Logo
Logo
×
   

Advertisement

আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক যুব উৎসব ২০২৬

সমতা ও সম্মানে নতুন বিশ্ব গড়ার আহ্বান পুতিনের

Advertisement

Icon

সাইফ আহমাদ, রাশিয়ার ইকাতেরিনবার্গ থেকে

প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:১৩ পিএম

সমতা ও সম্মানে নতুন বিশ্ব গড়ার আহ্বান পুতিনের

ভ্লাদিমির পুতিন। সংগৃহীত ছবি

Advertisement

সমতা, পারস্পরিক সম্মান ও স্বাধীনতার ভিত্তিতে নতুন বিশ্ব গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

তিনি বলেন, মানুষের ভাগ্য জাতীয়তা, অর্থ-সম্পদ, সামাজিক মর্যাদা কিংবা পারিবারিক পরিচয় দিয়ে নির্ধারিত হওয়া উচিত নয়। বিশ্বের প্রতিটি মানুষের জন্য ওষুধ, খাদ্য, পানি, জ্বালানি, শিক্ষা ও সর্বাধুনিক প্রযুক্তিতে সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাশিয়ার ইকাতেরিনবার্গে শুরু হওয়া আন্তর্জাতিক যুব উৎসব ২০২৬-এর উদ্বোধনী আয়োজনে ভিডিও বার্তায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা তরুণদের উদ্দেশে এসব কথা বলেন পুতিন।

প্রায় ১০ হাজার তরুণের অংশগ্রহণে শুরু হয়েছে এবারের আয়োজন। ভিডিও বার্তায় রুশ প্রেসিডেন্ট বলেন, প্রতিটি জাতির স্বাধীনভাবে নিজেদের পথ বেছে নেওয়ার অধিকার রয়েছে। কোনো দেশের উন্নয়নের পথ অন্য কারও চাপিয়ে দেওয়া উচিত নয়। একই সঙ্গে মানুষের মৌলিক অধিকার ও সুযোগ নিশ্চিত করাও জরুরি।

বিশ্বের মানুষের জন্য সমান সুযোগের ওপর গুরুত্ব দিয়ে পুতিন বলেন, প্রত্যেকের ওষুধ, খাদ্য, পানি, জ্বালানি ও শিক্ষার সুযোগ পাওয়া উচিত। সর্বাধুনিক প্রযুক্তিও শুধু নির্দিষ্ট কোনো দেশ বা গোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সমগ্র মানবজাতির জন্য উন্মুক্ত হওয়া প্রয়োজন।

নতুন প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, প্রযুক্তির আগমনে মানুষের জীবন দ্রুত বদলে যাচ্ছে। ভবিষ্যতে মানুষ কেমন বিশ্বে বসবাস করবে এবং এই পরিবর্তনের দিক কোন পথে যাবে সেটা নিয়ে তরুণদের ভাবতে হবে। এ ক্ষেত্রে বিশ্বের তরুণ প্রজন্মের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

তরুণদের পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বন্ধুত্ব, ন্যায়বিচার ও সম্মানের ওপর গুরুত্ব দেন পুতিন। তিনি বলেন, বন্ধুত্ব হলে তা শক্তিশালী ও দীর্ঘস্থায়ী হওয়া উচিত। আর প্রতিবেশী হলে একে অপরের প্রতি ন্যায়বিচার ও সম্মান নিশ্চিত করার চেষ্টা করতে হবে। রুশ ভাষার ‘মির’ শব্দটির অর্থের ব্যাখ্যাও তুলে ধরেন তিনি। 

পুতিন বলেন, ‘মির’ শব্দটি একই সঙ্গে বন্ধুত্ব, শান্তি ও সম্প্রীতি এবং বিশ্ব বা পৃথিবীকে বোঝায়। তার মতে, এই শব্দের মধ্যেই রাশিয়ার বহুজাতিক সমাজের বৈশিষ্ট্য এবং মানুষের মধ্যে সম্পর্কের ধারণা প্রতিফলিত হয়।

তরুণদের একসঙ্গে বিশ্ব পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়ে পুতিন বলেন, ‘এটাই আমাদের আকাঙ্ক্ষা, আমাদের কাজ এবং আমাদের স্বপ্ন। যদি তোমরা এসব আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে একমত হও, তাহলে একসঙ্গে বিশ্ব পরিবর্তন করি।’

রাশিয়ার বিভিন্ন প্রকল্পে তরুণদের অংশ নেওয়ার আহ্বানও জানান তিনি। যারা এসব প্রকল্পে যুক্ত হতে চান, তাদের স্বাগত জানানো হবে বলে উল্লেখ করেন পুতিন। একই সঙ্গে নিজ নিজ দেশে থেকেও একটি নতুন, উন্মুক্ত ও ন্যায়ভিত্তিক বিশ্ব গড়ে তুলতে তরুণদের ভূমিকা রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

ইকাতেরিনবার্গে উৎসব আয়োজনের প্রসঙ্গে পুতিন বলেন, ইউরালের রাজধানী এ শহর ইউরোপ ও এশিয়ার মিলনস্থল। শহরটির ইতিহাসের সঙ্গে রাশিয়ার শিল্প, সংস্কৃতি ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ গভীরভাবে জড়িয়ে আছে। শিল্পবিপ্লব থেকে আধুনিক বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি, বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইউরাল অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে।

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তরুণ প্রজন্মের ওপর আস্থা প্রকাশ করেন রুশ প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, তরুণরা সফল হবে—এ বিষয়ে তার কোনো সন্দেহ নেই। ‘এটি তোমাদের সময়’ উল্লেখ করে নিজেদের স্বপ্ন অনুসরণ করে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

আন্তর্জাতিক যুব উৎসব ২০২৬-এ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের তরুণদের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে পারস্পরিক যোগাযোগ, মতবিনিময় ও সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। উদ্বোধনী বক্তব্যে পুতিনের মূল বার্তায় উঠে এসেছে জাতীয়তা, অর্থ ও সামাজিক অবস্থানের বিভাজন পেরিয়ে সমতা, সম্মান ও সহযোগিতার ভিত্তিতে ভবিষ্যৎ বিশ্ব গড়ে তোলা।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম