হরমুজে ফের মার্কিন নৌযানে হামলা ইরানের আইআরজিসির
Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৪৯ পিএম
হরমুজ প্রণালি। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
হরমুজ প্রণালিতে আবারও মার্কিন সামরিক নৌযান লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। গত সাত দিনের মধ্যে এটি তৃতীয়বারের মতো মার্কিন নৌযানে হামলার ঘটনা বলে জানিয়েছে তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাতে এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, হরমুজ প্রণালির ওমান উপকূলসংলগ্ন এলাকায় দুটি চালকবিহীন মার্কিন সামরিক নৌযানকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। সংস্থাটির দাবি, হামলার শিকার নৌযান দুটি যুক্তরাষ্ট্রের সামুদ্রিক ড্রোন ছিল।
এদিকে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সামুদ্রিক নজরদারি সংস্থা ইউনাইটেড কিংডম মেরিটাইম অপারেশনস ট্রেড (ইউকেএমটিও) পৃথক এক বিবৃতিতে জানায়, বৃহস্পতিবার গ্রিনিচ মান সময় সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় রাত ১টা ১০ মিনিট) হরমুজ প্রণালিতে দুটি মার্কিন নৌযানে অন্তত চারটি ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন আঘাত হানে। এতে একটি নৌযানে আগুন ধরে যায়। অন্য নৌযানটির ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
ইউকেএমটিওর তথ্য অনুযায়ী, হামলার স্থানটি ওমানের মুসান্দাম প্রদেশের রাজধানী আল খাসাব উপকূল থেকে প্রায় ৭ দশমিক ৪ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক নৌপথ হিসেবে পরিচিত ১৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ হরমুজ প্রণালি পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরকে সংযুক্ত করেছে। বৈশ্বিক জ্বালানি পণ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।
ভৌগোলিকভাবে প্রণালিটি ইরানের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় অবস্থিত। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত শুরুর আগে এখানে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক ছিল। তবে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইরানের আরোপিত বিধিনিষেধ এবং ইরানি বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা অবরোধের কারণে হরমুজ হয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।
এর আগে ৬ ও ৭ সেপ্টেম্বর হরমুজ প্রণালিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাধ্যমে মার্কিন নৌবাহিনীর দুটি ডেস্ট্রয়ার যুদ্ধজাহাজ অচল করে দেওয়ার দাবি করেছিল আইআরজিসি। পরে ৯ সেপ্টেম্বর আরও দুটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজে হামলার ঘটনা ঘটে। সর্বশেষ বৃহস্পতিবারের হামলার মধ্য দিয়ে এক সপ্তাহে তৃতীয়বারের মতো মার্কিন নৌ-সম্পদকে লক্ষ্যবস্তু করল ইরানের এই অভিজাত বাহিনী।

