সাবেক সহকর্মীর সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে খুন, নালায় মিলল যুবকের মরদেহ
Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:০৪ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ভারতের দিল্লিতে জরুরি কাজে গুরগাঁও যাওয়ার কথা বলে রেস্তোরাঁ থেকে বেরিয়ে সাবেক সহকর্মীর সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে খুন হয়েছেন ৩১ বছর বয়সি এক যুবক। পুলিশের দাবি, আর্থিক বিরোধের জেরে সাবেক সহকর্মী ও তার সঙ্গী ওই যুবককে হত্যা করে মরদেহ গুরগাঁওয়ের একটি নালায় ফেলে দেন। এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
নিহত যুবকের নাম যুবরাজ সিং মানচন্দা। এক মাস পরই তার বিয়ের কথা ছিল।
পুলিশ ও পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, গত ৬ সেপ্টেম্বর যুবরাজ তার দুই বোনকে নিয়ে দিল্লির লাজপত নগর বাজারে যান বিয়ের জন্য শেরওয়ানি কিনতে। এরপর বিকেল সোয়া ৪টার দিকে তারা সেখানে একটি রেস্তোরাঁয় খাবার খান। কিছুক্ষণ পর যুবরাজ জানান, গুরগাঁওয়ে তার সাবেক এক সহকর্মীর সঙ্গে জরুরি দেখা করতে হবে। এরপর তিনি একাই রেস্তোরাঁ থেকে বেরিয়ে যান। তার দুই বোনও ক্যাব নিয়ে বাড়ি ফিরে যান।
পরিবার জানিয়েছে, ওই দিন সন্ধ্যা ৭টার দিকে যুবরাজের সঙ্গে তাদের ফোনে কথা হয়। তখন তিনি রাত ১০টার মধ্যে বাড়ি ফেরার কথা জানিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
দুই দিন পর, ৮ সেপ্টেম্বর বিকাল ৪টা ১৬ মিনিটের দিকে যুবরাজের নম্বর থেকে পরিবারের কাছে সর্বশেষ একটি হোয়াটসঅ্যাপ বার্তা আসে। এরপর আবার তার ফোন বন্ধ হয়ে যায়। পরে ১১ সেপ্টেম্বর লাজপত নগর থানায় নিখোঁজের অভিযোগ করে পরিবার।
মরদেহ শনাক্তের আগেই দাফন-সৎকারের অভিযোগ
যুবরাজের পরিবারের অভিযোগ, গুরগাঁও পুলিশ ১০ সেপ্টেম্বর একটি মরদেহ উদ্ধার করলেও তাদের বিষয়টি জানায়নি। এমনকি অজ্ঞাত মরদেহ শনাক্তের জন্য সরকারি জোনাল ইন্টিগ্রেটেড পুলিশ নেটওয়ার্কেও (জিপনেট) সময়মতো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি বলে অভিযোগ পরিবারের।
এরপর ১৪ সেপ্টেম্বর পুলিশ মরদেহটি সৎকার করে। পরিবারের দাবি, যুবরাজের মৃত্যুর খবর তাদের জানানো হয় এর দুই দিন পর।
তবে আইন অনুযায়ী, নির্ধারিত সময় অপেক্ষা এবং নিখোঁজ ব্যক্তিদের নেটওয়ার্কে প্রয়োজনীয় তথ্য প্রকাশের পরও মরদেহ শনাক্ত করা না গেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সেটি সৎকার করতে পারে।
যুবরাজের পরিবার মরদেহের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন, তদন্ত-সংক্রান্ত নথি, ছবি, ডিএনএ নমুনা এবং তার ব্যক্তিগত জিনিসপত্র সংরক্ষণ করে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের দাবি জানিয়েছে।
পরিবারের দাবি, যুবরাজই ছিলেন তাদের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তার বাবা পক্ষাঘাতগ্রস্ত এবং মা হৃদরোগে ভুগছেন।
যেভাবে ধরা পড়লেন সাবেক সহকর্মী
তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, গুরগাঁওয়ে যাওয়ার আগে যুবরাজ তার সাবেক সহকর্মী ভাটস নামে এক নারীর সঙ্গে সর্বশেষ ফোনে কথা বলেছিলেন। এরপর ওই নারীর ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ, প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণ এবং যুবরাজ ও সন্দেহভাজন নারীর কর্মস্থলে অনুসন্ধান চালায়।
একপর্যায়ে ভাটসকে হত্যাকাণ্ডের অন্যতম প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করা হয়। পরে পুলিশ জানতে পারে, তিনি নতুন একটি মোবাইল নম্বর ব্যবহার করছেন। সেই নম্বরের সূত্র ধরে উত্তরাখণ্ড থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
এ ঘটনায় ভাটসের সঙ্গীকেও গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
জিজ্ঞাসাবাদে দুজনই যুবরাজকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন বলে পুলিশের দাবি। তারা জানিয়েছেন, হত্যার পর গুরগাঁওয়ে তাদের বাড়ির কাছে একটি নালায় মরদেহ ফেলে দেওয়া হয়।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, আর্থিক বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে। তবে যুবরাজের পরিবারের অভিযোগ, হত্যার প্রকৃত কারণ ওই নারী গোপন করছেন।
হত্যার উদ্দেশ্য ও কীভাবে হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়েছে, তা জানতে দুই অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। দুজনকেই পাঁচ দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠানো হয়েছে।
সূত্র: এনডিটিভি

