Logo
Logo
×
   

Advertisement

আন্তর্জাতিক

‘হাইব্রিড হামলার’ ভয়ে তটস্থ ইউরোপ, নেপথ্যে কী?

Advertisement

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৩৯ পিএম

‘হাইব্রিড হামলার’ ভয়ে তটস্থ ইউরোপ, নেপথ্যে কী?

ন্যাটোও সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলার প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। সংগৃহীত ছবি

Advertisement

রাশিয়ার সম্ভাব্য ‘হাইব্রিড হামলা’ নিয়ে ইউরোপজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পাশাপাশি নাশকতা, সাইবার হামলা এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করার মতো কর্মকাণ্ডের আশঙ্কায় বিভিন্ন ইউরোপীয় দেশ তাদের নিরাপত্তা ও বেসামরিক প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি জোরদার করছে।

পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক ১৭ সেপ্টেম্বর সতর্ক করে বলেন, গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী আগামী কয়েক মাসে ইউক্রেনকে সমর্থনকারী দেশগুলোর বিরুদ্ধে রাশিয়া ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাতে পারে। 

টাস্কের ভাষ্য, পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তের এক বা একাধিক ন্যাটো দেশের ভূখণ্ডে ড্রোন বা অন্য কোনো ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র প্রবেশ করে ধ্বংসযজ্ঞ ঘটানোর ‘বাস্তব ঝুঁকি’ রয়েছে। এ ধরনের ঘটনা ন্যাটোর সদস্যদের মধ্যে সম্মিলিত প্রতিক্রিয়ার ইচ্ছা দুর্বল করার উদ্দেশ্যে ঘটানো হতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন।

পোল্যান্ডের পর লিথুয়ানিয়াও একই ধরনের সতর্কতা দিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী কেস্তুতিস বুদরিস বলেন, পোল্যান্ডসহ অন্যান্য মিত্র দেশের মতো লিথুয়ানিয়ার কাছেও একই গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে। রাশিয়া কোনো ‘ফলস-ফ্ল্যাগ’ অভিযান চালাতে পারে—এমন সম্ভাবনা নিয়েও মিত্র দেশগুলো আলোচনা করেছে।

নেপথ্যে রাশিয়ার ‘হাইব্রিড যুদ্ধ’?

ইউরোপীয় দেশগুলোর উদ্বেগের কেন্দ্রে রয়েছে তথাকথিত ‘হাইব্রিড যুদ্ধ’। প্রচলিত যুদ্ধের পাশাপাশি সাইবার হামলা, নাশকতা, ড্রোন হামলা, তথ্যযুদ্ধ এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর চাপ সৃষ্টি—এসব কর্মকাণ্ডকে এর অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বলেন, ফ্রান্সসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশের বিরুদ্ধে রাশিয়ার হাইব্রিড হুমকি তীব্র হয়েছে। এরপর তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও প্রতিরক্ষা শিল্পের সংবেদনশীল স্থাপনাগুলোকে ড্রোন ও সাইবার হামলা থেকে সুরক্ষায় অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার স্টাবও সম্ভাব্য নাশকতা ও ড্রোন হামলার জন্য জনগণকে মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে একই সঙ্গে আতঙ্কিত না হয়ে শান্ত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

শুধু ন্যাটো নয়, প্রস্তুতি নিচ্ছে পুরো ইউরোপ

সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় ইউরোপের বিভিন্ন দেশ বেসামরিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও শক্তিশালী করছে। জার্মানি যুদ্ধ বা ব্যাপক হতাহতের পরিস্থিতিতে হাসপাতালগুলো কীভাবে কাজ করবে, তা পর্যালোচনা করছে। লিথুয়ানিয়া তৈরি করেছে সামরিক জরুরি অবস্থা বা বড় সংকটে জনগণকে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা।

ন্যাটো সদস্য না হয়েও সুইজারল্যান্ড শুক্রবার নতুন নিরাপত্তা কৌশল গ্রহণ করেছে। এতে ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধ, হাইব্রিড হুমকি এবং গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহ ও অবকাঠামোর ওপর নির্ভরশীলতাকে দেশের নিরাপত্তার বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

সুইস সরকারের পরিকল্পনায় বেসামরিক নাগরিক ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর সুরক্ষা বাড়ানো এবং ড্রোন বা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মতো অস্ত্রের সম্ভাব্য দূরপাল্লার হামলা মোকাবিলার সক্ষমতা বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে।

ন্যাটোর আশঙ্কা কতটা?

ন্যাটো এখনো বলেনি যে রাশিয়ার কোনো সদস্য দেশে সামরিক হামলা আসন্ন। তবে জোটটির মহাসচিব মার্ক রুটে বলেছেন, রাশিয়া ক্রমেই বেশি বেপরোয়া হয়ে উঠছে। মিত্র দেশগুলোর আকাশসীমায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রবেশ এবং ইউরোপীয় অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের কথাও উল্লেখ করেছেন তিনি।

এই পরিস্থিতিতে ইউরোপের দেশগুলো মূলত দুটি বিষয়কে গুরুত্ব দিচ্ছে—রাশিয়াকে সম্ভাব্য হামলা বা উসকানি থেকে বিরত রাখতে প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ানো এবং হামলা হলেও বিদ্যুৎ, পানি, যোগাযোগ, খাদ্য ও স্বাস্থ্যসেবার মতো জরুরি পরিষেবা সচল রাখা।

অর্থাৎ, ইউরোপে এখনই রাশিয়ার সরাসরি বড় ধরনের হামলা আসন্ন—এমন ঘোষণা নেই। তবে ইউক্রেন যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রচলিত যুদ্ধের বাইরে ড্রোন, সাইবার হামলা, নাশকতা ও অন্যান্য ‘হাইব্রিড’ কর্মকাণ্ডের ঝুঁকি নিয়ে ইউরোপীয় দেশগুলোর উদ্বেগ স্পষ্টভাবেই বেড়েছে। যা নিয়ে তটস্ত পুরো ইউরোপ।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম