পাকিস্তান হামলা চালালে ‘চূর্ণবিচূর্ণ জবাব’ দেওয়া হবে: আফগানিস্তান
Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:১৪ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
আফগানিস্তানের ভেতরে পাকিস্তান সামরিক অভিযান চালালে এর কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তালেবানের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ। একই সঙ্গে পাকিস্তানের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে তিনি বলেছেন, আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করে কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠীকে পাকিস্তানে হামলা চালানোর সুযোগ দেওয়া হয় না। খবর আল আরাবিয়ার।
এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে মুজাহিদ বলেন, পাকিস্তান আফগানিস্তানের ভূখণ্ডে হামলা চালালে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে কাবুলের।
তিনি বলেন, ‘পাকিস্তান যদি ৫১ নম্বর ধারা ব্যবহার করে আফগান ভূখণ্ডের পবিত্রতা লঙ্ঘন করে, তাহলে আফগানিস্তানের নিজের দেশকে রক্ষা করার অধিকার রয়েছে। আমরা তা করব।’ আফগান সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করা হলে পাকিস্তানকে ‘চূর্ণবিচূর্ণ জবাব’ দেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্রের দেওয়া বক্তব্যের জবাবেই মূলত এসব কথা বলেন মুজাহিদ। এর আগে এক সাক্ষাৎকারে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র অভিযোগ করেছিলেন, আফগান ভূখণ্ডে জঙ্গিদের নিয়োগ, প্রশিক্ষণ ও অস্ত্র সরবরাহ করা হচ্ছে। পরে এসব গোষ্ঠী পাকিস্তানে হামলা চালাচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
তবে পাকিস্তানের এসব অভিযোগ সরাসরি নাকচ করে মুজাহিদ বলেন, তালেবান আফগান ভূখণ্ডে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)কে কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি দেয় না। অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে হামলা চালানো সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকেও তালেবান সমর্থন করে না বলে দাবি করেন তিনি।
মুজাহিদ আরও বলেন, পাকিস্তানের উচিত নিজেদের নিরাপত্তা-সংক্রান্ত সমস্যাগুলো দেশের ভেতরেই মোকাবিলা করা। আফগানিস্তানের ওপর এসব সমস্যার দায় চাপানো ঠিক নয়। তার দাবি, টিটিপি ও বেলুচ গোষ্ঠীগুলোকে ঘিরে পাকিস্তানের অস্থিরতা তালেবান ক্ষমতায় ফেরারও আগের ঘটনা।
তবে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা থাকলেও পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনায় বসতে আফগানিস্তান আগ্রহী বলে জানান মুজাহিদ। তিনি গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান এবং পারস্পরিক সহযোগিতার জন্য আরও কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
এ ছাড়া কাবুল ও ইসলামাবাদের মধ্যকার বিরোধ মেটাতে সৌদি আরবের আরও সক্রিয় ভূমিকার বিষয়টিকেও স্বাগত জানান তালেবানের এই মুখপাত্র। তার ভাষ্য, সৌদি আরব দুই দেশেরই বন্ধু এবং মতপার্থক্য নিরসনে দেশটি ‘ইতিবাচক ভূমিকা’ রাখতে পারে।

