ভারতীয় যুদ্ধজাহাজে ইচ্ছা করেই ধাক্কা দিয়েছে পাকিস্তানি জাহাজ?
Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৩৮ পিএম
কোন জাহাজে কত ক্ষতি, তা জানা যায়নি। সংগৃহীত ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
আধুনিক যুদ্ধজাহাজে শক্তিশালী রাডার, নেভিগেশন সিস্টেম ও যোগাযোগ ব্যবস্থা থাকে। আশপাশের জাহাজের অবস্থান ও গতিবিধি শনাক্ত করাও কঠিন নয়। তাহলে উত্তর আরব সাগরে পাকিস্তানি নৌবাহিনীর একটি জাহাজ কীভাবে ভারতীয় যুদ্ধজাহাজের সঙ্গে ধাক্কা খেল?
ঘটনাটি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে—এটি কি নিছক দুর্ঘটনা, নাকি ইচ্ছাকৃতভাবে ভারতীয় যুদ্ধজাহাজের খুব কাছে চলে গিয়েছিল পাকিস্তানি জাহাজটি?
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডেকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দেশটির প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক সন্দীপ উন্নীথান দাবি করেছেন, তিনি ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা মনে করছেন না। তার মতে, এটি সমুদ্রে ‘ভয় দেখানো’ বা চাপ প্রয়োগের কৌশল হতে পারে।
মঙ্গলবার উত্তর আরব সাগরে পাকিস্তানি নৌবাহিনীর জাহাজ পিএনএস হুনাইন কেন ভারতীয় নৌবাহিনীর একটি কলকাতা-শ্রেণির যুদ্ধজাহাজের দিকে উচ্চগতিতে এগিয়ে গেল? উন্নীথানের দাবি, দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের নৌবাহিনী, কোস্ট গার্ড ও সামুদ্রিক মিলিশিয়ার বিরুদ্ধে এমন কৌশল ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে।
তিনি জানান, অন্য জাহাজকে পাশে থেকে ধাক্কার দিকে ঠেলে দেওয়া, সামনে দিয়ে পথ কেটে যাওয়া বা সংঘর্ষের ঝুঁকি তৈরি করা—এসবই সামুদ্রিক বিরোধে ব্যবহৃত পুরোনো কৌশল।
এক্ষেত্রে পাকিস্তান ও চীনের সামরিক সম্পর্কের বিষয়টিও সামনে আনেন তিনি। পাকিস্তান চীনের কাছ থেকে যুদ্ধজাহাজ ও সাবমেরিন কিনছে এবং দুই দেশের নৌবাহিনী নিয়মিত যৌথ মহড়াও চালায়। ফলে চীনের সামুদ্রিক কৌশলের কোনো প্রভাব পাকিস্তানের ওপর পড়েছে কি না, সেই প্রশ্ন তুলেছেন এই বিশ্লেষক।
ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক জলসীমায়, ওমান উপসাগর থেকে প্রায় ১২০ নটিক্যাল মাইল দূরে উত্তর আরব সাগরে। ভারতীয় কর্মকর্তাদের দাবি, পাকিস্তানি জাহাজটি ‘অপেশাদার ও অনিরাপদভাবে’ চলাচল করছিল। একপর্যায়ে দুই জাহাজের সংঘর্ষ হয়। এতে কোন জাহাজে কত ক্ষতি হয়েছে, তা জানা যায়নি।
তবে ঘটনাটি যে নিশ্চিতভাবেই ইচ্ছাকৃত ছিল—এমন কোনো স্বাধীন প্রমাণ এখনো সামনে আসেনি। ইন্ডিয়া টুডের সঙ্গে কথা বলা এক ভারতীয় নৌ কর্মকর্তা অবশ্য বলেন, আধুনিক যুদ্ধজাহাজে রাডার, অটোমেটিক আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম এবং একাধিক যোগাযোগ ব্যবস্থা থাকায় আশপাশের জাহাজ শনাক্ত করা সম্ভব। তবে কোনো কমান্ডার ইচ্ছাকৃতভাবে দূরত্ব কমানোর সিদ্ধান্ত নিলে প্রযুক্তি সবসময় সংঘর্ষ ঠেকাতে পারে না।

