সৌদিতে হামলা বাড়তেই ‘মক্কা চুক্তি’ কার্যকরের ইঙ্গিত পাকিস্তানের
Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৪১ এএম
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সৌদি আরবে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের হামলা বৃদ্ধি পাওয়ায় এখন মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি কার্যকরের সময় এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) জিও নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন তিনি।
আসিফ বলেন, পাকিস্তান সৌদি আরব এবং পবিত্র নগরী মক্কা ও মদিনা রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এমনকি প্রতিরক্ষা চুক্তি না থাকলেও এসব পবিত্র স্থান রক্ষা করা পাকিস্তানের দায়িত্ব বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘মক্কা চুক্তি আমাদের জন্য প্রযোজ্য এবং আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করব।’ তবে পাকিস্তান ঠিক কী ধরনের পদক্ষেপ নিতে পারে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি তিনি।
অন্যদিকে, হুথিরা পবিত্র নগরী মক্কাকে লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। হুথি মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি বলেন, তাদের হামলার লক্ষ্য সৌদি আরবের তেল স্থাপনা ও সামরিক ঘাঁটি, যেগুলো পবিত্র স্থানগুলো থেকে অনেক দূরে।
খাজা আসিফ আরও জানান, সৌদি আরবের পক্ষ থেকে পাওয়া একটি বার্তা পাকিস্তান ইরানের কাছে পৌঁছে দিয়েছে। হুথিদের হামলার কারণে রিয়াদে উদ্বেগ বাড়ার মধ্যেই এই বার্তা দেওয়া হয়।
আসিফ বলেন, ইরান রাষ্ট্র হিসেবে নতুন করে আরেকটি যুদ্ধের ফ্রন্ট খুলবে বলে তিনি মনে করেন না। কারণ, ইরান ইতোমধ্যে এই অঞ্চলের একটি যুদ্ধে জড়িয়ে আছে।
সংঘাত যাতে আরও ছড়িয়ে না পড়ে, সে চেষ্টা পাকিস্তান অব্যাহত রাখবে বলেও জানান তিনি।
এদিকে বৃহস্পতিবার সৌদি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের খবরে বলা হয়, দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় তাইফ এলাকায় একটি ড্রোন ভূপাতিত করার পর একজন নিহত ও দুজন আহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তি ইয়েমেনের নাগরিক ছিলেন।
সৌদি বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হুথিরা ড্রোনটি তাইফের দিকে পাঠিয়েছিল।
হুথিদের হামলা তীব্র হওয়ার পর চলতি মাসে সৌদি আরবে এটিই প্রথম মৃত্যুর ঘটনা হিসেবে জানানো হয়েছে।
আঞ্চলিক সংঘাতের মধ্যে পাকিস্তান নিজেকে একজন আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারী হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে। এর পাশাপাশি সৌদি আরব ও তুরস্কের সঙ্গে দেশটির সামরিক সম্পর্কও জোরদার হচ্ছে।
গত ৭ আগস্ট মক্কায় পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্ক যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি সই করে। চুক্তি অনুযায়ী, তিন দেশের যেকোনো একটি আক্রান্ত হলে সেটিকে তিন দেশের সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
চুক্তিটিকে অনেকে ন্যাটোর আর্টিকেল ৫-এর সঙ্গে তুলনা করেছেন। তবে বিশ্লেষকেরা সতর্ক করে বলেছেন, এই বিধানকে খুব আক্ষরিক অর্থে ব্যাখ্যা করা ঠিক হবে না।


