শত বছর পর বলিভিয়ায় নতুন প্রজাতির বন্য বিড়ালের সন্ধান
Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:০১ এএম
বলিভিয়ায় এক শতাব্দী পর নতুন একটি প্রজাতির বিড়ালের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বলিভিয়ায় এক শতাব্দীরও বেশি সময় পর নতুন একটি প্রজাতির বিড়ালের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। ‘ট্লিকায়ো’ নামে পরিচিত এই ছোট আকৃতির বন্য বিড়ালটিকে গত ১০০ বছরের মধ্যে শনাক্ত হওয়া প্রথম নতুন বন্য বিড়াল প্রজাতি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
নতুন প্রজাতির এই প্রাণীটির শরীরে চিতাবাঘের মতো দাগযুক্ত লোম রয়েছে। এটি বলিভিয়ার রাজধানী লা পাজের কাছাকাছি পার্বত্য ইয়ুঙ্গাস অঞ্চলে পাওয়া গেছে।
গবেষণার সঙ্গে যুক্ত জীববিজ্ঞানী ও ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক এক্সপ্লোরার পাওলা নোগালেস-আসকারুনজ জানান, বলিভিয়ান আন্দিজ অঞ্চলের স্থানীয় অনেক মানুষ দীর্ঘদিন ধরে প্রাণীটিকে সাধারণ গৃহপালিত বিড়াল বলে ভুল করতেন।
নতুন প্রজাতিটির বৈজ্ঞানিক নাম রাখা হয়েছে ‘লিওপার্ডাস ট্লিকায়ো’। স্থানীয়দের দেওয়া ‘ট্লিকায়ো’ নাম থেকেই এ নামকরণ করা হয়েছে।
পাওলা নোগালেস-আসকারুনজ এই আবিষ্কারকে অত্যন্ত বিরল ও গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১০০ বছরে কোনো নতুন বন্য বিড়াল প্রজাতি শনাক্ত হয়নি। সর্বশেষ ১৯২৩ সালে উরুগুয়ের পাম্পাস ক্যাটকে নতুন প্রজাতি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল।
আকারে ট্লিকায়ো একটি গৃহপালিত বিড়ালের চেয়ে সামান্য ছোট। এর দৈর্ঘ্য প্রায় ৪৫ সেন্টিমিটার এবং কান গোলাকার। এ পর্যন্ত শনাক্ত হওয়া দুটি ট্লিকায়ো বিড়ালের সম্পূর্ণ জিনোম আধুনিক জেনেটিক প্রযুক্তির মাধ্যমে বিশ্লেষণ করা হয়েছে, যা তাদের আলাদা প্রজাতি হিসেবে চিহ্নিত করতে সহায়তা করেছে।
শনাক্ত হওয়া দুটি প্রাণীর মধ্যে একটি পুরুষ ট্লিকায়ো বর্তমানে ইয়ুঙ্গাস অঞ্চলের একটি প্রাণী আশ্রয়কেন্দ্রে রয়েছে। স্থানীয় একটি পরিবার প্রাণীটিকে কিছুদিন পালন করার পর কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করে। অন্যদিকে একটি স্ত্রী ট্লিকায়ো স্থানীয়দের হামলা থেকে উদ্ধার করা হয় এবং পরে সেটিকে আবার বনে ছেড়ে দেওয়া হয়।
নতুন এই প্রজাতি নিয়ে গবেষণার ফলাফল বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী ‘কারেন্ট বায়োলজি’-তে প্রকাশিত হয়েছে। ২০২১ সাল থেকে পরিচালিত গবেষণার ভিত্তিতেই এই আবিষ্কারের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
গবেষকদের মতে, এখন পর্যন্ত ট্লিকায়োর উপস্থিতি শুধু বলিভিয়াতেই পাওয়া গেছে। বিশ্বের অন্য কোনো অঞ্চলে এ প্রাণীর অস্তিত্বের প্রমাণ এখনও মেলেনি।
বর্তমানে প্রাণীটিকে বিরল এবং বিলুপ্তির ঝুঁকিতে থাকা প্রজাতি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে এর সংখ্যা অত্যন্ত সীমিত হওয়ায় ভবিষ্যতে এটিকে বিশ্বের অন্যতম বিরল বন্য প্রাণী হিসেবে আরও উচ্চ ঝুঁকির সংরক্ষণ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে।
সূত্র: সামা টিভি অনলাইন

