Logo
Logo
×
   

Advertisement

আন্তর্জাতিক

ইরানে ভূপাতিত যুদ্ধবিমান

দুই মার্কিন সেনাকে ‘ভুয়া’ সাক্ষাৎকার দিতে চাপ দিয়েছিলেন হেগসেথ

Advertisement

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৩১ এএম

দুই মার্কিন সেনাকে ‘ভুয়া’ সাক্ষাৎকার দিতে চাপ দিয়েছিলেন হেগসেথ

পিট হেগসেথ। সংগৃহীত ছবি

Advertisement

এ বছরের এপ্রিলে ইরানের আকাশে ভূপাতিত হওয়া মার্কিন এয়ার ফোর্সের একটি এফ-১৫ই যুদ্ধবিমানের দুই সদস্যকে ‘ভুয়া’ সাক্ষাৎকার দিতে চাপ দেওয়া হয়েছিল। মার্কিন গণমাধ্যম সিবিএসের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘৬০ মিনিটস’-এ সাক্ষাৎকার দেওয়ার জন্য চাপ দিয়েছিলেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ও পেন্টাগনের অন্যান্য রাজনৈতিক কর্মকর্তারা। 

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) একাধিক সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে সিএনএন। ‘৬০ মিনিটস’-এর নতুন মৌসুমের প্রথম পর্বে ওই সাক্ষাৎকার প্রচার হওয়ার কথা রয়েছে।

সিবিএস জানিয়েছে, সাক্ষাৎকারে অংশ নিতে রাজি হওয়া মার্কিন সেনাকে শুধু ‘ব্রাভো’ নামে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হবে। তিনি ওই যুদ্ধবিমানের ওয়েপনস সিস্টেমস অফিসার ছিলেন এবং কর্নেল পদমর্যাদার কর্মকর্তা। ইরানের পাহাড়ি এলাকায় প্রায় দুই দিন একা অবস্থান করার পর তাকে উদ্ধার করা হয়। এটি হবে ওই কর্মকর্তার ঘটনা ও উদ্ধার অভিযানের বিষয়ে প্রথম প্রকাশ্য বক্তব্য।

সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রথমদিকে দুই সেনাই সাক্ষাৎকারে অংশ নিতে অনিচ্ছুক ছিলেন। তাদের আশঙ্কা ছিল, কার্যত তাদের ওই সাক্ষাৎকার দিতে নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। পরে প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথ উদ্ধার হওয়া দুই সেনার সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে বৈঠক করেন বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।

শেষ পর্যন্ত ‘ব্রাভো’ সাক্ষাৎকার দিতে রাজি হন। তবে অপর সেনা, ‘আলফা’, এতে অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানান। ওয়াশিংটন এখনো তাদের কারও পরিচয় প্রকাশ করেনি।

সিএনএনের দাবি, এই ঘটনাটি দেখিয়েছে—ইরানের সঙ্গে অজনপ্রিয় যুদ্ধকে ঘিরে জনমত ও বয়ান নিজেদের অনুকূলে গড়ে তুলতে হেগসেথ কীভাবে ওই দুই সেনার বেঁচে থাকা ও উদ্ধার হওয়ার নাটকীয় ঘটনাকে কাজে লাগাতে চেয়েছেন।

তবে পেন্টাগন এ অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র শন পারনেল সিএনএনকে বলেছেন, প্রতিবেদনটি ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’।

পারনেল বলেন, ‘সাক্ষাৎকারে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে প্রত্যেক সেনার নিজস্ব ছিল—কারণ এটি তাদের গল্প।’

তিনি আরও বলেন, ‘সিএনএনও উল্লেখ করেছে, একজন সেনা সাক্ষাৎকারে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং অন্যজন নেননি। পাশাপাশি, অপারেশনাল নিরাপত্তা, গোয়েন্দা তথ্যের উৎস ও পদ্ধতি সুরক্ষিত রাখতে প্রতিরক্ষা বিভাগ সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করেছে।’

‘৬০ মিনিটস’-এর সাংবাদিক নোরাহ ও’ডনেল ওই প্রতিবেদন তৈরির সময় হেগসেথ, মার্কিন জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন এবং ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারেরও সাক্ষাৎকার নেন।

কীভাবে ভূপাতিত হয়েছিল যুদ্ধবিমানটি?

