হংকংয়ে ভুল করে পাঠানো হয়েছিল এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের যন্ত্রাংশ
Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৩৫ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
মার্কিন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের দুটি গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ চীনা কর্তৃপক্ষের হাতে পৌঁছেছে বলে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। অস্ট্রেলিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানোর সময় যন্ত্রাংশগুলো ব্যাখ্যাতীতভাবে হংকংয়ে চলে যায় বলে জানিয়েছে ব্লুমবার্গ।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মে মাসের শেষ
দিকে পরিবহণ প্রতিষ্ঠান ইউপিএসের মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো
হচ্ছিল এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের ককপিটের ক্যানোপি ও অস্ত্র রাখার অংশের একটি দরজা। পথে
চালানটি হংকংয়ে পাঠানো হয়। কেন এমনটি ঘটেছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
ওই দুটি যন্ত্রাংশে রাডার শোষণকারী
বিশেষ উপাদানের আবরণ ছিল। এ ধরনের উপাদান এফ-৩৫ বিমানের স্টেলথ বা রাডারে শনাক্ত
হওয়ার ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে ব্লুমবার্গ।
অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী রিচার্ড
মার্লেস মঙ্গলবার সাংবাদিকদের বলেন, সরকার চালানটির বিষয়ে অবগত। বিষয়টি তদন্তে
যুক্তরাষ্ট্র ও এফ-৩৫ নির্মাতা লকহিড মার্টিনের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়া কাজ করছে। তবে
মার্লেসের ভাষ্য অনুযায়ী, হারিয়ে যাওয়া চালানে কোনো সংবেদনশীল যন্ত্রাংশ ছিল না
বলে তিনি জানেন।
এফ-৩৫ হলো লকহিড মার্টিনের তৈরি পঞ্চম
প্রজন্মের স্টেলথ যুদ্ধবিমান। যুক্তরাষ্ট্র সাধারণত ঘনিষ্ঠ মিত্র ও অংশীদার
দেশগুলোর কাছেই এই বিমান বিক্রি করে। রাশিয়ার তৈরি এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা
ব্যবস্থা কেনার পর ২০১৯ সালে তুরস্ককে এফ-৩৫ কর্মসূচি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। তখন
আশঙ্কা করা হয়েছিল, এস-৪০০ ব্যবস্থার মাধ্যমে এফ-৩৫ এর সক্ষমতা সম্পর্কে তথ্য
সংগ্রহ করা হতে পারে।
এফ-৩৫–সম্পর্কিত মার্কিন সামরিক তথ্য
সংগ্রহের চেষ্টা নিয়ে চীনের বিরুদ্ধে আগেও গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ উঠেছে। ২০২৪ সালে
মার্কিন কৌঁসুলিরা এ ধরনের কয়েকটি মামলার কথা উল্লেখ করেছিলেন।
এদিকে গত সপ্তাহে সৌদি আরবের কাছে ২৪
বিলিয়ন ডলারের এফ-৩৫ বিক্রির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তবে মার্কিন কংগ্রেসের কয়েকজন
সদস্য আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, এই প্রযুক্তি চীনের হাতে চলে যেতে পারে। ইলিনয়ের
ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য রাজা কৃষ্ণমূর্তি বলেছেন, মার্কিন গোয়েন্দা সম্প্রদায়
সতর্ক করেছে যে এ ধরনের বিক্রির ফলে মার্কিন সামরিক প্রযুক্তির অত্যন্ত
গুরুত্বপূর্ণ অংশ চীনের নাগালের মধ্যে চলে যেতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ার পাশাপাশি
বেলজিয়ামও এফ-৩৫ ব্যবহার করে। জাপান, কানাডা ও সিঙ্গাপুরসহ আরও কয়েকটি দেশ এ
যুদ্ধবিমান কিনেছে বা অর্ডার করেছে।
সাম্প্রতিক ইরান সংঘাতেও যুক্তরাষ্ট্র এফ-৩৫ ব্যবহার করেছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ সময় একটি এফ-৩৫ শত্রুপক্ষের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।
