Logo
Logo
×
   

Advertisement

আন্তর্জাতিক

বর্ণাঢ্য আয়োজনে মালয়েশিয়া দিবস উদযাপন

Advertisement

Icon

আহমাদুল কবির, মালয়েশিয়া থেকে

প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৩৪ এএম

বর্ণাঢ্য আয়োজনে মালয়েশিয়া দিবস উদযাপন

Advertisement

জাতীয় ঐক্য ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে সামনে রেখে বর্ণাঢ্য আয়োজনে মালয়েশিয়া দিবস ২০২৬ উদযাপন করেছে দেশটি। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পাঁচ থেকে ৬ হাজার বেশি মানুষ।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাতে সারওয়াকের রাজধানী কুচিংয়ের বোর্নিও কনভেনশন সেন্টার কুচিংয়ে (বিসিসিকে) আয়োজিত জাতীয় পর্যায়ের অনুষ্ঠানে কয়েক হাজার মানুষ অংশ নেন। 

সারওয়াক রাজ্য সরকারের সহযোগিতায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপদ্বীপ মালয়েশিয়া, সাবাহ ও সারওয়াকের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য তুলে ধরা হয়। সংগীত, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও মঞ্চনাট্যের মাধ্যমে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির বিভিন্ন দিক উপস্থাপন করা হয়।


এবারের মালয়েশিয়া দিবসের আনুষ্ঠানিক প্রতিপাদ্য ছিল ‘মালয়েশিয়া মাদানি: কল্যাণ উপভোগ’। অনুষ্ঠানের বিভিন্ন পর্বে সারওয়াকের ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতির পাশাপাশি উপদ্বীপ মালয়েশিয়া ও সাবাহর সাংস্কৃতিক উপাদান তুলে ধরা হয়। ‘সেগুলাই সেজালাই’ শিরোনামের পরিবেশনাতেও সারওয়াকের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য ও বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর পারস্পরিক সম্পৃক্ততার বিষয়টি ফুটিয়ে তোলা হয়।

অনুষ্ঠানে সারওয়াকের গভর্নর তুন ড. ওয়ান জুনাইদি তুয়ানকু জাফর, প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি আনোয়ার ইব্রাহিম, সারওয়াকের প্রিমিয়ার তান শ্রী আবাং জোহারি তুন ওপেং এবং সাবাহর মুখ্যমন্ত্রী দাতুক সেরি হাজিজি নূরসহ কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।


এবারের জাতীয় অনুষ্ঠান আয়োজনে আবহাওয়াজনিত পরিস্থিতিও বিবেচনায় নেওয়া হয়। কুচিং ও আশপাশের এলাকায় ধোঁয়াশার কারণে বাইরে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকা কিছু কর্মসূচিতে পরিবর্তন আনা হয়। তবে জাতীয় পর্যায়ের মূল রাতের অনুষ্ঠানটি বিসিসিকে ভবনের ভেতরে আয়োজন করা হয়। এর আগে যোগাযোগমন্ত্রী ফাহমি ফাদজিল জানিয়েছিলেন, ধোঁয়াশা পরিস্থিতি বিবেচনায় বাইরে আয়োজনের পরিবর্তে মূল অনুষ্ঠান অন্দরমহলে করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

উপস্থিতির সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন সূত্রে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। আয়োজকদের পক্ষ থেকে মূল অনুষ্ঠানে ৫ হাজারের বেশি অতিথির উপস্থিতির প্রত্যাশা জানানো হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে মালয়েশিয়া অ্যাকটিফ প্রায় ৬ হাজার মানুষের অংশগ্রহণের কথা জানায়। অন্যদিকে বার্তা সংস্থা বার্নামা বিসিসিকে হলের অনুষ্ঠানে প্রায় ৫ হাজার দর্শকের উপস্থিতির কথা উল্লেখ করেছে। এ কারণে প্রতিবেদনে উপস্থিতির সংখ্যা আনুমানিক হিসেবে ধরা হয়েছে।

মালয়েশিয়া দিবস প্রতিবছর ১৬ সেপ্টেম্বর পালিত হয়। ১৯৬৩ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর মালয়া, সাবাহ ও সারওয়াক এবং তৎকালীন সিঙ্গাপুরকে নিয়ে মালয়েশিয়া ফেডারেশন প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তী সময়ে সিঙ্গাপুর ফেডারেশন থেকে পৃথক হলেও ১৬ সেপ্টেম্বর দেশটির জাতীয় ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।

২০২৬ সালের জাতীয় পর্যায়ের মালয়েশিয়া দিবসের আয়োজনের জন্য কুচিংকে বেছে নেওয়া হয়। বোর্নিও দ্বীপের সারওয়াকের এই শহরে জাতীয় অনুষ্ঠান আয়োজনের মধ্য দিয়ে দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক গুরুত্বও সামনে আসে।

এদিকে মালয়েশিয়া দিবস উপলক্ষে রাজধানী কুয়ালালামপুরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় পৃথক কর্মসূচি পালিত হয়। কুয়ালালামপুরের দ্য টুন রাজাক এক্সচেঞ্জের (টিআরএক্স) রেইনট্রি প্লাজায় আয়োজিত ‘কেরেতাপি সারং ২০২৬’ কর্মসূচিতে বিভিন্ন বয়সী মানুষ ঐতিহ্যবাহী পোশাক ও সারং পরে অংশ নেন।


কুয়ালা পার্লিসের জলসীমায় আয়োজন করা হয় ‘সমুদ্রযাত্রা কনভয়’। এতে ৮০টি নৌযান অংশ নেয় এবং প্রায় ৭০০ মানুষ এতে যুক্ত হন। প্রায় ১৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এই নৌযাত্রা মালয়েশিয়ান ফিশারিজ ডেভেলপমেন্ট অথরিটির জেটি থেকে শুরু হয়। জাতীয় পতাকা ‘জালুর জেমিলাং’ দিয়ে সাজানো নৌযানগুলো কনভয়ে অংশ নেয়।

দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে আয়োজিত এসব কর্মসূচিতে স্থানীয় সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও জাতীয় পরিচয়ের নানা দিক তুলে ধরা হয়। কেন্দ্রীয় অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে আঞ্চলিক আয়োজন সব মিলিয়ে মালয়েশিয়া দিবস ২০২৬ ঘিরে দেশজুড়ে বিভিন্ন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

কুচিংয়ের জাতীয় অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এবারের মালয়েশিয়া দিবসে উপদ্বীপ মালয়েশিয়া, সাবাহ ও সারওয়াকের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য এবং রাষ্ট্রীয় পরিচয়ের বিষয়গুলো সামনে এসেছে। অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া মানুষ ও আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে দেশটির জনগণকে মালয়েশিয়া দিবসের শুভেচ্ছা জানানো হয়।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম