Logo
Logo
×
   

Advertisement

আন্তর্জাতিক

পাকিস্তানে ফুটপাতে ভারতের পতাকা, এরপর যা ঘটল...

Advertisement

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:২৩ পিএম

পাকিস্তানে ফুটপাতে ভারতের পতাকা, এরপর যা ঘটল...

Advertisement

চলতি পথে হঠাৎ যদি পায়ের ঠিক সামনে ভারতের জাতীয় পতাকা পড়ে থাকতে দেখেন, তবে আপনি কী করবেন?

পাকিস্তানে পরিচালিত একটি ‘সোশ্যাল এক্সপেরিমেন্ট’ বা সামাজিক পরীক্ষার নেপথ্যে মূল প্রশ্নটি ছিল ঠিক এটিই।

ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, পাকিস্তানির হাঁটাচলার সাধারণ রাস্তার ওপর ভারতের একটি পতাকা বিছিয়ে রাখা হয়েছে। ভিডিও তৈরিকারীরা আড়ালে দাঁড়িয়ে পর্যবেক্ষণ করছিলেন—আসলেই কেউ জাতীয় পতাকাটির ওপর পা দিয়ে হেঁটে যান কি না।

তবে এর যে প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেল, তা ছিল বেশ স্পষ্ট ও চোখে পড়ার মতো।

ভিডিওতে দেখা যায়, পথচারীরা পতাকার ওপর দিয়ে হেঁটে যাওয়ার বদলে সচেতনভাবেই তা এড়িয়ে চলছেন। কেউ পাশ কেটে হেঁটে যাচ্ছেন, আবার কেউ খেয়াল রাখছেন যেন কোনোভাবেই তাদের জুতো বা পা ওই পতাকাকে স্পর্শ না করে।

প্রাথমিক এই দৃশ্যের পর ভিডিও পরিচালকেরা পথচারীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং জানতে চান—কেন তারা পতাকায় পা দেওয়া থেকে বিরত থাকলেন?

উত্তরে প্রায় সবার মূল সুরটাই ছিল এক—শ্রদ্ধাবোধ, মানবিকতা এবং এই দৃষ্টিভঙ্গি যে দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক মতপার্থক্য কিংবা বিরোধ থাকলেও সাধারণ মানুষ বা অন্য কোনো দেশের জাতীয় প্রতীককে অবমাননা করা ঠিক নয়।

কথা বলা ব্যক্তিদের মূল বক্তব্য ছিল, একটি দেশের সঙ্গে আপনার আদর্শগত বা রাজনৈতিক মতবিরোধ থাকতেই পারে, কিন্তু তার মানে এই নয় যে সেই দেশের সাধারণ মানুষ কিংবা তাঁদের জাতীয় পতাকাকে অসম্মান করতে হবে।

অবশ্যই...

সেখানে সাধারণ ‘আমাদের একে অপরকে শ্রদ্ধা করা উচিত’—টাইপের কথা বার্তাও ছিল প্রচুর।

তবে এই পুরো বিষয়টাই ভিডিওটিকে বেশ আকর্ষণীয় করে তুলেছে।

কারণ, যাদের ওপর এই পরীক্ষা চালানো হয়েছিল, তাদের কাছে ক্রিকেট, কাশ্মীর সংকট, রাজনীতি কিংবা সামরিক উত্তেজনা নিয়ে কোনো জটিল প্রশ্ন করা হয়নি।

তাদের সামনে কেবল একটি সহজ পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছিল—প্রতিবেশী দেশের প্রতিনিধিত্বকারী একটা কাপড়ের টুকরোর ওপর পা ফেলা।

আর দেখা গেল, অধিকাংশ মানুষই তা করতে একেবারেই নারাজ।

অনলাইনে প্রকাশিত হওয়ার পর ভিডিওটি নিয়ে বেশ সামাজিক আলোচনা তৈরি হয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন—এই প্রতিক্রিয়া কি দুই দেশের বৈরী সম্পর্কেরই রূপক, নাকি বছরের পর বছর ধরে চলা উত্তেজনার পরও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের এক অনন্য নজির?

অবশ্য অল্প কিছু মানুষকে নিয়ে করা এই ধরনের সামাজিক পরীক্ষা দিয়ে একটি গোটা দেশের সব মানুষের চিন্তাভাবনাকে বিচার করা সম্ভব নয়।

তবে ভিডিওটি একটি সহজ সত্যকেই খুব চমৎকারভাবে সামনে নিয়ে এসেছে।

তা হলো...

কারো সব কথার সঙ্গে আপনি একমত না-ও হতে পারেন, তাও তাকে শ্রদ্ধা জানানোর সুযোগ থেকে যায়।

আর এই মানুষদের কাছে সেই শ্রদ্ধাবোধের অর্থ ছিল অন্তত অন্য দেশের জাতীয় পতাকায় নিজের জুতো না ছোঁয়ানো!

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম