ইরান ইস্যুতে জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব ভেস্তে দিল রাশিয়া-চীন
Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৫১ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ইরানবিষয়ক ১৭৩৭ নিষেধাজ্ঞা কমিটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ প্যানেলের মেয়াদ বাড়ানোর লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের উত্থাপিত একটি প্রস্তাবে ভেটো দিয়েছে রাশিয়া ও চীন।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে এ ঘটনা ঘটে।
নিরাপত্তা পরিষদের ঘূর্ণায়মান সভাপতির দায়িত্বে থাকা ফ্রান্সের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ১৫ সদস্যের মধ্যে ১১টি দেশ প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট দেয়। তবে রাশিয়া ও চীন বিপক্ষে ভোট দেওয়ায় প্রস্তাবটি পাশ হয়নি। অন্যদিকে পাকিস্তান ও সোমালিয়া ভোটদানে বিরত থাকে।
নিরাপত্তা পরিষদে চীনের প্রতিনিধি ফু কং প্রস্তাবটির বিরোধিতা করে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি-সংক্রান্ত বিষয়ে পরিষদকে ‘দায়িত্বশীল ভূমিকা’ পালনের আহ্বান জানান। তিনি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের হামলাকে বর্তমান সংকটের ‘মূল কারণ’ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং বলেন, নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ বা তা জোরদার করলে উত্তেজনা আরও বাড়বে।
ফু কং আরও বলেন, ২০২৫ সালের ১৮ অক্টোবর জাতিসংঘের ২২৩১ নম্বর প্রস্তাবের মেয়াদ শেষ হওয়ার মধ্য দিয়ে নিরাপত্তা পরিষদে ইরানের পারমাণবিক ইস্যুর আনুষ্ঠানিক বিবেচনার সমাপ্তি ঘটেছে। তিনি নিরাপত্তা পরিষদকে কোনো দেশের একতরফা রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জনের মঞ্চে পরিণত না করার আহ্বান জানান এবং বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষায় সব পক্ষকে গঠনমূলক ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
রাশিয়ার প্রতিনিধি ভ্যাসিলি নেবেনজিয়া ১৭৩৭ কমিটিকে ‘অবৈধ’ বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, তথাকথিত ‘স্ন্যাপব্যাক’ ব্যবস্থা কার্যকর হয়নি এবং ইরানের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা পরিষদের আগের কোনো নিষেধাজ্ঞাও পুনর্বহাল করা হয়নি।
নেবেনজিয়া বলেন, ২২৩১ নম্বর প্রস্তাবের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় বিষয়টি আর নিরাপত্তা পরিষদের কার্যসূচির অংশ নয়। তাই এ নিয়ে বৈঠক আয়োজনেরও কোনো আইনি বা প্রক্রিয়াগত ভিত্তি নেই। তিনি স্ন্যাপব্যাক ব্যবস্থার দোহাই দিয়ে বিষয়টিকে বৈধতা দেওয়ার প্রচেষ্টাও প্রত্যাখ্যান করেন।
রুশ প্রতিনিধি জানান, ১৭৩৭ কমিটিকে বৈধ মনে না করায় রাশিয়া বিশেষজ্ঞ প্যানেলের মেয়াদ বাড়ানোর বিরোধিতা করেছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, স্ন্যাপব্যাক ব্যবস্থা কার্যকর হয়নি এবং ইরানের বিরুদ্ধে পূর্বের ১৭৩৭ ও ১৯২৯ নম্বর প্রস্তাবও পুনরায় চালু করা হয়নি।
ভোটের আগে খসড়া প্রস্তাবের উদ্যোক্তাদের সম্ভাব্য পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছিল বলেও উল্লেখ করেন নেবেনজিয়া। তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র বিশেষজ্ঞ প্যানেলের মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে অনড় থেকে রাজনৈতিক সংঘাতের পথ বেছে নিয়েছে। ইরানের পারমাণবিক ইস্যুতে পশ্চিমা দেশগুলোর পদক্ষেপকে তিনি ‘উত্তেজনা বৃদ্ধিকারী’ বলে আখ্যা দেন।
ভোটদানে বিরত থাকা পাকিস্তানের প্রতিনিধি ইরানের প্রতিশ্রুতি ও বাধ্যবাধকতা পর্যালোচনার ক্ষেত্রে কূটনৈতিক উদ্যোগ এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) ভূমিকার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
উল্লেখ্য, ২০০৬ সালে ইরানের বিরুদ্ধে গৃহীত ১৭৩৭ নম্বর প্রস্তাবের মাধ্যমে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ১৭৩৭ কমিটি গঠিত হয়। ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তি (জেসিপিওএ) কার্যকর হওয়ার আগে এই কমিটির দায়িত্ব ছিল ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা ও বিধিনিষেধ বাস্তবায়ন তদারকি করা।
সম্প্রতি তিনটি ইউরোপীয় দেশ স্ন্যাপব্যাক ব্যবস্থা পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়ার পর রাশিয়া ও চীন বারবার জানিয়ে আসছিল যে, জেসিপিওএ-তে ইরানের অঙ্গীকারের কথা বিবেচনায় তারা এ ব্যবস্থার পুনর্বহাল এবং ১৭৩৭ কমিটির কার্যক্রম পুনরুজ্জীবিত করার বিরোধিতা করবে। বৃহস্পতিবারের ভোটে ভেটো প্রয়োগের মাধ্যমে দুই দেশ সেই অবস্থানই পুনর্ব্যক্ত করেছে।