গত ৩ এপ্রিল ইরানের আকাশে মার্কিন এয়ার ফোর্সের এফ-১৫ই ‘স্ট্রাইক ঈগল’ যুদ্ধবিমানটি ভূপাতিত হয়। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর এটিই ছিল ইরানের হাতে ভূপাতিত প্রথম মার্কিন যুদ্ধবিমান।

বিমানটিতে থাকা দুই সেনাই প্যারাসুটে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ওই যুদ্ধ শুরু করেছিল ইরানের পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের হুমকি দূর করা এবং মধ্যপ্রাচ্যে দেশটির মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর নেটওয়ার্ক দুর্বল করার ঘোষিত লক্ষ্য নিয়ে।

যুদ্ধবিমানের পাইলটকে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই উদ্ধার করা হয়। কিন্তু ওয়েপনস সিস্টেমস অফিসার ইরানের দুর্গম এলাকায় আটকা পড়েন। তাকে উদ্ধারে মার্কিন বাহিনী ব্যাপক অভিযান শুরু করে। একই সময়ে ইরানি বাহিনীও তাকে খুঁজছিল।

ইসরাইল গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে মার্কিন উদ্ধার অভিযানকে সহায়তা করে। এমনকি নিখোঁজ মার্কিন সেনা যে এলাকায় অবস্থান করছেন বলে ধারণা করা হচ্ছিল, সেখানে হামলাও পিছিয়ে দেয় ইসরাইল।

পাহাড়ে একা ছিলেন প্রায় দেড় দিন

বিমান থেকে নামার সময় ওই ওয়েপনস সিস্টেমস অফিসার অচেতন হয়ে পড়েন এবং মাথায় আঘাত পান। ফলে প্রথমদিকে তিনি উদ্ধারকারী দলের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি।

পরে তিনি যোগাযোগ স্থাপন করতে সক্ষম হন। এরপর ইরানি বাহিনীর চোখ এড়িয়ে পাহাড়ি এলাকায় চলাচল করতে থাকেন। ইসরাইলি প্রতিবেদনের বরাতে জানা যায়, তিনি প্রায় ১০ থেকে ১২ কিলোমিটার পথ হেঁটে একটি পাহাড়ি ফাটলে লুকিয়ে ছিলেন এবং উদ্ধারের অপেক্ষা করছিলেন।

প্রায় ৩৬ ঘণ্টা পর মার্কিন বিশেষ বাহিনী আহত ওই কর্মকর্তার কাছে পৌঁছায়। তাকে উদ্ধারে ব্যাপক বিমান সহায়তা দেওয়া হয়।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তখন বলেছিলেন, ইরানি সেনারা বিপুল সংখ্যায় ওই মার্কিন সেনাকে খুঁজছিল এবং মার্কিন বাহিনী পৌঁছানোর সময় তারা তার অবস্থানের খুব কাছাকাছি চলে এসেছিল।

উদ্ধার অভিযানেও বড় বিপদ

ওই সেনাকে এবং উদ্ধারকারী দলকে ইরান থেকে বের করে আনার জন্য ব্যবহারের কথা ছিল দুটি মার্কিন পরিবহন বিমানের। কিন্তু প্রত্যন্ত একটি বিমানঘাঁটিতে গিয়ে বিমান দুটি আটকে পড়ে।

ইরানের হাতে বিমান দুটি চলে যাওয়ার আশঙ্কায় মার্কিন বাহিনী সেগুলো ধ্বংস করে দেয়। পরে বিকল্প বিমান এনে আহত কর্মকর্তাসহ উদ্ধারকারী দলকে ইরান থেকে বের করে আনা হয়।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম