Logo
Logo
×
   

Advertisement

আন্তর্জাতিক

বড় পরীক্ষার মুখে ইমরান খান, রাজনৈতিক ভবিষ্যত কোন দিকে?

Advertisement

Icon

যুগান্তর ডেস্ক

প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:১৮ পিএম

বড় পরীক্ষার মুখে ইমরান খান, রাজনৈতিক ভবিষ্যত কোন দিকে?

Advertisement

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)-এর প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে বন্দি ৭৩ বছর বয়সি এ নেতার স্বাস্থ্য পরিস্থিতির অবনতির পর পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট তাকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছে।

২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাগারে থাকা ইমরান খান বর্তমানে দুর্নীতির মামলায় ১৪ বছরের সাজা ভোগ করছেন। তবে তিনি ও তার সমর্থকরা দাবি করে আসছেন, এসব মামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। 

২০২২ সালের এপ্রিলে পার্লামেন্টে অনাস্থা ভোটে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে ইমরান খান ও তার দল পিটিআইযের সঙ্গে রাষ্টীয় প্রতিষ্ঠানের সম্পর্ক উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সেনাবাহিনী তাকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করেছে-এমন অভিযোগ করলেও সেনাবাহিনী তা অস্বীকার করেছে।

কারাগারে থেকেও ইমরান খান পাকিস্তানের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ধরে রেখেছেন। ২০২৪ সালের নির্বাচনে তার সমর্থিত প্রার্থীরা উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। 

চিকিৎসার সিদ্ধান্ত কি রাজনৈতিক সমঝোতার ইঙ্গিত?

ইমরান খানকে ইসলামাবাদের শিফা হাসপাতালে স্থানান্তরের সিদ্ধান্তের পরে তার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। 

তবে ইমরান খানের উপদেষ্টা সায়েদ জুলফি বুখারি জানিয়েছেন, এ সিদ্ধান্ত সরকারের সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক সমঝোতার ফল নয়। তার দাবি, এটি শুধু সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ এবং তারা এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ইমরান খানের সঙ্গে কোনো ধরনের সমঝোতা হয়নি।

অন্যদিকে পাকিস্তানের আইনমন্ত্রী আজম নাজির তারার জানিয়েছেন, সরকার এ সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ  করার কথা বিবেচনা করেছে। তার দাবি, সাজাপ্রাপ্ত বন্দির চিকিৎসা কারাগারের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

স্বাস্থ্য সংকটের রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ

ইমরান খানের স্বাস্থ্য পরিস্থিতি এখন শুধু  চিকিৎসার বিষয় নয়, এটি রাজনৈতিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

পিটিআইয়ের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, কারাগারে তিনি পর্যাপ্ত চিকিৎসা পাচ্ছিলেন না । 

দলের অভিযোগ, তাকে দীর্ঘ সময় বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রাখা হয়েছে, যার কারণে তার শারীরিক ও মানসিক অবস্থার অবনতি হয়েছে।

পিটিআই জানিয়েছে, ইমরান খান দৃষ্টিশক্তি সমস্যা, রক্তচাপের ওঠানামা এবং পরিবারের সঙ্গে সীমিত যোগাযোগজনিত উদ্বেগের মতো সমস্যায় ভুগছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন কারাবাস ও বয়সের কারণে তার স্বাস্থ্যের অবনতি হলে তা পাকিস্তানের রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক রুমি রাজা বলেন, বিষয়টি শুধু চিকিৎসার নয়, বরং আস্থা ও স্বচ্ছলতার প্রশ্নও। পিটিআই ও ইমরান খানের পরিবার বারবার চিকিৎসা ব্যবস্থার স্বচ্ছলতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। 

সুপ্রিম কোর্ট একটি মেডিকেল বোর্ড গঠনের নির্দেশ দিয়েছে, যেখানে ইমরান খানের বোন ডা. উজমা খান এবং ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. ফয়সাল সুলতানাও থাকবেন।

পিটিআই ও ইমরান খানের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ

দীর্ঘ কারাবাসের কারণে ইমরান খান ও তার দল পিটিআই এখন বড় রাজনৈতিক পরীক্ষার মুখে। প্রশ্ন উঠেছে, দলের প্রধান নেতার সরাসরি উপস্থিতি ছাড়া পিটিআই কতটা জনসমর্থন ধরে রাখতে পারবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক কামার চিমার মতে, ইমরান খানের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ সহজ নয় এবং তাকে ভবিষ্যতে রজনৈতিক সমঝোতার পথে যেতে হতে পারে।

তবে ইমরান খানের জনপ্রিয়তার কারণে তাকে পাকিস্তানের রজনৈতিক সমীকরণ থেকে পুরোপুরি সরিয়ে দেওয়া কঠিন বলে মনে করছেন অনেক বিশ্লেষক।

রাজা রুমি বলেন, রাষ্ট্রের জন্য পরিস্থিতি একটি দ্বন্দ্ব তৈরি করেছে। ইমরান খানকে কারাগারে রাখলেও তার রাজনৈতিক প্রভাব কমছে না, আবার বড় প্রভাবের সমঝোতা ছাড়া তাকে মুক্তি দিলে নতুন করে রাজনৈতিক সংঘাত তৈরি হতে পারে। 

বিশ্লেষকদের মতে, কোনো দীর্ঘমেয়াদী সমঝোতা হলে তাতে আইনি সুবিধা, পিটিআইয়ের রাজনৈতিক বিস্তার এবং ভবিষ্যতে ইমরান খানের মুক্তির মতো বিষয় থাকতে পারে। তবে দুই পক্ষের মধ্যে গভীর অবিশ্বাস এ সম্ভাবনার সবচেয়ে বড় বাধা।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম