হাউস অব লর্ডসের সদস্য হলেন লন্ডনের প্রথম মুসলিম মেয়র সাদিক খান
Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৫৪ পিএম
যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ হাউস অব লর্ডসে আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নিয়েছেন লন্ডনের মেয়র স্যার সাদিক খান।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ হাউস অব লর্ডসে আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নিয়েছেন লন্ডনের মেয়র স্যার সাদিক খান। এর মাধ্যমে তিনি ‘লর্ড খান অব টুটিং’ উপাধি পেলেন। এরই ধারাবাহিকতায় উচ্চকক্ষ থেকেও লন্ডনের স্বার্থে কাজ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
বর্তমানে লন্ডনের মেয়রের তৃতীয় মেয়াদে দায়িত্ব পালন করছেন সাদিক খান। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) লেবার পার্টির আরেক নতুন সদস্য লর্ড রবার্তো নেরির সঙ্গে তিনিও শপথ নেন। পরিবারের সদস্য ও কয়েকজন লেবার এমপি-র উপস্থিতিতে তিনি ঐতিহ্যবাহী এই শপথ গ্রহণ করেন।
যে টুটিং এলাকায় তার জন্ম এবং যেখান থেকে তিনি ১১ বছর এমপি ছিলেন, সেই টুটিংয়েরই লর্ড বা পিয়ার হলেন সাদিক খান। রাজনীতিতে আসার আগে তিনি মানবাধিকার আইন নিয়ে কাজ করতেন। পরে গর্ডন ব্রাউনের সরকারের মন্ত্রী ও পরিবহন প্রতিমন্ত্রীও হয়েছিলেন।
২০১৬ সালে প্রথম লন্ডনের মেয়র নির্বাচিত হন সাদিক খান। ২০০০ সালে বর্তমান মেয়র ব্যবস্থা চালুর পর থেকে তিনিই সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে এই পদে আছেন।
তিনি লন্ডনের প্রথম মুসলিম মেয়র এবং করোনা মহামারি ও সন্ত্রাসী হামলার মতো কঠিন সময়ে তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন। গত বছর তিনি নাইট উপাধিও পান।
পিয়ার উপাধি পাওয়াকে নিজের জন্য বড় সম্মান হিসেবে দেখছেন সাদিক খান। তিনি বলেন, এই দেশ ও রাজধানী তাকে সাধারণ এক জীবন থেকে লন্ডনের মেয়র হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে।
মেয়র থাকাকালীন প্রাথমিক স্কুলের সব শিশুর জন্য বিনামূল্যে খাবার নিশ্চিত করা, শহরের বাতাস পরিষ্কার করা, গণপরিবহন উন্নত করা এবং তরুণদের জন্য সুযোগ তৈরির মতো কাজগুলোর কথা তুলে ধরেন তিনি। সবার জন্য একটি সুন্দর, নিরাপদ ও সবুজ শহর গড়ার কাজ তিনি চালিয়ে যাবেন বলে আশা ব্যক্ত করেন।
উল্লেখ্য, হাউস অব লর্ডসের সদস্য হলেও সাদিক খানকে লন্ডনের মেয়রের পদ ছাড়তে হচ্ছে না। নিয়মের কারণে তার জন্য একই সঙ্গে মেয়র ও লর্ড হিসেবে দায়িত্ব পালন করা সম্ভব। তার বর্তমান মেয়াদ চলবে ২০২৮ সাল পর্যন্ত। তবে তিনি চতুর্থ মেয়াদেও এই পদে লড়বেন কিনা, সে বিষয়ে এখনো কিছু জানাননি।
তবে অতীতে তিনি হাউস অব লর্ডস প্রথা তুলে দেওয়ার পক্ষে কথা বললেও এখন নিজেই এই পদে আসীন হওয়ায় বিরোধীদের সমালোচনার মুখে পড়েছেন। তা সত্ত্বেও, ব্রিটিশ রাজনীতিতে নিজের প্রভাব ধরে রাখতে এই উপাধি তাকে দারুণ এক সুযোগ করে দিল।

