শ্রীলংকায় বিশাল গণকবরের সন্ধান, ৫৭২ কঙ্কাল উদ্ধার
Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৫০ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
শ্রীলংকার উত্তরাঞ্চলের চেম্মানি এলাকার একটি গণকবর থেকে শিশু ও নবজাতকসহ মোট ৫৭২ জনের দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছে। কয়েক দশক ধরে চলা দেশটির রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধের সময় যারা গুম বা নিখোঁজ হয়েছিলেন, এই ভয়াবহ আবিষ্কারের ফলে তাদের পরিণতি নিয়ে আবারও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
জাফনার চেম্মানি এলাকায় একটি শ্মশানঘাট বড় করার জন্য মাটি খোঁড়ার সময় গত বছর প্রথম এই কঙ্কালগুলোর সন্ধান মেলে। এরপর আদালতের নির্দেশে সেখানে শুরু হয় প্রত্নতাত্ত্বিক ও ফরেনসিক তদন্ত।
সম্প্রতি আগস্ট মাসে খননকাজের তৃতীয় পর্যায় শেষ হয়েছে। সেখান থেকেই উদ্ধার করা হয় ৫৭২ জনের কঙ্কাল। কঙ্কালের পাশপাশি চুড়ি, স্কুলের ব্যাগ এবং শিশুদের দুধের বোতলের মতো কিছু ব্যক্তিগত জিনিসপত্রও পাওয়া গেছে। এগুলো দেখে বোঝা যায়, এই কবরে বহু নারী ও ছোট শিশুও সমাহিত ছিল। সবমিলিয়ে এটিই এখন শ্রীলংকায় আবিষ্কৃত সবচেয়ে বড় গণকবর।
শ্রীলংকার সরকারি বাহিনী এবং তামিল টাইগারদের (এলটিটিই) মধ্যে ১৯৮৩ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত চলা দীর্ঘ গৃহযুদ্ধে প্রায় এক লাখ মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিল। এর মধ্যে আজও প্রায় ২৩ হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই তামিল সম্প্রদায়ের।
১৯৯৫ সালে এলাকাটি সরকারি নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার পর থেকেই সেখানে বেআইনি হত্যাকাণ্ড ও গুমের অভিযোগ করে আসছে নিখোঁজদের পরিবারগুলো। যদিও অতীতের সরকারগুলো এসব অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে এসেছে।
শ্রীলংকার মানবাধিকার কমিশন জানিয়েছে, যেভাবে লাশগুলো দাফন করা হয়েছে তা সনাতন হিন্দু ধর্মের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া প্রথার সঙ্গে মেলে না, যা এই হত্যাকাণ্ডগুলোকে আরও রহস্যজনক করে তুলেছে।
বর্তমানে দেশটির প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমার দিশানায়েকে-এর সরকার এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তে সব ধরনের সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ টেস্ট ও ফরেনসিক পরীক্ষা করা হবে। উদ্ধার করা কঙ্কালগুলো আদালতের তত্ত্বাবধানে জাফনা বিশ্ববিদ্যালয়ে সংরক্ষিত আছে এবং আরও ভালো পরীক্ষার জন্য কিছু নমুনা বিদেশে পাঠানো হবে।
নিখোঁজ স্বজন ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই তদন্তকে স্বাগত জানালেও, অতীতে বিচার না পাওয়ার ক্ষোভ প্রকাশ করে তারা একটি স্বাধীন ও আন্তর্জাতিক মানের স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

