Logo
Logo
×
   

Advertisement

আন্তর্জাতিক

ভারতে ‘আসসালামু আলাইকুম’ বলায় নারী পুলিশ কর্মকর্তাকে বদলি! সমালোচনার ঝড়

Advertisement

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:০৮ এএম

ভারতে ‘আসসালামু আলাইকুম’ বলায় নারী পুলিশ কর্মকর্তাকে বদলি! সমালোচনার ঝড়

Advertisement

সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার্থীদের জন্য তৈরি একটি ভিডিওতে ‘আসসালামু আলাইকুম’ ও ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দ ব্যবহারের পর পশ্চিমবঙ্গের এক নারী আইপিএস কর্মকর্তার বদলি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। 

বুশরা বানু নামে ওই কর্মকর্তা দায়িত্ব নেওয়ার প্রায় আড়াই মাসের মাথায় খড়গপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের পদ থেকে তাকে বদলি করা হলো।

গত ১৪ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গ সরকারের জারি করা নির্দেশ অনুযায়ী, বুশরা বানুকে রাজ্য সশস্ত্র পুলিশের চতুর্থ ব্যাটালিয়নের ডেপুটি কমান্ড্যান্ট পদে বদলি করা হয়েছে। সরকারি বিজ্ঞপ্তির বদলির কারণ হিসেবে ‘জনস্বার্থ’র কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে তার বদলি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ভিডিওটির শুরুতে বুশরা দর্শকদের ‘আসসালামু আলাইকুম’ বলে সম্ভাষণ জানান। পরে নিজের আইপিএস হওয়ার যাত্রা, ইউপিএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি এবং আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের রেসিডেন্সিয়াল কোচিং একাডেমির সহায়তার কথা তুলে ধরেন।

বুশরা বানুর এই বক্তব্য নিয়ে কয়েকটি হিন্দু সংগঠন আপত্তি জানায় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের পক্ষ থেকে পশ্চিমবঙ্গের স্বরাষ্ট্র সচিবের কাছে অভিযোগও করা হয়। এরপরই তার বদলি হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

উত্তরপ্রদেশের কনৌজের বাসিন্দা বুশরা বানু আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি সম্পন্ন করেন। কয়েক বছর উপসাগরীয় এলাকায় চাকরি করার পর  তিনি সিভিল সার্ভিসে যোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নেন। ২০২১ সালে ইউপিএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে তিনি ভারতীয় পুলিশ সার্ভিসে (আইপিএস) যোগ দেন। 

তার বদলি নিয়ে বিরোধী দলের নেতারাও প্রশ্ন তুলছেন। কংগ্রেস এমপি ইমরান প্রতাপগড়ি আইপিএস অ্যাসোসিয়েশনের কাছে বিষয়টি বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) লেখেন, বুশরার পাশে দাঁড়ানোর পরিবর্তে রাজ্য সরকার ঠিক পরদিন তাকে বদলি করে দিল। মোদি, আপনারা কেমন ভারত গড়ে তুলছেন?

অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক কুনাল ঘোষ বলেছেন, বদলি করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার সরকারের রয়েছে। তবে ব্যক্তিগত বিশ্বাস বা স্বাভবিক আচরণের কারণে কাউকে শাস্তি দেওয়া উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এদিকে সমাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে উত্তরপ্রদেশের পুলিশ কর্মকর্তা অনুজ চৌধুরীর প্রসঙ্গও তুলেছেন। তাদের দাবি, ধর্মীয় পরিচয় প্রকাশের ক্ষেত্রে  বিভিন্ন কর্মকর্তার আচরণ নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন মানদণ্ড প্রয়োগ করা হচ্ছে।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম