Logo
Logo
×
   

Advertisement

আন্তর্জাতিক

ব্যস্ততার মাঝেও ফিট মোদি, ৭৬-এও যে রুটিনে অটল ভারতের প্রধানমন্ত্রী

Advertisement

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:১৪ পিএম

ব্যস্ততার মাঝেও ফিট মোদি, ৭৬-এও যে রুটিনে অটল ভারতের প্রধানমন্ত্রী

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ছবি: সংগৃহীত

Advertisement

দিন শুরু হয় খুব ভোরে, সঙ্গী যোগব্যায়াম ও ধ্যান। খাবারের তালিকায় সাদাসিধে নিরামিষ পদ। আর দীর্ঘ কর্মঘণ্টা ও ব্যস্ত সফরের মধ্যেও রুটিন ধরে রাখার চেষ্টা—ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জীবনযাপন নিয়ে মানুষের আগ্রহের বড় কারণ এই ধারাবাহিকতাই।

আজ ১৭ সেপ্টেম্বর ৭৬ বছরে পা দিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি। জন্মদিন উপলক্ষে দেশজুড়ে নানা আয়োজনের পাশাপাশি আলোচনায় এসেছে তার ব্যক্তিগত জীবনযাপন, খাদ্যাভ্যাস ও শরীরচর্চার ধরন।

তার জীবনযাত্রা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, তিনি দিনের শুরুটা বেশ ভোরে করেন। কিছু প্রতিবেদনে তার ঘুম থেকে ওঠার সময় *ভোর ৪টার কাছাকাছি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সকালের রুটিনে ধ্যান, প্রাণায়াম, যোগব্যায়াম এবং দেশ-বিদেশের খবর পড়ার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায় বলে জানা যায়।

যোগব্যায়ামই শরীরচর্চার অন্যতম সঙ্গী

নরেন্দ্র মোদির জনসমক্ষে দেওয়া বিভিন্ন বক্তব্যেও যোগব্যায়ামের গুরুত্ব বারবার উঠে এসেছে। তার মতে, যোগব্যায়ামের জন্য বয়স কোনো বাধা নয় এবং এটি শুধু শরীরচর্চার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়।


তার ফিটনেস রুটিনকে তাই প্রচলিত জিমকেন্দ্রিক অনুশীলনের চেয়ে কিছুটা আলাদা বলা যায়। শরীরের নড়াচড়া, শ্বাস-প্রশ্বাসের অনুশীলন এবং মনোযোগ—দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গেই এসবকে যুক্ত রাখার ওপর জোর দেন তিনি।

খাবারে সাদাসিধে নিরামিষ

মোদির খাদ্যাভ্যাসেও সরলতার ছাপ দেখা যায় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি নিরামিষভোজী হিসেবে পরিচিত। তার খাবারের তালিকায় ঘরোয়া ধরনের সাধারণ খাবারের পাশাপাশি শাকসবজি, ফলমূল ও বিভিন্ন ভারতীয় ঐতিহ্যবাহী পদ থাকার কথা জানা যায়।

সজনে বা মরিঙ্গা দিয়েও তৈরি কিছু খাবার তার খাদ্যাভ্যাস নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এর মধ্যে মরিঙ্গা পরোঠার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

উপবাসও রুটিনের অংশ

ধর্মীয় বিভিন্ন উপলক্ষে উপবাস পালন করার কথাও নরেন্দ্র মোদি নিজেই বিভিন্ন সময়ে বলেছেন। এসব সময়ে তার খাবারের পরিমাণ বা ধরন বেশ সীমিত থাকে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

তার খাবারের অভ্যাস থেকে বরং যে বিষয়টি সামনে আসে, তা হলো—সাদাসিধে খাবার, পরিমিতি এবং নিয়ম মেনে চলা মোদির জীবনযাপন নিয়ে আলোচনায় কোনো বিশেষ ‘সুপারফুড’ বা গোপন ফিটনেস কৌশলের চেয়ে বেশি গুরুত্ব পায় নিয়ম মেনে চলার অভ্যাস।

প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বের কারণে তার কর্মসূচি অত্যন্ত ব্যস্ত। দীর্ঘ সময় কাজ করা এবং নিয়মিত দেশের বিভিন্ন প্রান্ত ও বিদেশ সফরের মধ্যেও নিজের দৈনন্দিন অভ্যাস ধরে রাখার বিষয়টি তার জীবনযাত্রার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হিসেবে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।


তার ঘুমের সময় নিয়েও নানা প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। কোথাও কোথাও রাতে মাত্র সাড়ে তিন ঘণ্টা ঘুমানোর কথা বলা হয়েছে। তবে বিষয়টি সতর্কতার সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। অধিকাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্য পর্যাপ্ত ঘুম গুরুত্বপূর্ণ; কম ঘুমকে তাই স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের লক্ষ্য হিসেবে দেখা উচিত নয়।

সাধারণ মানুষের জন্য তার রুটিন থেকে অনুসরণযোগ্য বিষয় হিসেবে বরং নিয়মিত শরীরচর্চা, পুষ্টিকর খাবার, মানসিক প্রশান্তি ও দৈনন্দিন জীবনে শৃঙ্খলার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়গুলো সামনে আসে।

পোশাকেও নিজস্ব পরিচিতি

জীবনযাপনের মতো পোশাকেও নরেন্দ্র মোদির রয়েছে আলাদা পরিচিতি। হাফহাতা কুর্তার সঙ্গে ফিটিং জ্যাকেট তার স্বাভাবিক পোশাকের অন্যতম পরিচিত ধরন হয়ে উঠেছে। এই ধরনের জ্যাকেটই পরে ‘মোদি জ্যাকেট’ নামে পরিচিতি পায়।


বিভিন্ন জাতীয় অনুষ্ঠান ও বিশেষ আয়োজনে রঙিন পাগড়ি এবং ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী বস্ত্রও তার পোশাকে দেখা যায়। বিশেষ করে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রং ও নকশার পাগড়ি তার পোশাকের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠেছে।

৭৬-এও একই ছন্দ

৭৬ বছর বয়সে নরেন্দ্র মোদির জীবনযাপনের আলোচনায় তাই কোনো একটি বিশেষ খাবার, ব্যায়াম বা ‘গোপন ফর্মুলা’ নয়, বরং রুটিন মেনে চলার ধারাবাহিকতাই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায়।

ভোরের যোগব্যায়াম, সাদাসিধে নিরামিষ খাবার কিংবা কুর্তা-জ্যাকেটের পরিচিত পোশাক—সবকিছুর মধ্যেই তার ব্যক্তিগত জীবনযাপনের একটি নির্দিষ্ট ছন্দ ফুটে ওঠে।

তথ্যসূত্র: নিউজ ১৮, হিন্দুস্তান টাইমস

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম