মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েনের কথা স্বীকার করল যুক্তরাষ্ট্র
Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৪৭ পিএম
মহাকাশে স্থাপন করা এ অস্ত্র কতটা বিধ্বংসী, তা জানায়নি যুক্তরাষ্ট্র। সংগৃহীত ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েনের কথা প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে স্বীকার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন এয়ার ফোর্সের সচিব ট্রয় মেইঙ্ক মেরিল্যান্ডের ন্যাশনাল হারবারে আয়োজিত বার্ষিক এয়ার, স্পেস অ্যান্ড সাইবার কনফারেন্সে এ তথ্য জানান।
মার্কিন স্পেস ফোর্স জানিয়েছে, কক্ষপথে থাকা এসব অস্ত্র শত্রুপক্ষের হামলা থেকে মার্কিন বাহিনীকে সুরক্ষা দিতে এবং প্রয়োজনে প্রতিপক্ষের মহাকাশ সক্ষমতায় আঘাত হানতে ব্যবহার করা যেতে পারে।
ট্রয় মেইঙ্ক বলেন, মার্কিন বাহিনীকে শত্রুদের হাত থেকে সুরক্ষিত রাখতে ‘অন-অরবিট’ অস্ত্র প্রয়োজন।
তবে মহাকাশে ঠিক কী ধরনের অস্ত্র মোতায়েন করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি মেইঙ্ক। তিনি বলেন, এসব সক্ষমতা ‘স্পেস কন্ট্রোল’-এর কাজে এবং ক্রমবর্ধমান হুমকি মোকাবিলায় ব্যবহার করা হবে।
পরে এক বিবৃতিতে মার্কিন স্পেস ফোর্স জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এমন ‘স্পেস কন্ট্রোল’ অস্ত্র রয়েছে, যা শত্রুর কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে মার্কিন যৌথ বাহিনীকে রক্ষা করতে সক্ষম। এসব সক্ষমতা আক্রমণাত্মক ও প্রতিরক্ষামূলক—দুইভাবেই ব্যবহার করা যেতে পারে।
মহাকাশে অস্ত্রের উপস্থিতির এই স্বীকারোক্তি এসেছে এমন এক সময়ে, যখন ট্রাম্প প্রশাসন ‘গোল্ডেন ডোম’ নামে একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে মহাকাশভিত্তিক সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে। এই ব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্রকে ক্ষেপণাস্ত্রসহ বিভিন্ন আকাশপথের হুমকি থেকে সুরক্ষার লক্ষ্যেই তৈরি করা হচ্ছে।
মহাকাশের সামরিকীকরণ অবশ্য নতুন নয়। ১৯৫৭ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন স্পুটনিক উৎক্ষেপণের পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ও মস্কো মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েন এবং প্রতিপক্ষের স্যাটেলাইট ধ্বংসের উপায় নিয়ে কাজ শুরু করে।
১৯৬৭ সালে স্বাক্ষরিত আউটার স্পেস ট্রিটি মহাকাশে গণবিধ্বংসী অস্ত্র মোতায়েন নিষিদ্ধ করে। তবে স্যাটেলাইটকে লক্ষ্যবস্তু করা বা অকার্যকর করার মতো অনেক সামরিক সক্ষমতা ওই চুক্তির সরাসরি নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়ে না।
যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, চীন ও রাশিয়া উভয়েই মহাকাশে সামরিক সক্ষমতা বাড়াচ্ছে। চীন মহাকাশ ও কাউন্টারস্পেস সক্ষমতা উন্নয়ন করছে বলে অভিযোগ ওয়াশিংটনের। অন্যদিকে রাশিয়া মহাকাশকে ভবিষ্যৎ যুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করে বলে দাবি করেছে মার্কিন স্পেস ফোর্স।
মহাকাশে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র মোতায়েনের এই প্রকাশ্য স্বীকারোক্তি তাই চীন-রাশিয়ার সঙ্গে সম্ভাব্য মহাকাশ প্রতিযোগিতাকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।

