Logo
Logo
×
   

Advertisement

আন্তর্জাতিক

বাহরাইনে বন্দি হয়ে পড়া মার্কিন সেনাদের পরিবার শোনালেন লোমহর্ষক গল্প

Advertisement

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:১০ এএম

বাহরাইনে বন্দি হয়ে পড়া মার্কিন সেনাদের পরিবার শোনালেন লোমহর্ষক গল্প

প্রায় দুই সপ্তাহ আটকে পড়েছিলেন মার্কিন সেনাদের অনেকের পরিবার। সংগৃহীত ছবি

Advertisement

এ বছরের ফেব্রুয়ারির শেষদিকে ইরানে যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল হামলা চালায়, তখন তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেখায় ইরান। যুদ্ধ শুরুর প্রথম দিনেই বাহরাইনে থাকা মার্কিন নৌবাহিনীর মধ্যপ্রাচ্য সদর দপ্তর লক্ষ্য করে হামলা চালায় ইরান। হামলার সময়ও সেখানে বেশ কিছু মার্কিন সামরিক পরিবার অবস্থান করছিল।

নিরাপদ স্থানে পৌঁছাতে অনেক পরিবারকে প্রায় এক সপ্তাহ বা তারও বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে বলে সিবিএস নিউজকে জানিয়েছেন একাধিক পরিবারের সদস্য। তারা গণমাধ্যমটিকে শুনিয়েছেন লোমহর্ষক সেই দিনের গল্প।

এক সামরিক পরিবারের সদস্য বলেন, নিশ্চয়ই ভয় লাগে। সপ্তাহ যত গড়িয়েছে, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার শব্দে ঘুম থেকে উঠতে হয়েছে। আবার সেই ক্ষেপণাস্ত্রের শব্দ শুনেই ঘুমাতে গিয়েছি।

যুদ্ধ শুরুর পর টানা কয়েকদিন বাহরাইনে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় ইরান। ওই সময় দেশটিতে অবস্থান করা তিনজনের সঙ্গে কথা বলে সিবিএস নিউজ।

গণমাধ্যমটিকে তারা জানিয়েছে, হামলার ব্যাপকতা ও স্থায়িত্ব মার্কিন সরকারকে অনেকটাই অপ্রস্তুত করে দিয়েছিল।

এর অন্যতম কারণ ছিল, যুদ্ধ শুরুর আগে বাহরাইনে থাকা মার্কিন সামরিক পরিবারগুলোর জন্য বাধ্যতামূলকভাবে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়নি।

তবে মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের সম্ভাব্য পাল্টা হামলার আশঙ্কা করেছিল। হামলার আগেই বাহরাইনে নৌবাহিনীর সদর দপ্তরের ভবনগুলো খালি করে দেওয়া হয়েছিল। এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, আমরা এমন মাত্রার হামলা আশা করিনি।

তবে ঘাঁটির বাইরে আশপাশের এলাকায় তখনও বেশ কয়েকটি মার্কিন সামরিক পরিবার বসবাস করছিল। ফলে ইরানের ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মধ্যে তাদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া নিয়ে তৈরি হয় বাড়তি ঝুঁকি।

ক্ষতি লুকাচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন

মার্কিন সামরিক বাহিনী এখন পর্যন্ত যুদ্ধের ব্যয়ের হিসাবের মধ্যে সামরিক ঘাঁটিগুলোর ক্ষয়ক্ষতি অন্তর্ভুক্ত করেনি। কর্মকর্তারা বলছেন, কোন কোন স্থাপনা পুনর্নির্মাণ করা হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তবে সম্প্রতি দ্য এপক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভারপ্রাপ্ত নৌবাহিনী সচিব হাং কাও বলেছেন, ইরানের পাল্টা হামলায় বাহরাইনকে পুরোপুরি লণ্ডভণ্ড করে দেওয়া হয়েছে।

নব্বইয়ের দশকে নেভাল সাপোর্ট অ্যাক্টিভিটি বাহরাইন আনুষ্ঠানিকভাবে মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর হওয়ার পর থেকে এটি মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ লজিস্টিকস বা রসদ সরবরাহের কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে আসছে। ইরাক ও আফগানিস্তানের যুদ্ধের সময়ও ঘাঁটিটি ব্যবহৃত হয়েছে।

মার্কিন নৌবাহিনীর ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, এই স্থাপনায় প্রায় ৮ হাজার ৩০০ সামরিক সদস্য, প্রতিরক্ষা বিভাগের বেসামরিক কর্মী এবং তাদের পরিবারের সদস্য রয়েছেন।

ঘাঁটিটির ক্ষয়ক্ষতির প্রভাব সমুদ্রে থাকা মার্কিন নৌসদস্যদের ওপরও পড়েছে। চলতি বছরের শুরুর দিকে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন বিমানবাহী রণতরিতে খাদ্যসংকট দেখা দেয়। তখন বাহরাইন এড়িয়ে নতুন রসদ সরবরাহের পথ তৈরি করতে বাধ্য হয় মার্কিন নৌবাহিনী।

দ্য নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, কিছু সরবরাহ ভারত মহাসাগরের দিয়েগো গার্সিয়া দ্বীপের মাধ্যমে পাঠাতে হয়েছে। দ্বীপটি বাহরাইন থেকে প্রায় ২ হাজার ২০০ মাইল দূরে।

পেন্টাগনের ইন্সপেক্টর জেনারেলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই দীর্ঘ পথ ব্যবহার করে জাহাজে রসদ পৌঁছাতে ১৪ থেকে ১৮ দিন সময় লাগে। বিপরীতে, বাহরাইন থেকে সরবরাহ পাঠাতে সময় লাগত মাত্র ৫ থেকে ৭ দিন।

মধ্যপ্রাচ্যে আরও কিছু লজিস্টিকস কেন্দ্র থাকলেও যুদ্ধ শুরুর আগে বাহরাইন ছিল মার্কিন নৌবাহিনীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহকেন্দ্র। মার্কিন নৌবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা চিফ অব নেভাল অপারেশন্স অ্যাডমিরাল ড্যারিল কডলও গত মাসে এক টাউন হলে স্বীকার করেন, মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলোতে কীভাবে রসদ সরবরাহ করা হবে, সেই ব্যবস্থায় নৌবাহিনীকে পরিবর্তন আনতে হয়েছে। মোদ্দাকথা ইরানের প্রথম দিনের হামলায় ভয়াবহ ক্ষতির মুখে পড়ে মার্কিন বাহিনী।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম