নেই নিরাপদ আশ্রয়ের জায়গা, বাধ্য হয়েই ক্ষতিগ্রস্ত ভবনে বসবাস ফিলিস্তিনিদের
Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৪১ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
গাজার পশ্চিমাঞ্চলের একটি আবাসিক ভবন ধসে অন্তত ২১ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। বুধবার ভোরে আল-সা’দা ভবনটি ধসে পড়ার পর ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েন বেশ কিছু বাসিন্দা। উদ্ধার কাজে সীমিত সরঞ্জাম ব্যবহারের কারণে ধ্বংসস্তূপের নিচে থাকা ব্যক্তিদের কাছে পৌঁছাতে দীর্ঘ সময় লেগেছে।
৩৭ বছর বয়সি হায়াত জানান, ঘটনার সময় তিনি ফোন দেখার জন্য জেগেছিলেন। হঠাৎ বিকট শব্দ শুনে কিছু বুঝে ওঠার আগেই ভবনটি ধসে পড়ে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে তিনি সন্তানদের জন্য চিৎকার করতে থাকেন। একই সময়ে তার ৭৪ বছর বয়সি বাবাকে ১২ বছরের নাতি ইয়াসিরকে ডাকতে শুনেছিলেন। কিছুক্ষণ পর বাবার কণ্ঠ আর শোনা যায়নি।
প্রায় ঘণ্টাখানেক চেষ্টা চালিয়ে প্রতিবেশী ও সিভিল ডিফেন্স কর্মীরা হায়াত, তার চার সন্তানসহ কয়েকজনকে উদ্ধার করেন। তবে তার পরিবারের নয়জন সদস্য-বাবা-মা, চার ভাই-বোন এবং তার ভাইপো-ভাইজি ও ভাগ্নে-ভাগ্নি নিহত হয়েছেন। তার চার সন্তান বেঁচে গেলেও মেয়ে দালিয়া মাথায় গুরুতর আঘাত নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে।
হায়াত আরও জানান, ভবনটি আগেই ক্ষতিগ্রস্ত ছিল। তার মা ভবনটি নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন এবং বাবা অন্য কোথাও যাওয়ার পরিকল্পনাও করছিলেন। কিন্তু তাঁবুতে কঠিন জীবনযাপনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনটির তৃতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে পরিবারটি উঠেছিল।
যুদ্ধের শুরুতে পরিবারটি গাজা শহরের শুজাইয়া এলাকা থেকে দেইর আল-বালাহতে সরে গিয়েছিল। প্রায় দুই মাস আগে তারা আবার গাজায় ফিরে আসে।
ভবন ধসের পর গাজা শহরের আল-শিফা হাসপাতালে নিখোঁজ স্বজনদের খোঁজে ভিড় করেন পরিবারের সদস্যরা। সত্তরোর্ধ্ব উম্মে মাহমুদ সা’দা তার ছেলে মাহমুদ, পুত্রবধূ ও নাতি-নাতনিদের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। ৩৮ বছর বয়সি মাহমুদ ছয় মেয়ে ও এক ছেলের বাবা ছিলেন। তার পরিবারের কেউ বেঁচে নেই বলে জানান তার মা।
উম্মে মাহমুদ বলেন, তার ছেলে মাত্র এক মাস আগে দক্ষিণ গাজা থেকে গাজা শহরে ফিরেছিলেন। তাঁবুতে থেকে ক্লান্ত হয়ে পড়ে তিনি এক আত্মীয়ের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনে আশ্রয় নিয়েছিলেন। ঘটনার আগের দিনও ছেলের সঙ্গে দেখা হয়েছিল তার। একসঙ্গে নামাজ আদায় ও খাবার খাওয়ার স্মৃতি মনে করে তিনি বলেন, প্রিয়জনদের একে একে হারাতে হচ্ছে তাদের।
ফিলিস্তিনি ডিফেন্স জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় ভারী যন্ত্রপাতি ও উদ্ধার সরঞ্জামের ঘাটতির কারণে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আটকে পড়া বাসিন্দাদের কাছে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, যুদ্ধের শুরু থেকেই ভবনটি ক্ষতিগ্রস্ত ছিল এবং প্রায়ই দেয়াল বা পাথরের অংশ খসে পড়ত। নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য অনেক পরিবারই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে বসবাস করতে বাধ্য হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা হুজাইফা মোহাম্মদ বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলো ধসে পড়ার আশঙ্কা প্রতিদিনই তৈরি হচ্ছে। তার ভাষ্য, মানুষ জানে ভবনগুলো বিপজ্জনক, কিন্তু নিরাপদে যাওয়ার মতো তাদের কোনো জায়গা নেই।

