আল-জাজিরার বিশ্লেষণ
ইসরাইলি নৃশংসতায় ব্রিটিশ মদদ, সরকারের গড়িমসি আর কত?
Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৫২ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ব্রিটেনে গাজায় সংঘটিত গণহত্যায় দেশটির ভূমিকা নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি উঠেছে। কুইন মেরি ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের আইন বিভাগের অধ্যাপক এবং ব্রিটিশ একাডেমি অব সোশ্যাল সায়েন্সেসের ফেলো নেভ গর্ডন এক নিবন্ধে এই দাবি জানিয়েছেন।
২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধের সময় ব্রিটিশ সরকারের ভূমিকা তদন্ত করতে যেমন তদন্ত কমিটি গঠন করতে ছয় বছর লেগেছিল এবং টনি ব্লেয়ার সরকারের বিভ্রান্তিকর তথ্য জনসমক্ষে আসতে দীর্ঘ সময় পার হয়েছিল, গাজার ক্ষেত্রেও বর্তমান সরকার একই ধরনের গড়িমসি ও সময়ক্ষেপণের পথ বেছে নিয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
২০২৫ সালের জুন মাসে তৎকালীন লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিনের পক্ষ থেকে গাজায় সংঘটিত গণহত্যায় যুক্তরাজ্যের সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখতে একটি স্বাধীন ও উন্মুক্ত তদন্তের বিল উত্থাপন করা হয়েছিল। এই বিলের পক্ষে অর্ধশতাধিক সংসদ সদস্য সমর্থন জানালেও তৎকালীন কিয়ের স্টার্মার সরকার বিলটি আটকে দেয় এবং কোনো তদন্তের প্রয়োজন নেই বলে দাবি করে।
সরকারের এই অনীহার মুখে জেরেমি করবিন ১৯৬৬ সালের রাসেল ট্রাইব্যুনালের আদলে একটি স্বাধীন গণ-আদালত বা ট্রাইব্যুনাল গঠন করেন। ওই বছরের সেপ্টেম্বর মাসে লন্ডনে অনুষ্ঠিত এই ট্রাইব্যুনালে গাজার গণহত্যা থেকে বেঁচে ফেরা মানুষ, সাংবাদিক, চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ এবং আন্তর্জাতিক আইনের গবেষকদের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। ট্রাইব্যুনালের শুনানিতে ইসরাইলি সামরিক অভিযানে ব্রিটিশ সরকারের অস্ত্র সরবরাহ, এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের যন্ত্রাংশ জোগান, রয়্যাল এয়ার ফোর্সের নজরদারি ফ্লাইট পরিচালনা এবং কূটনৈতিকভাবে ইসরাইলকে দায়মুক্তি দেওয়ার বহু তথ্য উঠে আসে।
গত মার্চ মাসে এই ট্রাইব্যুনালের সংগৃহীত তথ্য-প্রমাণ ও প্রতিবেদন আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) কাছে জমা দেওয়া হয়। সম্প্রতি বিলটি পুনরায় পার্লামেন্টে তোলা হলেও বর্তমান সরকার আবারও এর ওপর ভোটাভুটি স্থগিত করেছে। ব্রিটিশ সরকারের এই কৌশল মূলত বিগত দিনের ইরাক যুদ্ধের তদন্ত এড়ানোর পুরোনো ধারারই পুনরাবৃত্তি। তবে ব্রিটিশ জনগণের একটি বড় অংশ এখন ইসরাইলের কর্মকাণ্ড এবং এতে পশ্চিমা দেশগুলোর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সহযোগিতার বিষয়টি পরিষ্কারভাবে বুঝতে পারছে। ফিলিস্তিনের পক্ষে বিশাল জনসমর্থন এবং জনমত জরিপগুলোই এর বড় প্রমাণ। সম্প্রতি অবৈধ বসতি থেকে আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা ও নিষেধাজ্ঞা জারির মতো কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়া হলেও তা ব্রিটিশ সরকারের ঐতিহাসিক দায়মুক্তি দেয় না।
এখন প্রধানমন্ত্রী বার্নহাম এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড মিলিব্যান্ডের সামনে সঠিক পথে হাঁটার এবং আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে গাজায় ব্রিটিশ ভূমিকার সত্যতা উদঘাটনে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের পথ বেছে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

