ইরান যুদ্ধ
ইউরোপে পেট্রোলের দাম বেড়েছে ২৪ শতাংশ
Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৪৩ পিএম
ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) দেশগুলোতে পেট্রোলের দাম গড়ে ২৪ শতাংশ এবং ডিজেলের দাম ৩৩ শতাংশ বেড়েছে। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) দেশগুলোতে পেট্রোলের দাম গড়ে ২৪ শতাংশ এবং ডিজেলের দাম ৩৩ শতাংশ বেড়েছে। ইউরোপীয় কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায় জ্বালানির দামও দ্রুত বেড়েছে।
ইউরোপীয় কমিশনের সাপ্তাহিক তেলবাজার প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর আগে ২৩ ফেব্রুয়ারি ইইউতে করসহ প্রতি লিটার ইউরো-সুপার ৯৫ পেট্রোলের গড় দাম ছিল ১.৬৪ ইউরো। গত ৭ সেপ্টেম্বর তা বেড়ে দাঁড়ায় ২.০৪ ইউরোতে।
ডিজেলের দাম আরও দ্রুত বেড়েছে। একই সময়ে প্রতি লিটার ডিজেলের গড় দাম ১.৫৯ ইউরো থেকে বেড়ে ২.১১ ইউরোতে পৌঁছেছে, অর্থাৎ প্রায় ৩৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত তীব্র হওয়ায় তেল উৎপাদন কেন্দ্র ও জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলার আশঙ্কা বেড়েছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি দিয়ে অপরিশোধিত তেল ও পরিশোধিত জ্বালানি পরিবহণ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
সংঘাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেপ্টেম্বরে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম আবার ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠে যায়। এর প্রভাব ইউরোপের খুচরা জ্বালানি বাজারেও পড়ে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোপে ডিজেলের সরবরাহ তুলনামূলকভাবে কম থাকায় পেট্রোলের চেয়ে ডিজেলের দাম বেশি হারে বেড়েছে।
ইইউভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে পেট্রোলের দাম সবচেয়ে বেশি বেড়েছে ডেনমার্ক ও ফিনল্যান্ডে।
- ডেনমার্কে পেট্রোলের দাম প্রায় ৩৬ শতাংশ বেড়ে প্রতি লিটার ১.৯৪ থেকে ২.৬৩ ইউরো হয়েছে।
- ফিনল্যান্ডে দাম প্রায় ৩৬ শতাংশ বেড়ে **১.৭১ থেকে ২.৩২ ইউরো** হয়েছে।
- চেকিয়া ও পোল্যান্ডে দাম প্রায় ৩২ শতাংশ বেড়েছে।
- লিথুয়ানিয়ায় বেড়েছে প্রায় ২৯ শতাংশ।
ডিজেলের দাম বেড়েছে সর্বোচ্চ ৪৭ শতাংশ
ডিজেলের দাম সবচেয়ে বেশি বেড়েছে বুলগেরিয়ায়। দেশটিতে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম প্রায় ৪৭ শতাংশ বেড়ে ১.২৩ থেকে ১.৮১ ইউরোতে উঠেছে।
এরপর রয়েছে—
- চেকিয়া: প্রায় ৪৪ শতাংশ
- ফিনল্যান্ড: প্রায় ৪২ শতাংশ
- পোল্যান্ড: প্রায় ৩৯ শতাংশ
- বেলজিয়াম: প্রায় ৩৮ শতাংশ
পেট্রোল ও ডিজেল—দুই জ্বালানির দাম বৃদ্ধির দিক থেকেই চেকিয়া, ফিনল্যান্ড ও পোল্যান্ড সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে।
দেশভেদে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির পার্থ্যের পেছনে করহার, মুদ্রার বিনিময়মূল্যের ওঠানামা, তেল শোধনাগার ও জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থা এবং স্থানীয় বাজার পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
ইউরোপীয় কমিশন গত ৮ সেপ্টেম্বর জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখনো অস্থিতিশীল। ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে তেল ও পরিশোধিত জ্বালানির বাজারে, বিশেষ করে ডিজেল ও জেট ফুয়েলের দামে, বড় ধরনের ওঠানামা অব্যাহত রয়েছে।
তবে কমিশনের মতে, এই মুহূর্তে ইইউর তেল সরবরাহ নিরাপত্তার জন্য তাৎক্ষণিক কোনো বড় হুমকি নেই। কিন্তু সংঘাত আরও দীর্ঘ হলে আগামী সপ্তাহ ও মাসগুলোতে তেলের বাজারে সরবরাহ সংকট ও দাম বাড়ার চাপ আরও তীব্র হতে পারে।
তথ্যসূত্র: আনাদোলু


