পোষা কুকুরের আক্রমণে নবজাতকের মৃত্যু, ১৬ বছরের কারাদণ্ড বাবার
Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৩৭ পিএম
সংগৃহীত ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যে পোষা কুকুরের হামলায় এক নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা অস্টিন কিনসেকে ১৬ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আদালতের নথি অনুযায়ী, চম্প নামের কুকুরটি শিশুটিকে অন্তত ১৮০ বার কামড়েছিল।
নিহত
শিশুটির নাম জেসন অ্যান্থনি ওয়েভার। মৃত্যুর সময় তার বয়স ছিল মাত্র এক সপ্তাহ।
পাঁচ বছর বয়সি চম্প ছিল হাস্কি ও পিটবুলের মিশ্র জাতের কুকুর। কুকুরটির হামলায়
শিশুটির মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর ক্ষত হয়। এ ছাড়া তার মস্তিষ্কে
রক্তক্ষরণ, পাঁজরের হাড় ভেঙে যাওয়া এবং ফুসফুসে ছিঁড়ে যাওয়ার মতো গুরুতর
অভ্যন্তরীণ আঘাতও ছিল।
সেপ্টেম্বরে ইন্ডিয়ানার গ্রামীণ মার্কল এলাকায় পরিবারের বাড়িতে শিশুটির মৃত্যুর পর তার বাবা-মা এবং পরিবারের আরও চার সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, বাড়িটি আবর্জনা ও পোকামাকড়ে ভরা ছিল।
পুলিশ
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, অস্টিন কিনসে পুলিশকে জানিয়েছেন, তিনি শিশুটির সঙ্গে
একই ঘরে বসে ভিডিও গেম খেলছিলেন। পরে পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে কথা বলার জন্য
অল্প সময়ের জন্য তিনি ঘর থেকে বের হন।
এরপর
শিশুটির দাদা টিমোথি কিনসে শিশুটির শব্দ শুনতে পান। ঘরে গিয়ে তিনি দেখতে পান, চম্প
শিশুটিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ কর্মকর্তারা শিশুটিকে বাঁচাতে
সিপিআর দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে তাকে আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
পুলিশ
কর্মকর্তারা বাড়িটির সর্বত্র পশু, আবর্জনা ও মাটির তীব্র গন্ধ পাওয়ার কথা জানান।
ফোর্ট ওয়েন শহরের প্রায় ২৫ মাইল দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত ওই বাড়িতে প্রচুর
পোকামাকড়, আবর্জনা, অপরিষ্কার বাসনপত্র ও নোংরা কাপড় ছিল। তদন্তকারীরা শিশুটির
গাড়ির আসনেও পোকামাকড় দেখতে পান। পরে বাড়িটিকে বসবাসের অনুপযোগী ঘোষণা করে খালি
করে দেওয়া হয়।
পুলিশের এক
কর্মকর্তার বরাতে ডেইলি মেইল জানিয়েছে, বাড়িতে এত বেশি আবর্জনা ও ধ্বংসাবশেষ ছিল
যে কর্মকর্তাদের ভেতর দিয়ে হাঁটতেও কষ্ট হচ্ছিল।
পরিবারের
সদস্যরা চম্পকে শিশুটির প্রতি শান্ত ও কোমল আচরণকারী কুকুর হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন।
তবে আদালতের নথি অনুযায়ী, তারা স্বীকার করেন, কুকুরটি ঈর্ষাপ্রবণ ছিল, অন্য
প্রাণীর প্রতি আক্রমণাত্মক আচরণ করত এবং এর আগে মানুষকেও কামড়েছিল।
পরিবারের এক
সদস্য জানান, কুকুরটি আক্রমণাত্মক আচরণ করলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য তারা
বাড়িতে একটি বন্দুক রাখতেন।
তথ্যসূত্র: নিউ ইয়র্ক পোস্ট

