মোখার পর ধুবাবের দিকে এগোচ্ছে হুথিরা, বাব আল-মান্দেব ঘিরে আতঙ্ক
Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:২৪ পিএম
হুথিদের লক্ষ্য বাব আল-মান্দেব দখল। সংগৃহীত ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী মোখা হুথিদের দখলে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ইয়েমেনের একাধিক সূত্র। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রয়টার্স জানিয়েছে, হুথিদের এই অগ্রযাত্রার বিষয়টি দেশটির চারটি সরকারি সামরিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। বিদ্রোহীরা এখন প্রণালির কাছে থাকা ধুবাব অঞ্চল দখলে নেওয়ার চেষ্টা করছে।
এদিকে মোখা দখলের মধ্য দিয়ে লোহিত সাগরের দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত কৌশলগত বাব আল-মান্দেব প্রণালির ওপর প্রভাব বাড়ানোর পথে আরও এক ধাপ এগিয়েছে হুথিরা। প্রণালিটি লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগর ও ভারত মহাসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে এবং বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হিসেবে বিবেচিত।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, হুথিরা মোখার পাশাপাশি উপকূলীয় আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকার দিকে অগ্রসর হচ্ছে। তাদের লক্ষ্য ইয়েমেনের পুরো লোহিত সাগর উপকূলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া। সরকারি বাহিনী ও হুথিদের মধ্যে তীব্র লড়াইয়ের কারণে ইয়েমেনে ২০২২ সালের যুদ্ধবিরতির পর সবচেয়ে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
মোখা শহরে হুথিদের প্রবেশের কথা স্থানীয় বাসিন্দা ও চিকিৎসকরাও জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, হুথি যোদ্ধারা শহরের বিভিন্ন সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। আতঙ্কে কিছু বাসিন্দা দক্ষিণের দিকে পালিয়ে যাচ্ছে।
এদিকে সৌদি আরব হুথিদের বিরুদ্ধে বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। হুথিদের অগ্রযাত্রা ঠেকাতে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীও পাল্টা হামলা চালাচ্ছে। ফলে দীর্ঘদিনের তুলনামূলক স্থিতাবস্থা ভেঙে ইয়েমেনে নতুন করে বড় যুদ্ধ শুরু হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সবচেয়ে বড় উদ্বেগ বাব আল-মান্দেব প্রণালি নিয়ে। মোখা থেকে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ খুব বেশি দূরে নয়। হুথিরা যদি আরও দক্ষিণে ধুবাব ও প্রণালির কাছের এলাকাগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে, তাহলে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের ওপর তাদের চাপ আরও বাড়তে পারে।
এর ফলে লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব দিয়ে তেল ও পণ্য পরিবহন আরও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। বিশেষ করে এমন সময়ে যখন হরমুজ প্রণালিও সংঘাতের কারণে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত।
রয়টার্স জানিয়েছে, দুই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের সংকটের কারণে ব্রেন্ট তেলের দাম ইতোমধ্যে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে রয়েছে।

