Logo
Logo
×
   

Advertisement

আন্তর্জাতিক

নেসলের সম্পদ জব্দ করল রাশিয়া, নেপথ্যে যে কারণ

Advertisement

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:০৭ পিএম

নেসলের সম্পদ জব্দ করল রাশিয়া, নেপথ্যে যে কারণ

ফাইল ছবি

Advertisement

রাশিয়ায় নেসলে ও ফ্রান্সের খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান অশাঁনের সম্পদ জব্দ করেছে ক্রেমলিন। দেশটিতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর অংশ হিসেবে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। 

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, অশাঁন ও নেসলে ‘বন্ধুত্বহীন দেশের ইউরোপীয় প্রতিষ্ঠান’। তাদের বিরুদ্ধে রাশিয়ার সঙ্গে সংঘাতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এর এক দিন আগে প্রেসিডেন্টের জারি করা এক ডিক্রিতে প্রতিষ্ঠান দুটির সম্পদ জব্দের ঘোষণা দেওয়া হয়।

ডিক্রি অনুযায়ী, নেসলে ও অশাঁনের রাশিয়ায় থাকা সম্পদ দেশটির স্থানীয় প্রতিষ্ঠান এলইভি ম্যানেজমেন্টের সাময়িক নিয়ন্ত্রণে দেওয়া হয়েছে।

কিটক্যাট চকলেট ও নেসক্যাফে কফির উৎপাদক নেসলে জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করছে। বিশ্বের অন্যতম বড় খাদ্য ও পানীয় উৎপাদক প্রতিষ্ঠানটির রাশিয়ায় এখনো ছয়টি স্থাপনা রয়েছে। সেখানে ৭ হাজারের বেশি মানুষ কাজ করেন।

২০২১ সালে রাশিয়ার বাজার থেকে নেসলের মোট বিক্রির প্রায় ২ শতাংশ এসেছিল। ওই বছর দেশটিতে প্রতিষ্ঠানটির বিক্রির পরিমাণ ছিল প্রায় ২০০ কোটি সুইস ফ্রাঁ, যা প্রায় ২৪০ কোটি মার্কিন ডলারের সমান।

এক বিবৃতিতে নেসলে বলেছে, নিজেদের অধিকার রক্ষা এবং ব্যবসার কার্যক্রম চালু রাখতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বিশেষ করে কর্মীদের স্বার্থ রক্ষার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এদিকে রাশিয়ায় সম্পদ জব্দের খবর প্রকাশের পর জুরিখের শেয়ারবাজারে নেসলের শেয়ারের দাম ২ শতাংশ কমেছে।

অশাঁন রাশিয়ায় খাবার, পোশাক, গৃহস্থালি পণ্য ও ইলেকট্রনিকস বিক্রি করে। প্রতিষ্ঠানটি এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধের জবাব দেয়নি। তাদের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়ায় অশাঁনের ২৩০টি দোকান রয়েছে। পাশাপাশি অনলাইনেও ব্যবসা পরিচালনা করে প্রতিষ্ঠানটি। দেশটিতে তাদের প্রায় ৩০ হাজার কর্মী রয়েছেন।

২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকেই বিদেশি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের ওপর নিয়ন্ত্রণ বাড়িয়েছে মস্কো। এর পরের বছর প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এমন একটি ডিক্রিতে সই করেন, যার মাধ্যমে ‘বন্ধুত্বহীন’ দেশের প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্পদ সাময়িকভাবে সরকারি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার ক্ষমতা পায় সরকার।

এর কিছুদিন পরই ফ্রান্সের দই উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান দানোন এবং ডেনমার্কের বিয়ার উৎপাদক কার্লসবার্গের রাশিয়ার ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে নেয় মস্কো।

ইউক্রেনে যুদ্ধ শুরুর পর রাশিয়ায় নিজেদের পণ্যের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেয় নেসলে। তবে দেশটিতে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি সমালোচনার মুখেও পড়ে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কিসহ বিভিন্ন পক্ষ নেসলের সমালোচনা করেছে।

নেসলে অবশ্য তাদের অবস্থানের পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেছে, রাশিয়ার সাধারণ মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্য সরবরাহ করতেই তারা সীমিত আকারে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, রাশিয়ায় তাদের উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা কার্যক্রম থেকে কোনো মুনাফা করা হচ্ছে না।

তবে রাশিয়ার বেসরকারি খাতে সরকারি নিয়ন্ত্রণ শুধু বিদেশি প্রতিষ্ঠানেই সীমাবদ্ধ নেই। দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপরও চাপ বাড়ছে। সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাওয়ার পর এমন বড় পরিসরে সম্পদ পুনর্বণ্টনের ঘটনা আর দেখা যায়নি।

বার্লিনভিত্তিক কার্নেগি রাশিয়া ইউরেশিয়া সেন্টারের জ্যেষ্ঠ গবেষক আলেক্সান্দ্রা প্রোকোপেঙ্কো শুক্রবার নিউইয়র্ক টাইমসে লেখেন, রাশিয়ার প্রসিকিউটর জেনারেল কার্যালয় ধারাবাহিকভাবে জাতীয়করণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। ১৯৯০-এর দশকে বেসরকারীকরণের সময় করা বিভিন্ন চুক্তিও নতুন করে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এসব চুক্তি দেশের অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করেছে—এমন অভিযোগে সম্পদ রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে চলতি সপ্তাহে রাশিয়ার পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ স্টেট ডুমার নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট পুতিনের ইউনাইটেড রাশিয়া পার্টি বড় ব্যবধানে জয় পাবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরুর পর এটি হবে দেশটির প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন।

সূত্র: সিএনএন

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম