গলফ,টুইট,বই আর নাতি-নাতনি—কেমন কাটে ট্রাম্পের অবসর?
Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৪০ পিএম
তিনটি মহাদেশে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মালিকানাধীন ১৮টি গলফ কোর্স রয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তন বিশ্বের ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত ঘটনা। দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর ট্রাম্পের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে যেমন আলোচনা রয়েছে, তেমনি রাজনীতির বাইরের তার ব্যক্তিগত পছন্দ ও অভ্যাস নিয়েও মানুষের আগ্রহ কম নয়।
ইন্টারনেটে নানা মিমের উৎস হয়ে ওঠার বাইরেও অবসর সময়ে বেশ কিছু নির্দিষ্ট কাজে ব্যস্ত থাকতে দেখা যায় তাকে। গলফ খেলা থেকে শুরু করে নাতি-নাতনিদের সঙ্গে সময় কাটানো, বই পড়া, ফাস্টফুড খাওয়া কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় থাকা—সব মিলিয়ে তার জীবনযাপনের ধরনও বেশ বৈচিত্র্যময়।
গলফে ট্রাম্পের আসক্তি
গত কয়েক বছরে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও গলফ কোর্স যেন অনেকটাই অবিচ্ছেদ্য হয়ে উঠেছে। ২০২৪ এর নির্বাচনের আগে প্রচারণী ব্যস্ততার মধ্যেও তাকে প্রায়ই গলফ কোর্সে দেখা গেছে। হাতে গলফ ক্লাব নিয়ে পেশাদারের মতো খেলতে দেখা যায় তাকে।
নির্বাচনের আগে গলফের প্রতি ট্রাম্পের আগ্রহ তার সহযোগীদের জন্য কিছুটা মাথাব্যথার কারণ হয়ে উঠেছিল বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে আসে। তবে ট্রাম্প নিজে অবশ্য দাবি করেছেন, তিনি শুধু গলফপ্রেমীই নন, বিভিন্ন ক্লাব চ্যাম্পিয়নশিপও জিতেছেন।

ট্রাম্প গলফের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, তিনটি মহাদেশে তার মালিকানাধীন ১৮টি গলফ কোর্স রয়েছে।
‘দাদু’ ট্রাম্প
রাজনীতির বাইরে নাতি-নাতনিদের সঙ্গে সময় কাটাতেও পছন্দ করেন ট্রাম্প। ঘনিষ্ঠজনদের বরাত দিয়ে জানা যায়, দাদু হিসেবে তিনি বেশ দূর্দান্ত এবং নাতি-নাতনিদের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।
ট্রাম্পের মোট ১০ জন নাতি-নাতনি। তার ছেলে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র ও সাবেক স্ত্রী ভেনেসার পাঁচ সন্তান রয়েছে। মেয়ে ইভাঙ্কা ট্রাম্প ও তার স্বামী জ্যারেড কুশনারের তিন সন্তান এবং ছেলে এরিক ট্রাম্প ও তার স্ত্রী লারার দুই সন্তান রয়েছে।
ট্রাম্প জুনিয়র ও ভেনেসার মেয়ে কাই ম্যাডিসন ট্রাম্পের বয়স ১৯ বছর। ২০২৪ সালের শুরুর দিকে তিনি তার দাদু ট্রাম্পের সমর্থনে বক্তব্যও দেন।

কাই বলেছিল, ‘আমার কাছে তিনি একজন সাধারণ দাদুই। বাবা-মা যখন তাকান না, তখন তিনি আমাদের ক্যান্ডি ও কোমল পানীয় দেন। স্কুলে আমরা কেমন করছি, তিনি সব সময় তা জানতে চান। আমি যখন অনার রোলে জায়গা পাই, তখন তিনি সেটি প্রিন্ট করে বন্ধুদের দেখিয়েছেন এবং আমার জন্য কতটা গর্বিত, তা জানিয়েছেন।’
বই পড়েন ট্রাম্প?
যদিও নিজেকে বইপোকা হিসেবে দাবি করেন না ট্রাম্প, তবে বই পড়ার গুরুত্ব সম্পর্কে বিভিন্ন সময়ে কথা বলেছেন তিনি। বিশেষ করে বাইবেলের গুরুত্ব তার জীবনে রয়েছে বলে জানিয়েছেন। বাইবেল পড়া তাকে অনুপ্রেরণা ও বিশ্বাস জুগিয়েছে বলেও ট্রাম্প উল্লেখ করেছেন।
এ ছাড়া তিনি সান জুর ‘দ্য আর্ট অব ওয়ার’ বইটিরও সুপারিশ করেছেন। সামরিক কৌশল, সংঘাত ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ নিয়ে লেখা এই বইটি ট্রাম্পের পছন্দের তালিকায় রয়েছে।

তার সুপারিশ করা অন্য বইগুলোর মধ্যে রয়েছে নিকোলো ম্যাকিয়াভেলির ‘দ্য প্রিন্স’, যা ক্ষমতার সম্পর্ক ও রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে লেখা; রেবেকা ডি কস্তার ‘দ্য ওয়াচম্যানস র্যাটল’ এবং জিওফ কলভিনের ‘ট্যালেন্ট ইজ ওভাররেটেড’।
ফাস্টফুডেই ‘স্বস্তি’
খাবারের ক্ষেত্রেও ট্রাম্পের পছন্দ বেশ নির্দিষ্ট। মার্কিন ফাস্টফুডের ক্ষেত্রে তার পছন্দের তালিকায় রয়েছে ম্যাকডোনাল্ডস, কেএফসি, পিজ্জা ও ডায়েট কোক।
এমনকি বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিষ প্রয়োগের আশঙ্কায় ট্রাম্প অনেক সময় চেইন রেস্তোরাঁর বাইরে খেতেও এড়িয়ে চলেন। খাবারের উৎস ও পরিচ্ছন্নতা নিয়েও তার বেশ সতর্কতা রয়েছে।

ট্রাম্প একবার বলেছিলেন, ‘একটি খারাপ হ্যামবার্গারই ম্যাকডোনাল্ডসকে ধ্বংস করে দিতে পারে। একটি খারাপ হ্যামবার্গারই ওয়েন্ডিসহ অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যবসার বাইরে পাঠাতে পারে। আমি পরিচ্ছন্নতা পছন্দ করি।’
তবে ফাস্টফুড যতই পছন্দ করুন না কেন, পিজ্জার কিনারা একেবারেই পছন্দ নয় ট্রাম্পের। পিজার স্লাইসের মাঝের অংশ খাওয়ার জন্য তিনি পরিচিত। কিনারার অংশ প্রায়ই রেখে দেন।
টুইট থেকে এক্স
ট্রাম্পের নামের সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারের সম্পর্কও বেশ আলোচিত। তার প্রথম প্রেসিডেন্ট মেয়াদে ২০১৭ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত তিনি টুইটারে ২৫ হাজারের বেশি পোস্ট করেছিলেন।
২০১৯ সালের প্রথমার্ধে তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রার্থী থাকার সময়কার মতো ঘন ঘন টুইট করা শুরু করেন। ওই বছরের দ্বিতীয়ার্ধ ও ২০২০ সালের প্রথমার্ধে তার টুইট করার হার আরও বেড়ে যায়।
২০১৫ সালে ট্রাম্প যখন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণা শুরু করেন, তখন টুইটারে তার অনুসারী ছিল ২৯ লাখ ৮০ হাজারের মতো। এরপর দ্রুত বাড়তে থাকে সেই সংখ্যা।

২০২১ সালের জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটলে হামলার পর টুইটার তার @realDonaldTrump অ্যাকাউন্ট স্থগিত করার সময় সেখানে অনুসারীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছিল ৮ কোটি ৮৭ লাখ।
টুইটার এখন এক্স নামে পরিচিত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্পের সক্রিয়তা তার রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম আলোচিত বৈশিষ্ট্য হয়ে থাকলেও, গলফ, বই, খাবার আর পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর অভ্যাসও তার ব্যক্তিজীবনের আলাদা এক ছবি তুলে ধরে।
তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া
আরও পড়ুন: বার্গার-ফ্রাইড চিকেন আর দিনে ১২ ক্যান ডায়েট কোক— ট্রাম্পের খাদ্যতালিকায় আর কী থাকে
