মধ্যপ্রাচ্যে ‘সর্বোচ্চ সংযমের’ আহ্বান ব্রিকস নেতাদের
Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৫৮ পিএম
ভারতে অনুুুুুুষ্ঠিত সম্মেলনে ব্রিকসের নেতারা। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে ‘সর্বোচ্চ সংযম’ দেখানোর আহ্বান জানিয়েছে ব্রিকসের ১১ সদস্য দেশ। চীন, রাশিয়া, ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ সদস্য দেশগুলো শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) এ বিষয়ে একটি যৌথ বিবৃতি দিয়েছে।
ভারতের নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনের প্রথম দিনে বিবৃতিটি প্রকাশ করা হয়। খবর দ্য ডনের
এতে, সংঘাত আরও বাড়তে পারে—এমন কোনো পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার আহ্বানও জানানো হয়। একই সঙ্গে বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা, রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব এবং বাণিজ্য, জ্বালানি ও নৌ চলাচলের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্য ও পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। তাই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ করে তুলতে পারে—এমন পদক্ষেপ এড়িয়ে সর্বোচ্চ সংযম দেখাতে হবে।
ব্রিকসের ১১ দেশ পারমাণবিক স্থাপনায় হামলারও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) নিরাপত্তা ব্যবস্থার আওতায় থাকা পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছে তারা।
বিবৃতিতে বলা হয়, বেসামরিক অবকাঠামো এবং আইএইএ’র নজরদারির আওতায় থাকা শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনায় ইচ্ছাকৃত হামলা গভীর উদ্বেগের বিষয়। যুদ্ধের সময়ও পারমাণবিক নিরাপত্তা ও সুরক্ষা ব্যবস্থা বজায় রাখতে হবে, যাতে মানুষ ও পরিবেশ ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পায়।
এ ছাড়া গাজা, লেবানন, সুদান ও সিরিয়ার সংকট নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে ব্রিকস। চারটি দেশেই যুদ্ধবিরতি এবং মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর সুযোগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
ব্রিকসের এই যৌথ বিবৃতি গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ, এর আগে মে মাসে নয়াদিল্লিতে ব্রিকসের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুতে সদস্য দেশগুলোর তীব্র মতপার্থক্যের কারণে কোনো যৌথ বিবৃতি দেওয়া সম্ভব হয়নি।
এবারের সম্মেলনে ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতপার্থক্য কমাতে কূটনৈতিক তৎপরতা চালানো হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ব্রিকসের এই যৌথ অবস্থান যুদ্ধের গতিপথ তাৎক্ষণিকভাবে বদলে দেবে—এমন সম্ভাবনা কম। তবে মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও সদস্য দেশগুলো আলোচনা চালিয়ে যেতে এবং একটি সমন্বিত অবস্থান তুলে ধরতে চাইছে, এটি তারই ইঙ্গিত।
ভারতে নিযুক্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের সাবেক রাষ্ট্রদূত সুনজয় সুধীর বলেন, যুদ্ধ বন্ধের মূল চাবিকাঠি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হাতে। তবে ভারত এমন একটি পরিবেশ তৈরি করেছে, যেখানে অঞ্চলটির দেশগুলো একই টেবিলে বসে কঠিন বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যেতে পারছে।


